লালমনিরহাটে কৃষকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীর কাছ ধান সংগ্রহ করার তথ্য জানতে চাইলে ক্ষ্দ্ধু হয়ে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়িতে উপজেলা খাদ্য গুদাম চত্বরে গুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান ও তার লোকজন এক সাংবাদিকের ভিডিও ক্যামেরা ছিনতাই করে তাকে লাঞ্চিত করে বাইরে বের করে দেন। গতকাল সোমবার(২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে এ ঘটনায় সেখানে ছুটে যান স্থানীয় সাংবাদিক, পুলিশ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম।
হামলার শিকার সাংবাদিক হলেন মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের লালমনিরহাট সংবাদদাতা ও দৈনিক শেয়ারবিজ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত। তিনি লালমনিরহাট শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দ্।া
”শহরের কালীবাড়িতে অবস্থিত লালমনিরহাট উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান ও তার লোকজন কৃষকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করছিলেন। এ খবরে সেখানে গিয়ে এর সত্যতা পাই ও শাহিনুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হন। এসময় আমার কাছে থাকা ভিডিও ক্যামেরাটি ছিনতাই করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্চিত করে গুদাম চত্বর থেকে বের করে দেন,” জানালেন জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত। “কৃষকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় এ গুদামের নিয়মিত চিত্র,” তিনি এমনটি জানিয়ে বলেন এ ঘটনায় গতকাল সোমবার(২৩ ডিসেম্বর) সন্ধায় লালমনিরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সাংবাদিকের কাছ থেকে ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার সত্যতা স্বীকার করেন সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান। সাংবাদিকের ক্যামেরা কেন কেড়ে নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি নীরব ভুমিকা পালন করে কোন উত্তর দেননি।
লালমনরহাট সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আইয়ুব আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ঘটনার ব্যাপারে জ্ঞাত নন বলে জানান। এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতেও রাজি হননি তিনি।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কাজী সাইফুদ্দিন দেশের বাইরে থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
লালমরিহাট প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক (সাবেক সভাপতি) মোফাখখারুল ইসলাম মজনু জানান, সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনতাই করে অভিযুক্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা গুরুতর অপরাধ করেছেন। খাদ্য বিভাগ অভিযুক্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করলে লালমনিরহাটের কর্মরত সাংবাদিকরা শিঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিবেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি,তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তিনি তদন্ত করেছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করবেন এবং পরে তা খাদ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরন করা হবে।









