২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-

আজও হয়নি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির বাস্তবায়ন ফুলবাড়ী কয়লা খনি বিরোধী অন্দোলনের ১৬তম বর্ষ

মোঃ আবু শহীদ, ফুলবাড়ী,দিনাজপুর করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৫ ২০২১, ১৫:২৫ | 671 বার পঠিত

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লা খনি বিরোধী অন্দোলনের স্মরণীয় দিন হিসেবে আজ ২৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার স্থানীয়ভাবে শোক দিবস পালিত হচ্ছে। গণ আন্দোলনের ১৬ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি সেই সময়ের ৬ দফা চুক্তি।
২০০৬ সালের ২৬শে আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্বতিতে ফুলবাড়ী কয়লা খনি বাস্তবায়নের প্রস্তাবকারি এশিয়া এনার্জি নামক একটি বহুজাতিক কোম্পানীর ফুলবাড়ী অফিস ঘেরাও কর্মসুচি পালন করতে গেলে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গণমিছিলের উপর টিয়ারশেল ও গুলিবর্ষন করে। গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হয় সুজাপুর চাঁদপাড়া গ্রামের মকলেছুর রহমানের ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র তরিকুল ইসলাম (২০), বারকোনা গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে আমিন (১৫) ও উত্তর সাহাবাজপুর গ্রামের সালেকিন (১৭)। একই ঘটনায় দক্ষিণ সাহাবাজপুর গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র, রতনপুর গ্রামের শ্রীমান বাস্কে, সুজাপুর গ্রামের বাবলু রায়সহ চিরতরে পঙ্গু হয় প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ। এরপর ফুলবাড়ীর মানুষ গণ আন্দোলন গড়ে তোলে। ফলে ফুলবাড়ীর উপর দিয়ে বাস, ট্রেন চলাচলসহ সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সারা দেশের সাথে কয়েকদিন বিছিন্ন হয়ে যায় ফুলবাড়ীর যোগাযোগ । ফুলবাড়ীর মানুষের গণ আন্দোলনের মুখে ৩০শে আগষ্ট তৎকালিন সরকারের প্রতিনিধি দল ফুলবাড়ীবাসীর সাথে একটি বৈঠক করে ৬ দফা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির ১৫ বছর পেরিয়ে ১৬ বছরে পদার্পন করলেও বাস্তবায়ন হয়নি সেই ৬ দফা চুক্তি।
দিবসটি যথাযথ ভাবে পালনের জন্য ফুলবাড়ীর বিভিন্ন অরাজনৈতিক পেশাজীবী সংগঠন ও ফুলবাড়ীবাসী সম্মিলিত ভাবে এবং তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি পৃথক ভাবে ফুলবাড়ীতে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে কালো ব্যাচ ধারণ, গণ জমায়েত, শোক র‌্যালী, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পন, আলোচনা সভা, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান, মিলাদ মাহফিল ও প্রার্থনা।
ফুলবাড়ীর মানুষ মনে করে,সেদিন যে গণ বিজয় অর্জিত হয়েছিল তা শুধু ফুলবাড়ীবাসীর নয়, এ বিজয় সারা দেশবাসীর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অত্র এলাকায় স্থায়ী সম্পদ ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন করে কয়লা খনি প্রকল্প চালু হলে পথে বসতে হবে হাজার হাজার পরিবারকে। কারণ দিনাজপুর জেলার মানুষ ধান, চাল,লিচুসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে অভিজ্ঞ ও অভ্যস্ত। মাঠে ঘাটে খেটে খাওয়া এসব মানুষ ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে তা ভাঙ্গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকলে এক সময় তাদেরকে পথে বসতে হবে। কারণ অর্থ থাকলেই তা দিয়ে সম্পদ কেনা কিংবা ব্যবসা বাণিজ্য করা সহজে সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই মানুষের মনে আশংকা তথা কথিত ফুলবাড়ী কয়লা খনি বাস্তবায়ন হলে কৃষক হারাবে ৩ ফসলি কৃষি জমি, ব্যবসায়ী হারাবে ব্যবসা বাণিজ্য, শ্রমিক হয়ে পড়বে বেকার ও কর্মহীন, ছাত্র-ছাত্রী হারাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাধারণ মানুষ হবে দিশেহারা ও উদ্বাস্তু। ফুলবাড়ীবাসীর প্রাণের দাবী “স্থায়ী সম্পদ ধ্বংস করে ফুলবাড়ীতে কয়লা খনি চাই না” শ্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন অরাজনৈতিক পেশাজীবী সংগঠন ও ফুলবাড়ীবাসী সম্মিলিত ভাবে ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ী শোক দিবস উদ্যাপন করে আসছে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4723707আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 5এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET