২০২০-২০২২ কার্যকালের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ ২৬ ডিসেম্বর সকালে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা ৫ আসনে (ফুলতলা ও ডুমুরিয়া) নির্বাচনী এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জোট সরকারের ৫ বছরে তিনি ডুমুরিয়া-ফুলতলায় প্রায় সোয়া তিন শ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। এত উন্নয়ন কার্যক্রম বিগত ৩০ বছরে এ এলাকায় কোনো এমপি করতে পারেননি। বিশেষ করে ডুমুরিয়া-ফুলতলার সন্ত্রাস দমনে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের দুঃসাহসিক ভূমিকা শুধু তার এলাকার জনগণের জীবনেই শান্তি এনে দেয়নি বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন দিক-নির্দেশনা দেয়।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ১৯৫৯ সালের ৮ জানুয়ারি খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার শিরোমণি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবনে তাঁর পিতা-মাতা, ৫ ভাই, ৫ বোন, স্ত্রী, ২ কন্যা ও ২ পুত্র সন্তান রয়েছে। শিরোমণি হাই স্কুল, বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও আযম খান বাণিজ্য বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে যথাক্রমে এসএসসি, এইচএসসি, বিকম অর্নাসসহ (হিসাব বিজ্ঞান) এমকম পাস করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে জড়িত। ১৯৭৪ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগে যোগদান করেন। ১৯৭৭ সালের শেষার্ধে ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত পেয়ে তিনি ইসলামী আদর্শভিত্তিক ছাত্ররাজনীতিতে শরিক হন। প্রতিষ্ঠালগ্ন হতেই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত হন এবং তিনি বিভিন্ন মেয়াদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ফুলতলা থানা সভাপতি, খুলনা সদর থানা সভাপতি, বিএল কলেজ সভাপতি, কমার্স কলেজ সভাপতি এবং ১৯৮৪-৮৫ সেশনে খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবন শেষ করে তিনি সাংবাদিকতা ও অধ্যাপনা পেশার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। দৈনিক সংগ্রামের খুলনা প্রতিনিধি হিসেবে তিনি কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় খুলনা প্রেস ক্লাব নির্বাচনে সর্বাধিক ভোট পেয়ে তিনি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। দুই বছর কাল তিনি খুলনা ইসলামিয়া কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ছাত্রজীবন শেষ করেই তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।
১৯৯৬-২০১১ সাল পর্যন্ত খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে তিনি জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা ৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৯৪ সালে খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্যাপক পরিচিতি ও বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।









