নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দশম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: অবদুল হামিদ বলেছেন,দেশ ও জাতির উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। আর ছাত্র-রাজনীতির মাধ্যমেই একটি দেশের নেতৃত্ব তৈরি হবে। অতীতের ছাত্র রাজনীতি এবং বর্তমান ছাত্র রাজনীতির মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে। আর ষাটের দশকে ছাত্র রাজনীতির আদর্শ ছিল দেশ ও জনগণের কল্যাণ সাধন করা। সেখানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থের কোনো স্থান ছিল না। ছাত্ররাই ছাত্র রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করত। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দশম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন,একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তীব্র প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে মাথা উচু করে দাঁড়াতে হলে বিশ্বমানের গুনগত শিক্ষা ও গবেষণার বিকল্প নেই। তাই বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম হাল নাগাদ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আজকাল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসহিষ্ণুতা, উগ্রবাদ, জঙ্গীবাদ, মৌলবাদের মতো নৈতিবাচক কর্মকান্ডে জাতি গভীর উদ্বেগরর সাথে প্রত্যক্ষ করছে। আমি মনে করি এর উদ্ভব ও বিকাশ হয়েছে, মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতি চর্চার অভাবে। জাতির অমিত শক্তি যুব সমাজ। যুবসমাজের শক্তি ও সম্ভবনাকে দেশ গঠনের কাজে লাগাতে আমাদের যুব সমাজকে অবশ্যই অপসংস্কৃতির প্রভাব মুক্ত হয়ে স্বাধীন চিন্তার অধিকারী হতে হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে হিসেবে বক্তব্য রােেখন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এসময় তিনি বক্তব্যে বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্ঞান চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকর্মকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমরা এখনও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বংলাদেশ গড়তে কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবের। শহীদ ড. শামসুজ্জোহাসহ আরও অনেক শিক্ষকের রক্তের সাক্ষী এই বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চ ডিগ্রি অর্জন শেষে আপনারা এখন নতুন এক জায়গায় এসে পৌঁছেছেন। সামনে আপনাদের উজ্জল ভবিষ্যত। আপনাদের এই পর্যায়ে আসার জন্য এদেশের জনগণের অনেক ভূমিকা রয়েছে। তাই আপনাদেরও তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে এর আগে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ বিকেলে সাড়ে তিনটায় সমাবর্তন স্থালে এসে পৌছালে তাঁকে স্বাগত জানান উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান, শিক্ষা মস্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। পরে তিনি ১০তলা বিশিষ্ট দু’টি আবাসিক হলের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এসময় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক ও সেলিনা হোসেনকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি দেওয়া হয়।









