জানা যায়, কুষ্টিয়ার হরিনারায়ন পুর দোয়ারকা দাস মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য কলেজ টেস্ট পরীক্ষা দেয় নুপুর। কয়েকদিন আগে পরীক্ষার রেজাল্ট দিলে চার বিষয়ে অকৃতকার্য হয় নুপুর। বিষয়টি নুপুর জানলেও তার পরিবার কিছুই জানতো না। পরিবারের লোকজন নুপুরের কাছে পরীক্ষার ফলাফল জানতে চাইলে সে কিছুই বলে না।
বিষয়টি সন্দেহ হলে নুপুরের মা লাবনী খাতুন নুপুরকে সাথে নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ কাছে যায়। প্রিন্সিপালের কাছে পরীক্ষার ফলাফল জানতে চাইলে ওই সময় অধ্যক্ষর কক্ষেই বিষপান করে নুপুর। এমতাবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে নুপুরের মৃত্যু হয়।
ইবি থানার এ এসআই আরিফুল জানান , আমরা মেয়েটির বাসা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছি।
চিরকুটে লেখা ছিল:-
আব্বু আম্মু আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি কখনো চাই না আমার জন্য তোমরা কষ্ট পাও। আমি ভালোভাবে লেখাপড়া করতে চেয়েছিলাম। অনেক স্বপ্ন ছিল আমার। আমি জানি আমাকে নিয়ে তোমাদের অনেক স্বপ্ন। আমি যে তোমাদের একমাত্র মেয়ে। আমি পৃথিবী থেকে চলে গেলাম। আমাকে ক্ষমা করিও। আমার জন্য একটুও কষ্ট পাবে না। আমি তো আর ফিরে আসবো না। আমি চাই আমার মরা টা যেন স্বাভাবিকভাবে মাটি দেয়া হয়। আত্মহত্যা করলে তো পুলিশ আসে। তারা কি সব করে আমার যেন ওইসব না করা হয়। এভাবে মরে গেলে তো কোথায় যেন পাঠাই লাশ কাটার জন্য। কিন্তু আমার যে ওটাতে খুব ভয় লাগে। আমাকে ওখানে পাঠাও না ভয় লাগে। আমাকে স্বাভাবিকভাবে মাটি দিও। পুলিশ যেন অন্য সবার মত আমার লাশ কে কষ্ট না দেয়। স্পর্শ না করে। আমায় ভালোভাবে মাটির দিও।
এ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আসলে পরীক্ষায় ফেল করার জন্যই আত্মহত্যা, না অন্য কোন কারণে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করারও দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।









