২৬ আগস্ট ২০২৩ বিকাল ৪টায় ঢাকার বকশী বাজারস্থ আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত বাংলাদেশের জাতীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে আন্তঃধমীর্য় সম্প্রীতি সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত বাংলাদেশের ন্যাশনাল আমীর আলহাজ্জ মওলানা আব্দুল আউয়াল খান চৌধুরী। অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিবৃন্দ নিজ নিজ ধর্মে শান্তির শিক্ষা বিষয়ে আলোকপাত করেন।
আহমদীয়া জামাতের বক্তাগণ বলেন, ইসলামে সকল নবী ও রসুলের প্রতি এবং সকল আসমানী কিতাবের উপর ঈমান আনা আবশ্যক। পবিত্র কুরআন বলে, সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। অতএব, বিশ্বাসে এবং প্রথাগতভাবে আমাদের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও আল্লাহর সৃষ্টি এবং আল্লাহ্ প্রেরিত বিভিন্ন নবী-রসুলের অনুসারী হিসেবে আমরা সবাই এক পরিবার ভুক্ত। তাই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আমরা একে অপরকে জানতে পারি এবং নিজেদের মধ্যে সম্প্রীতির সম্পর্ক স্থাপন করতে পারি। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি স্থাপনের উদ্দেশ্যে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত সারা বিশ্বে এধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে, এটি এই জামা’তের একটি নিয়মিত ও ঐতিহ্যপূর্ণ অনুষ্ঠান।
আহমদী জামা’তের বক্তাগণ বলেন, ইসলাম সকল ধর্মের অনুসারীদের সাথে সৌহার্দ্যময় সম্পর্কের কথা বলে। এছাড়া ইসলামের আকর্ষণীয় শিক্ষার প্রচার ও প্রসার জোর-জবরদস্তি এবং বল প্রয়োগে নয় বরং যুক্তি, প্রমাণ, প্রেম ও ভালোবাসার দ্বারা মানুষের হৃদয় জয় করার মাধ্যমে সম্ভব। সর্বাবস্থায় ইসলাম অমুসলমানদের অধিকার মর্যাদার সাথে সংরক্ষণ করে। বিদ্বেষ ছড়ানো ও আক্রমণের অধিকার ইসলামে নেই।
তারা আরো বলেন- সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের একটা বড় কারণ হল-অন্য ধর্মের অনুসারীদের অসম্মান করা। অথচ পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন ‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যাদের (উপাস্যরূপে) ডাকে তোমরা তাদের গালমন্দ করো না। নতুবা তারা শত্রুতাবশত না জেনে আল্লাহকেই গালমন্দ করবে।’ (সুরা আন আম: ১০৮) এছাড়া সুরা মায়েদার ৯ নম্বর আয়াতের আলোকে ন্যায়বিচারের বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে আহমদীয়া জামাতের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আলহাজ্জ আহমদ তবশীর চৌধুরী, মওলানা শাহ মুহাম্মদ নুরুল আমীন এবং আহমদীয়া ন্যাশনাল আমীর আলহাজ্জ মওলানা আব্দুল আউয়াল খান চৌধুরী। এছাড়া খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ফাদার আলবার্ট রোজারিও, ব্রাদার গিউম, বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি প্রফেসর ডক্টর বিমানচন্দ্র বড়ূয়া, ডক্টর নীরু বড়ুয়া, ভিক্ষু স্বরূপানন্দ এবং হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি অধ্যাপক ডক্টর অসিম সরকার প্রমুখ।
শেষে তারা আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত, কর্তৃক প্রকাশিত ৭৬টি ভাষায় অনুদিত পবিত্র কুরআন প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ ও অভিভূত হন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।








