রাজশাহীর বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া, মাংস শসা ও লেবুর দাম বেড়েছে। মাছের দাম সামান্য কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও অন্যান সবজি দাম রয়েছে প্রায় আগের মতই।
ক্রেতারা বলছেন বাজারে সকল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। রমজান মাসকে সামনে রেখেই আগাম মৃল্য বৃদ্ধি সাধারন ক্রেতাদের হতাশ করেছে। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) এমনি চিত্র দেখা গেছে রাজশাহী মহানগরীর কাঁচা বাজার ঘুরে ।
নগরীর সাহেব বাজারের এক মুদি ব্যবসায়ী মোহনী বাবু জানান, বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ না থাকায় বাজারে তেল সংকট রয়েছে। তারা অনলাইন প্লার্টফরম ভিত্তিক বাজার হতে কিছু তেল ক্রয় করে বাজারে বিক্রয় করছেন।
অপর এক ব্যবসায়ী রাব্বি জানান, আগের দামে তেল ক্রয় করে থাকায় সেই দামেই বিক্রি করছেন। সরকার নতুন ভাবে দাম নির্ধারণ করে দেয়ার পর থেকে তীর, বসুন্ধরা, রুপচাঁদা, পুষ্টিসহ বিভিন্ন কোম্পানী তেল না থাকায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে তেল সরবরাহ পেলে সরকার নির্ধারিত দামেই তেল বিক্রয় করতে পারবো। তবে খোলা সয়াবিন তেল পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে সেই তেল ১৫০-১৫৫ টাকা লিটার বিক্রয় করছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মুদি ব্যবসায়ী জানান, আমরা চাহিদা মতো তেল কোম্পানীর ডিলারদের নিকট হতে পাচ্ছি না। তারা আমাদের অর্ডার মোতাবেক তেল দেয় না তাই বিক্রিও করতে পারছি না। তবে তেলের ডিলারদের গোডাউন গুলোতে তল্লাসী চালানো হলে আসল চিত্র বেরিয়ে আসবে। অপর দিকে রমজানে শসা, লেবুর চাহিদা থাকায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে শসা কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, লেবু ১৮-২০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩৬-৪০ টাকা হালি বিক্রি করা হচ্ছে।
খাসি ও গরুর সরবরাহ কম থাকায় খাসির দাম ৮৫০ টাকা হতে একলাফে ৯০০ টাকা কেজি আর গরুর মাংস ৬০০ টাকা বিক্রি হলেও শুক্রবার (২৫ মার্চ) ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে সোনালী মুরগি ২৬০ টাকা বিক্রি করলেও তা কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২৭০ টাকা, বয়লার মুরগি ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মসুর ডাল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ছোলা (বুট) ৮০ টাকা কেজি।
বেগুন ৪০ টাকা কেজি, আলু ২০ টাকা, করলা ৬০, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, পটল ১০ টাকা কমে ৭০ টাকা, পেঁয়াজ ৩০ টাকা, পাতাকপি রকম ভেদে ২০-২৫ টাকা পিস , ফুঁলকপি ৩৫-৪০ টাকা কেজি , টমেটো ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অপর দিকে মাছের দেড় কেজির ইলিশ বিক্র হচ্ছে ১৬০০ টাকায়, ১ কেজির উপর ১২০০ টাকা কেজি। বোয়াল মাছ ৭০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০-৪৫০ টাকা এছাড়া অন্যান মাছ প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে।
বাজার করতে আসা স্বর্ণ দোকানী নান্টু সরকার বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে। তবে সরকারের কঠোর নজরদারী থাকলে গোডাউনের পাইকারী ব্যবসায়ীরা জনগণকে জিম্মি করতে পারবে।
এদিকে পবিত্র রজমান মাস প্রথম রোজা হবে ৩ এপ্রিল। এরই মধ্যে যদি দ্রব্যমূল্যের দাম বেশী হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে সাধারণ ক্রেতারা পড়বেন চরম বিপাবে। আর এ জন্যই বাজার মনিটরিং- এর দাবি জানান সাধারন ক্রেতারা।








