মোঃ সোহাগ হোসেন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বেনাপোল(যশোর): বাণিজ্যিক দিক দিয়ে ভারতের পেট্রাপোল ও বেনাপোল বন্দরের গুরুত্ব দুই দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে অপরিসিম। স্থল পথে আমদানি বাণিজ্যে সরকারকে সব চেয়ে বেশি রাজস্ব দিয়ে থাকে বেনাপোল বন্দর। তাই এ বন্দর দিয়ে যাতে ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দে আমদানি-রফতানি করতে পারে তার দিকে দুই দেশের সংশিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
বুধবার(১২সেপ্টেম্বর) বিকালে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সাথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে লক্ষ্যে পেট্রাপোল বন্দরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যৌথ বৈঠকে বেনাপোল বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম এ কথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, বাণিজ্যে গতিশীল আনতে তাদের সরকার আন্তরিক। ইতিমধ্যে বেনাপোল বন্দরে ২৫ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। আরো ৭৫ একর জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়াধীন। প্রায় একশ কোটি টাকা ব্যায়ে বন্দর অভ্যন্তরে রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও ওপেন ইয়ার্ড ও আধুনিক দুটি পণ্যগার তৈরী করা হয়েছে। যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক চালু হয়েছে। উন্নয়ন কাজ এখনও চলমান আছে।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা বলেন,ব্যবসা,চিকিৎসা ও বেড়ানোর কাজে প্রতি বছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ভারতে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন-কাস্টমসে কিছু সমস্যার কারকে তাদের হয়রানি পোহাতে হয়। এটা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা উঠে। এতে বন্ধু প্রতিম সর্ম্পক্যে বিরুপ প্রভাব পড়ে। বিষয়টি সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, বেনাপোল বন্দরে জায়গা সংকটে মারাত্বক ভাবে বাণিজ্য ব্যহত হচ্ছে। লোকশানের কবলে পড়ে ব্যবসায়ীরা অন্যবন্দরে চলে যাচ্ছে। এসংকট নিরসনে নতুন জাইগা অধিগ্রহনের কোন বিকল্প নেই।
সিঅ্যান্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারী ইমদাদুল হক লতা বলেন, ভারত থেকে আমদানির ক্ষেত্রে সেখানে সকল বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পাদনের পর আবার সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ সদস্যরা রাস্তায় পণ্যবাহী ট্রাকে তল্লাশী চালায়। এতে দ্রুত বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটে। বৈধ পথে বাণিজ্যে বিএসএফের এ ধরনের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।
ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রমেশ্বর মিনার বলেন, তারাও চায় বাণিজ্যের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক্য অটুট থাক।এক্ষেতে তাদের যা যা করনীয় তা আন্তরিকতার সাথে দেখবেন।
ভারতের পক্ষে বৈঠকে আরো ছিলেন, অলইন্ডিয়া মটর কংগ্রেস ও ফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রাক অপারেটর এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহেন্দ্র সিং গিলের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন, অলইন্ডিয়া মটর কংগ্রেসের সেক্রেটারী দিলিপ দাস, কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রমেশ্বর মিনা,পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ এ্যাসোসিয়েশনের
সভাপতি রাজু গোস্বামী,পেট্রাপোল বন্দর সিঅ্যান্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনে সেক্রেটারী কার্তিক চন্দ্র প্রমুখ।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পক্ষে অনান্যদের মধ্যে আরো ছিলেন, বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়ার সহসভাপতি নুরুজ্জামান,সাবেক সিঅ্যান্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সামসুর রহমান,সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দীন,দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম, বন্দর বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দীন,বাংলাদেশ স্থলবন্দর এমপ্লোয়েজ ইউনিয়নের সহসভাপতি মনির মজুমদার,,সিআ্যান্ডএফ স্টাফ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবর রহমান,সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, বন্দরের পণ্য খালাসকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ড্রপ কমিউকেশনের প্রতিনিধি ওহিদুজ্জামান ওহিদ, এসআইএস লজেষ্টিকের প্রতিনিধি সুলতান আহম্মেদ বাবু, ৮৯১ বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল গনি প্রমুখ।









