খাগড়াছড়ি’র গুইমারাতে প্রতি বারের ন্যায় এবারো বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতায় পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তি’তথা ‘শান্তিচুক্তি’র ২২তম বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে।দিবসটি উপলক্ষে সরকারের সাফল্য তুলে ধরতে ২৪ আর্টিলারী ব্রিগেড গুইমারা রিজিয়ন নানা কর্মসূচির আয়োজন করে।বর্ণিল সাজে সাজানো হয়ে রিজিয়ন মাঠ।
সোমবার(০২ডিসেম্বর)সকাল ৮টায় গুইমারা সরকারি মডেল হাইস্কুল প্রঙ্গন থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।শোভাযাত্রাটি গুইমারা উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে গুইমারা রিজিয়ন মাঠে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।শান্তির প্রতিক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বর্ষপূর্তিও উদ্বোধন করেন,গুইমারা রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ শাহরিয়ার জামান।শোভাযাত্রায় গুইমারা বিজিরি’র সেক্টর কামন্ডার মো: আবদুল হাই,সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল রুবায়েত মাহমুদ হাসিব,মাটিরাঙ্গা জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল নওরোজ নিকোশিয়ার,যামিনি পাড়া জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মিজানুর রহমান,গুইমারা রিজিয়ন এবং সিন্দুকছড়ি জোনের পদস্থ কর্মকর্তা,মানিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন,গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: তুষার আহমেদ,মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না মাহমুদ,উপজেলা প্রশাসনের বিভাগীয় প্রধানগন,গুইমারা থানার অফিসার্স ইনচার্জ বিদ্যূৎ কুমার বড়–য়া,গুইমারা সরকারি কলেজের অধ্যাক্ষ নাজিম উদ্দীন,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ঝর্ণা ত্রিপুরা,গুইমারা উপজেলা আ:লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মেমং মারমা,হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী,সিন্দুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মারমাসহ উপজেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/শিক্ষিকা,ছাত্র-ছাত্রী,স্থানীয় সাংবাদিক,চাকমা,মারমা,ত্রিপুরাসহ বাঙ্গালীরা শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহন করেন।শোভাযাত্রা শেষে গুইমারা রিজিয়ন মাঠে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে,গুইমারা রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ শাহরিয়ার জামান বলেন.পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি,সম্প্রীতির মেলবন্ধন আটুট রাখতে এবং নিরাপত্তা,উন্নয়ন ও শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দক্ষতার সাথে গুরুর্পর্ণ ভূমিকা পালন করছে।চুক্তির সিংহভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে।এনিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।পার্বত্যাঞ্চলের পূর্বাপর বিরাজমান পরিস্থিতি,শান্তিচুক্তি এবং তা-বাস্তবায়ন ও বাস্তবায়নের গৃহীত পদক্ষেপ,এসবের প্রভাব মূল্যায়ন করলে নির্দ্বিধায় বলা যায় শান্তিচুক্তি পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্বের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।পাহাড়ে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।বহুমুখি উন্নয়নের ফলে পাহাড়ের মানুষের জীবনযাএার মানউন্নয়ন সহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক পরির্তন হয়েছে।উন্নয়নের এ-অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে যার যার অবস্থান থেকে সরকারকে সহযোগিতার আহবান জানান তিনি।
সভায় গুইমারা উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মেমং মারমা,পাহাড়ে শান্তি সম্প্রীতি এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার,চাঁদাবাজ,সন্ত্রাসসহ সকল অপকর্ম ণিমুল করার দাবী জানান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরন করেন এবং মেলায় বিভিন্ন জোন ও উপজেলা প্রশাসনের সাজানো স্টল পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথি।এছাড়াও বিকেলে মনোজ্ঞ সম্প্রীতি কনসাটের আয়োজন করা হয়েছে।এতে চট্টগ্রাম ও স্থানীয় জনপ্রিয় শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেন।
প্রসঙ্গত,পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রক্তপাত ও সংঘাত নিরসনে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক উদ্যোগে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি। সরকারের পক্ষে সে সময়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে (জেএসএস সভাপতি) জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসাবে এ চুক্তি তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই স্বাক্ষরিত হয়।









