নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি: – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল রবিবার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। এদের মধ্যে আব্দুল্লাহ শুভ ও অন্তরসহ তিন জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়। তবে কোটা আন্দোলনকারীদের অভিযোগ এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। এদিকে তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র জোট। মানববন্ধনে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলেছে। এতে ছাত্রলীগের কি ক্ষতি বা লাভ হবে তা আমরা জানি না। এসময় তারা এ ধরণের হামলা প্রতিহত করার জন্য এবং যাদের ওপর হামলা করেছে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান করে। এর আগে সকাল সাড়ে ৯ টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের জন্য অবস্থান নিলে ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা তদের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের ব্যানার কেড়ে নেয়। সকালের হামলার প্রতিবাদে বেলা সোয়া ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মিডিয়ার কাছে এ হামলার কথা জানালে অতর্কিত তাদের ওপর আবারও লাঠি, বাঁশ নিয়ে হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় আন্দোলকারীরা বিচ্ছিন্নভাবে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় ছাত্রীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বর, পরিবহন মার্কেটের আমবাগান, চতুর্থ বিজ্ঞান ভবন, শহীদুল্লাহ্ কলা ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের কয়েক দফা মারধর করে। এতে ক্যাম্পাস জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জানতে চাইলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের রাবি শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক মোর্শেদুল আলম বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে আমরা গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামরা করা হয়। হামলায় কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন,কয়েকজন ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছিলো। তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসকে স্থিতিশীল রাখতে আন্দোলনকারী এবং ছাত্রলীগ উভয়ের সাথে আলোচনা করেছি। নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।









