পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের কুলিন্দাপাড়া গ্রামের ৮৫ বছরের বৃদ্ধ হযরত আলী।বয়সের ভারে অনেকটা নুয়ে চলতে হয় তাকে। শরীরের চামড়ায় ঘোচ পড়ে গেছে। শরীরে অনেক রোগের বাসা বেধেছে।মানুষের দুয়ারে ভিক্ষা করে ২ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন বয়ষ্ক ভাতার তালিকায় নাম লেখাতে। সেই অনুযায়ী ভোটারকার্ড, ছবি সবই দিয়েছেন মেম্বরের কাছে।ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাত্র ৮ দিন পর ঘুষ দিলেও দীর্ঘ তিন বছর পেরিয়ে গেছে শুধু দুই-একদিন পড়েই পেয়ে যাবেন এমন শান্তনার বানি শুনে।তবে এখনও বয়ষ্ক ভাতার তালিকায় নাম লেখাতে পারেন নি। জানা যায়, ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কুলিন্দাপাড়া গ্রামের মৃঃ মেছের হাওলাদারের পুত্র হযরত আলী।বয়সের ভাড়ে নূয়ে পড়া এ মানুষটি তার সহধর্মীনি মালেকা বেগমকে চির বিদায় দিয়ে একা হয়ে পড়েছেন সাত বছর আগেই।কোন পুত্র সন্তান না থাকায় ঠাই হয় দুই কন্যার মধ্যে বড় কন্যা রাসিদার ঘরে। তার ভাষ্য মতে জীবদ্দশায় কারো কাছে ছোট হতে চাননা তিনি। মাঝে মধ্যে ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়েই নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত অর্ধাচেতন শরির এবং বধির একটা কানের চিকিৎসা করান।তার অভিযোগ ওই এলাকায় যদি কেউ আগে বয়ষ্ক ভাতা পেয়ে থাকেন তবে তিনি এর প্রাপ্য। একত্রে কিছু টাকা পেলে চিকিৎসার জন্য মানুষের দুয়ারে ভিক্ষা বৃত্তির প্রয়োজন হতো না বলেও জানান তিনি। কিন্তু ঘুষ দিয়েও কেন ভাতা পাচ্ছেন না? এমন প্রশ্ন রাখেন এ প্রতিনিধির কাছে।অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জাকির হোসেনের কাছে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, হ্যাঁ আমি ওনাকে চিনি খুব অসহায় মানুষ। দুই হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে সাড়ে তিন বছরেও প্রাপ্য মানুষকে ভাতা তালিকায় কেন নাম দেয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিক ভাই আপনার সাথে নিড়িবিলি কথা বলবো। অসহায় বৃদ্ধের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন কেন? জানতে চাইলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনিবুর রহমান জানান, বৃদ্ধ মানুষটিকে অবশ্যই দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাতা সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া ওনার দেয়া ঘুষের টাকা আদায় করাসহ ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।( নিউজ সম্পাদনায় হাফিজা আক্তার)
Please follow and like us:









