৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-




নেপালে বিমান দূর্ঘটনায় শ্রীপুরের বাবা-মেয়ে নিহত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : মার্চ ১৩ ২০১৮, ১৯:৪১ | 1251 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

সাইফুল আলম সুমন,শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ-   নেপালে ত্রিভুবন বিমান বন্দরে গতকাল সোমবার বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী ছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের দুই দম্পতি। তারা হলেন এফ এইচ প্রিয়ক(৩২), তার স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি(২৬), মেয়ে তামাররা প্রিয়ক(৩), প্রিয়কের মামাতো ভাই মেহেদী হাসান(২৭), তার স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বর্ণা(২৪)। এই পাঁচ জনের মধ্যে প্রিয়ক ও তার মেয়ে তামাররা নিহত হয়েছেন। প্রিয়ক নগরহাওলা গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে। পেশায় প্রিয়ক একজন আলোকচিত্র ছিলেন। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক করেন। একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও পেয়েছেন তিনি। তার বাড়িতে রাতে কান্নার ভেঙ্গে পড়েন আত্বীয় স্বজন ও শত শত লোকজন।

প্রিয়কের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মা ফিরোজা বেগম ছেলে ও নাতনির জন্য বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। তিনি চিৎকার করে বলছেন, আমার নাতিডা কি সুন্দর কইরা ফোনে কথা কইলো- দাদী আমরা বিমানে উঠছি, অনেক বড় ও সুন্দর বিমান, দাদী আরেক বার তোমারে নিয়া বিমানে উঠবো, আমার নাতি সেই যে বিমানে উঠলো আর তো বিমান থেকে নামলো না। আমারে কেডা বিমানে নিয়া যাইবো, আল্লাগো আমার নাতি ও পোলাডারে তুমি ফিরাইয়া দেও।

মেহেদী হাসান নেপালের একটি হাসপাতাল থেকে তার বাবা তোফাজ্জ্বল হোসেন ও মাকে ফোনে রাত আটটার দিকে জানান সে তার স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও প্রিয়কের স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি হাসপাতালে আছেন। প্রিয়ক ও তার মেয়ে তামারার কোথায় আছেন তা জানেন না । তাঁদের সামনের সারির আসনে বসেছিলেন প্রিয়ক ও তাঁর মেয়ে।’কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ল্যান্ড করার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সিটবেল্টও খুলতে শুরু করেছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ। কিছু বোঝার আগেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। বিমানটি রানওয়েতে ল্যান্ড করার পর ফের ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এরপরই ঘটে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা। এ সময় পাশের সিটে বসে থাকা তার স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বর্ণা ভয়ে কাঁপছিলেন। ভাগ্যক্রমে তারা দু’জনই বেঁচে আছেন। কিন্তু মেহেদী তখনও জানতেন না তার মামাতো ভাই এফএইচ প্রিয়ক ও প্রিয়কের তিন বছরের মেয়ে তামাররা প্রিয়কের খবর। একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া আলোকচিত্রী এফএইচ প্রিয়ক। তার স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানী আহত হয়ে কাতরাচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায়। স্বামী ও মেয়ের খোঁজ জানা নেই তারও। রাতে প্রিয়ক ও তার মেয়ে তামাররার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়।

প্রিয়কে চাচাতো ভাই লুৎফর জানান, প্রিয়ক তার পরিবার নিয়ে ছয়দিনের সফরে নেপাল যাচ্ছিলেন। তার মাকে দেখে রাখার জন্য আমাকে বারবার বলে গেছেন। গত এক বছর আগে থেকেই পরিকল্পনা করছে পরিবারসহ নেপাল বেড়াতে যাবে প্রিয়ক। প্রিয়কের শখ ছিল ছবি তোলা। এর আগে আন্তর্জাতিক একাধিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরার পুরস্কার অর্জন করেন।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET