ভারতীয় মেঘালয় পাহাড় সংলগ্ন ৩৬৫একর জায়গা জুড়ে রয়েছে নান্দনিক রূপ সৌন্দর্য আর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর তাহিরপুর উপজেলার আইফেল টাওয়ার খ্যাত বারেকটিলা। মনে হয় বিধাতা যে আপন মনে নিজের হাতেই। টিলায় দাড়িয়ে সূর্যদ্বয় ও সূর্যাস্ত,পার্শ্বস্থ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সারি সারি উচু নিচু খাসিয়া পাহাড়,সবুজ বনায়ন,কারুকার্য,বাহারি রং বেরংঙ্গের গাছ-পালা,ছোট ছোট আঁকাবাঁকা মেটো পথ,প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয আর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বারেকটিলা বিশাল বনভূমিতে নিজস্ব ইতিহাস,ঐতিহ্য,সংস্কৃতিতে বলিয়ান আদিবাসী ও বাঙ্গালী বসতি যা প্রতিদিন ছুটে আসা দেশ বিদেশের আগত পর্যটকদের সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে। দেশের উত্তর পূর্ব দিগন্তে হাওর কন্যা খ্যাত এজেলার পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় সেই সৌন্দর্য সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তাহিরপুর উপজেলার ধলাইরগাঁও বিট অফিসের আওতাবুক্ত উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদী সংলগ্ন স্থানে বারেকটিলার অবস্থান। এই টিলার নামকরন নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান,কেউ বলে চট্টগ্রাম আবার কেউ বলে কুমিল্লা থেকে বারেক নামে এক লোক এখানে এসে প্রথমে বসতি স্থাপন করে বসবাস শুরু করে। আর তার কাছে বিভিন্ন এলাকার মানুষজন আসার সময় আসত। তখন কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলত বারেকের কাছে যাই টিলায়। আবার অনেকেই বলত বারিক্কারটিলায় যাই এভাবেই টিলার নাম বারেকটিলা নাম করন হয়। তবে স্থানীয়দের কাছে বারেকটিলা বারিক্কারটিলা হিসাবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজ সেবক মাসুক মিয়া জানান,সমতল ভূমি থেকে অনেক উচু এটিলা যেখানে দাঁড়ালে হাওর,বিল,নদী,পাশের গ্রাম গুলোকেও সমতল ভূমির মতো মনে হয়। বর্ষায় উত্তরদিকে মেঘালয় পাহাড়ে খেলারত মেঘগুলো মনে হয় হাত বাড়ালেই ধরা যাবে। পাহাড়ের গায়ে নানা রঙ্গের মেঘের খেলা। মেঘ কখনো সবুজ পাহাড়কে ডেকে দিচ্ছে আবার কখনো বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে তার আপন ভালোবাসায়। পাহাড় আর মেঘের সঙ্গমের দৃশ্য,প্রকৃতির অপরুপ সুন্দর্য দেখা যায় মেঘালয় পাহাড়ের আকাঁ বাকাঁ সড়ক পথে চলাচল করছে ভারতীয় বিভিন্ন যানবাহন। এই বারিক্কা টিলায় গেলে সীমান্ত পিলার,একটি ছবি আপনাকে দুই দেশের দৃশ্যপটে রেখে দেবে। পাশে শাহ আরেফিন(রাঃ)আস্তান,পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে মেঘালয় পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা অপরূপা সীমান্ত নদী যাদুকাটা নদী। এই যাদুকাটা নদীর সচ্চ পানির নিচের বালি গুলো স্পষ্ট বালি ও পানি একসাথে খেলা করছে আর হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মব্যস্ত জীবন। নদী থেকে বালু পাথর উঠানোর এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। মনে হবে নিজেই পানিতে নেমে একটু গা ভিজিয়ে নেই। স্মরণ করিয়ে দিবে দর্শনীয় দিন গুলোর মধ্যে বারিক্কা টিলায় বাংলাদেশের মানচিত্রে এটি যেন স্বর্গের অংশ। বেড়াতে আসা সাজু,সুমন তারা বলেন,পাহাড়ী আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে আপনি যখন বারিক্কা টিলায় উঠবেন তখন আপনার মনে হবে আপনি বাংলার আইফেল টাওয়ার থেকে পুরো তাহিরপুর উপজেলাকে দেখছেন। নিজের ভিতরের সুপ্ত ভালো লাগা গুলো নিমিষেই বের হয়ে আসে। নিজেকে কিছুক্ষনের জন্য ভাবা যায় আমি এক অন্য জগতে আছি। লক্ষ্যনীয় বিষয় প্রত্যন্ত এলাকা বলেই এসকল দর্শনীয় এলাকার কথা মানুষ-জন এখনো তেমন জানে না। আগত পর্যটক ঢাকা টুরিস্ট প্রধান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,বাংলাদেশের সবগুলো পর্যটন এলাকাই শব্দ দূষণে এলাকার অবস্থা খারাপ করে তুলছে কিন্তু তাহিরপুরের এই সব নয়ন মুগ্ধকরা এলাকা এখনো দূষিত হয় নি। তিনি আরো বলেন,বারেকটিলা(বারিক্কার টিলা)প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারনএ টিলায় বৃক্ষ,জীববৈচিত্র ফিরিয়ে আনতে সরকারী কার্যকর প্রদক্ষেপ নিলে বারেকটিলায় আগত পর্যটকগন এর সৌন্দর্য়ে মুগ্ধ হবে সেই সাথে বেশী পর্যটকের আগমন গঠবে।









