প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে চলমান অচলাবস্থায় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এবারের মৌসুমে লিচু চড়া দামে বিক্রি হলেও ফলনে বিপর্যয়ের কারণে বাগান মালিকদের মুখে হাসি নেই। উপজেলার বাজার গুলোতে দেশী জাতের টসটসে লিচু তবে দাম তুলনামূলক অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। আর বিক্রেতারা বলছেন,সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। তবে কয়েক দিনের মধ্যে লিচুর চড়া দাম থাকবে না বলে মনে করছেন তারা। উপজেলার তাহেরপুর,ভবানীগঞ্জ ২টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নের কয়েক শত গ্রামের আবাদ হয়েছে মৌসুমী মিস্টি ফল লিচু। এ বছরে লিচুর মুকুল ব্যাপক আসাতে লিচু চাষীরা মনে করে ছিলেন এবার বাম্পার ফলন হবে লিচুর। কিন্তু এ জন্য শতশত বাগান মালিকরা লিচু উচ্চ দামে বিক্রির জন্য বাগানে প্রচুর যত্ন নিয়ে ছিলেন। কিন্তু এর সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে প্রতিয়মান হয়েছে। করোনাভাইরাস ও পরপর ৪/৫ বার ব্যাপক বৃষ্টি পাতে লিচুর বাগান লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এতে প্রায় শর্তাধিক বড় বড় বাগানের গাছ থেকে লিচু পড়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যার কারণে তারা ইচ্ছামত বাগান ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করতে পারেনি। এদিকে,মিষ্টি রসালো এই ফলে কার না মন চায়। এখন রমজান মাস। রোজায় রসনা তৃপ্তিতে দাম যতই হোক বেশী কিন্ত কিছু লিচু তো বাড়িতে নিতেই হয় শিশুদের জন্য। শিশুরা এই টুকটুকে লিচু পেয়ে বেজায় খুশি হবে। গতকাল শুক্রবার ভবানীগঞ্জে দেখা মিলে মৌসুমী ফল এই লিচুর। তবে দাম ছিল কিছুটা নাগালের বাইরে। মানভেদে প্রতি ১শ লিচু এই হাটে বিক্রি হতে দেখা গেছে ২শ থেকে আড়াইশ টাকা দরে। এই করোনা সংকটে লিচু বিক্রেতাকে ক্রেতা পেতে সমস্যা হয়নি তাদের। আশে পাশের এলাকার লোকজন যে যার মত হাটে এসে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা করে দ্রুত বাড়ি ফেরার সময় অনেকেই লিচু কিনে নিচ্ছেন। তারা জানান, বাজারের এই লিচু পুষ্ট হতে আরো ১০/১২ দিন লাগবে। বাজারে নতুন উঠেছে তাই সামান্য কিনেছেন। লিচু বিক্রেতারা জানান, তারা গোটা গাছ কিনে সেখান থেকে এই লিচু এনেছেন। আস্তে আস্তে দাম কমে যাবে, আছে করোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা। তাই না পাকতেই লিচুগুলো তারা বাজারে এনেছেন। কিন্তু এ অঞ্চল থেকে কোটি টাকা লিচু বিক্রি হলেও এবছর কত টাকা বিক্রি হয়েছে তার সঠিক তথ্য কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর ও বাগান মালিকেরা এখনো দিতে পারেনি। তবে বাগান মালিকদের দাবি দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় বাগানের ব্যাপক ক্ষতি না হলে প্রায় অর্ধকোটি টাকার উপরে লিচু বিক্রির হওয়ার সম্ভবনা ছিল।









