সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া, মনসুর নগর, চরগিরিশ, নিশ্চিন্তপুর, তেকানী, মাইজবাড়ী, শুভগাছা ও খাসরাজবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় দেখা মিলেছে অসংখ্য সোলার প্যানেলের।
চরাঞ্চলের বসতবাড়ি, হাটবাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ছোট-বড় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি – বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার চালে সোলার প্যানেল শোভা পাচ্ছে। এমনকি তিনটি কোম্পানীর মোবাইল ফোন টাওয়ারও চলছে এই প্যানেলের শক্তিতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাটুয়ারপাড়া গুলেরমোড় থেকে শুরু করে পুরো হাটবাজার এলাকায় অবস্থিত ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান পাটের চালার ওপরে বসানো হয়েছে সোলার প্যানেল। অসংখ্য বসতবাড়ির চিত্রও একই। গুলেরমোড় থেকে নাটুয়ারপাড়া হাটের মূল অংশে প্রবেশের বেশ আগে মোবাইল কোম্পানির দু’টো বিশাল টাওয়ার চোখে পড়বে। সেই টাওয়ারে বিদ্যুৎ সাপ্লাইয়ের জন্য বসানো হয়েছে সোলার প্যানেল।
চরাঞ্চলেএই আলোর ব্যবস্থা করেছে ‘গ্রামীণ আলো সোলার সিস্টেম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের নিশ্চিন্তপুর শাখার কো-অর্ডিনেটর আলমগীর হোসেন জানান, প্রতিটি সোলার ইউনিট স্থাপন করতে ওয়াট ভেদে ৮ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। এককালীন কিছু টাকা জমা দিয়ে এসব সোলার প্যানেল কেনা যায়। পরে বাকি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়। তিনি আরও জানান, মাস শেষে বিল পরিশোধের মাধ্যমে অনেকেই আমাদের নিকট থেকে সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে সংযোগ নিয়ে আলো জ্বালাচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, এসব চরাঞ্চলে এক হাজারের অধিক সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল সংখ্যক প্যানেল বসানোর প্রস্তাব রয়েছে। এতে লোডশেডিংয়েরও কোন প্রকার ঝামেলা নেই। নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম জানান, ‘‘ চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। আজ একগ্রাম ভাঙ্গেতো আরেক এলাকায় লোকজন চলে যায়। একারণে মানুষ সম্পূর্ণভাবে সোলারের আলোর ওপর নির্ভরশীল। চরগিরিশ ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল হক মিন্টু জানান, সোলারের আলোয় চরাঞ্চলের মানুষের জীবন মান অনেকখানি পাল্টে গেছে। সঙ্গে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা গভীর রাত পর্যন্ত লেখাপড়া করতে পারছে। সেচ থেকে শুরু করে অনেক কাজই এখন সোলারের মাধ্যমে করা সম্ভব হয়েছে।
Please follow and like us:









