সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের কুড়িপাড়ায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সোহাগ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রবিউল হাসানের বিরুদ্ধে। উপকারভোগীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে চাল না দেওয়া, কার্ড যাচাই ছাড়াই চাল বিতরণ, এক ব্যক্তির একাধিক কার্ডের বিপরীতে চাল উত্তোলন এবং উপকারভোগীদের কাছ থেকে চাল কিনে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সরেজমিনে কুড়িপাড়ায় ডিলারের কার্যালয়ে গিয়ে চাল নিতে আসা কার্ডধারীদের ভিড় দেখা যায়। সেখানে কার্ড জমা নিয়ে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। তবে কার্ডধারীদের পরিচয় যাচাই ও বিতরণ কার্যক্রমের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারকে বিতরণকেন্দ্রে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি সহায়তার চাল পেতে গিয়ে অনেক উপকারভোগী ভোগান্তিতে পড়ছেন। কেউ নির্ধারিত সময়ে চাল পাচ্ছেন না, আবার কারও অভিযোগ, তাঁদের প্রাপ্য চাল বিতরণে অনিয়ম হচ্ছে। এসব ঘটনায় কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বাহুকা গ্রামের সাইদুল ইসলাম বলেন, গত ৭ এপ্রিল তিনি চাল পেয়েছিলেন। এরপর দুই দফা চাল বিতরণ হলেও তাঁকে চাল দেওয়া হয়নি। সোমবার অনেক কষ্টে চাল পেয়েছেন।
মহিষামুড়া গ্রামের গোলাম সারোয়ার জানান, ১১ এপ্রিল চাল পাওয়ার পর ওই মাসে আর চাল পাননি। তাঁর দাবি, তাঁর মতো আরও অনেক গ্রাহক নিয়মিত চাল পাচ্ছেন না।
একই গ্রামের রবিউল আলম বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসের চাল তিনি পাননি। ডিলার তাঁদের চাল বিক্রি করে দিতে বলেন। কিন্তু তাঁরা চাল বিক্রি করতে চান না। কবে চাল দেওয়া হবে, সে বিষয়েও তাঁদের কোনো তথ্য জানানো হয় না।
অভিযোগের বিষয়ে সোহাগ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রবিউল হাসান বলেন, আমি কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম করছি না। আপনারা যা লেখার লেখেন, আমার কোনো সমস্যা নেই।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাব্বীর আহমেদ মুরাদ বলেন, তিনি এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছেন। বিতরণকেন্দ্রে ট্যাগ অফিসারকে উপস্থিত থাকতে বলেছেন। এ বিষয়ে তথ্য দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুন খান বলেন, ‘এর আগেও তাঁকে একবার শোকজ করা হয়েছিল। এরপরও তিনি ভালো হননি। তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কার্ডধারীদের তালিকা, বরাদ্দ, বিতরণ রেজিস্টার ও মজুতের হিসাব পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে বিতরণকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং যাঁরা প্রাপ্য চাল পাননি, তাঁদের চাল বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আগে শোকজের পরও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ডিলারের বিরুদ্ধে এবার কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।









