ঈশ্বরদীতে বিজয় দিবসে শোভাযাত্রা বের করাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ এমপি এবং অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দেন ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ। এই ঘটনায় পুলিশ মেয়র মিন্টু গ্রুপের পক্ষ নিয়ে শামসুর রহমান শরীফিএমপি গ্রুপের নেতাকর্মীদের দুই দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও লাঠিচার্জও করে বলে জানা গেছে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শামসুর রহমান শরীফ এমপি গ্রুপের রাজু, চমন, শাহিনকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও কুপিয়ে জখম করা ২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ ও যুবলীগ সভাপতি ইলিয়াসকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে মেয়র মিন্টু গ্রুপের পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মতলেব হোসেন ও পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকালে ঈশ্বরদী শহরের মধ্য অরণকোলা, পোষ্ট অফিস মোড় ও আকবরের মোড়ে এসব ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, থানা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য মতে, ঈশ্বরদীতে দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুর সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ এমপি ও জামাই পৌর সভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু গ্রুপের মধ্যে গ্রপিং কোন্দল চলে আসছে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার ভূমিমন্ত্রী গ্রুপের পক্ষে তার ছেলে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরিফ তমালের নেতৃত্বে যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শহরের পোষ্ট অফিস মোড়ে জমায়েত হয়। এই সময় জামাই মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু গ্রুপের পক্ষে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জোবায়ের বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা পোষ্ট অফিস মোড়ের দিকে আসতে দেখে তমাল গ্রুপ তাদের ধাওয়া করে। সেই সময় পোষ্ট অফিস মোড়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকের নেতৃত্বে তমাল গ্রুপের ওপর লাঠিচার্জ করে। এই সময় তমাল গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাঁদের ওপর দুই দফা লাঠিচার্জ করে। এতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সাংবাদিক, পথচারীসহ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়। মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু গ্রুপের পক্ষে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জোবায়ের বিশ্বাস জানান, তাঁরা মেয়র গ্রুপের পক্ষে শোভাযাত্রা বের করলে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ছেলে শিরহান শরিফ তমাল গ্রুপ তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনিসহ তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান, আব্দুল মতিন, মতলেবু ও আবু সাইদসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। সাবেক ভূমিমন্ত্রীর পুত্র ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরিফ তমাল জানান, ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকি পুরোপুরিভাবে মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর পক্ষে একজন সক্রিয় কর্মীর ভূমিকা পালন করে তাঁদের (তমাল) নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে দুই দফা লাঠিচার্জ করেছে। এতে রাজু, চমন ও শাহিনসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। ওসি তাঁকেও শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তিনি আরো জানান, মিন্টু গ্রুপের লোকজন পৌর ছাত্রলীগের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেনকে কুপিয়ে জখম করেছে। তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওসির পক্ষপাত ভূমিকার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করে তমাল জানান, বিষয়টি সুষ্টু তদন্ত করে ওসির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পাবনা পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানানো হবে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জোবায়ের বিশ্বাসের করা অভিযোগ অস্বীকার করে তমাল জানান, মতিন, মতলেব ও আবু সাইদ দলের সাবেক নেতাকর্মী। তাদের ওপর হামলা করার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, যুবলীগ সভাপতি শিরহান শরিফ তমাল সম্পূর্ণরুপে মনগড়া কথা বলছে। উল্টো ওসি প্রশ্ন করে আহত কতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তা জানতে চাইলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এদিকে এ ঘটনায় দুপুর পর্যন্ত ঈশ্বরদী উপজেলা ব্যাপী থমথমে অবস্থা বিরাজ করতেছিল। শহরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করছে।









