জামাল উদ্দিন স্বপন,কুমিল্লাঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম-আখাউড়া জংশন ডাবল লাইন নির্মানে মাটি ভরাটের কাজে ডাম্প ট্রাকগুলো অতিরিক্ত মাটি বা বালু পরিবহনের ফলে দেশের প্রধান জাতীয় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কসহ কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশা। সড়কের বিভিন্নস্থানে প্রতিনিয়ত উঠে যাচ্ছে বিটুমিন। সৃষ্ট হচ্ছে খানা-খন্দক । পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজনের ফলে মহাসড়কের বহু স্থান দেবে যাচ্ছে । এঅবস্থায় রেলওয়ে ডাবল লাইন প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লিখিত অনুরোধ করার পরও বন্ধ হচ্ছেনা ডাম্প ট্রাক । এছাড়াও ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়েও চলছে ডাম্প ট্রাক বন্ধের চেষ্টা।
সরেজমিন ঘুরে বিভিন্ন সুত্রে থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, দেশের প্রধান ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম-আখাউড়া ডাবল লাইন অংশের মাটি ভরাটের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স অতিরিক্ত মাটি বহনকারী ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করছে। এতে মহাসড়ক/সড়কের বিটুমিন উঠে যাওয়াসহ পেভমেন্ট বিধ্বস্ত হয়ে খানা-খন্দক সৃষ্টসহ দেবে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের অনেকস্থান। পাশাপাশি কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের অনেকস্থান দিয়ে এসব ভারী ট্রাক চলাচলে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কের বিভিন্নস্থান। দায়িত্বশীল একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্র জানায়,ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম-আখাউড়া জংশন ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ম্যাক্স কোম্পানী অতিরিক্ত মাটি ভরাটের কাজে মাটিবহনে বিশাল আকারের ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করছে বেশকিছুদিন ধরে। সুত্র আরো জানায়, সরকারী নির্দেশনা না মেনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর লোকজনদের ম্যানেজ করে প্রভাবশালী মাটি সরবরাহকারী চক্র ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজে ভারী ডাম্প ট্রাক দিয়ে বিভিন্নস্থানে মাটি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে । এতে প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্নস্থান। সরেজমিন ঘুরে পাওয়া তথ্যে আরো দেখা গেছে, কুমিল্লার দাউদকান্দি, সদর উপজেলার গোমতী নদীর তীরবর্তী বিবিরবাজার, দুর্গাপুর, আলেখারচর, পালপাড়া , বুড়িচং উপজেলার কংশনগর , রামপুর , ময়নামতি ইউনিয়নের ঝুমুর এলাকার ফসলী জমি থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে উত্তোলিত বালু প্রতিদিনই অতিরিক্ত ওজনের বালুবহনকারী ডাম্প ট্রাক দিয়ে মহাসড়ক-সড়কের বিভিন্ন স্থান দিয়ে লাকসাম-আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের ডাবল লাইনের মাটি ভরাটের জন্য বিভিন্নস্থানে বহন করে নিচ্ছে। এতে বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছোট-খাটো খানা-খন্দকসহ দাউদকান্দি থেকে কুমিল্লা পদুয়ারবাজার পর্যন্ত এলাকায় মাইলের পর মাইলজুড়ে ফোরলেনের উভয়দিকের সড়ক দেবে বা উচূঁ-নীচূ হয়ে গেছে । এছাড়া অতিরিক্ত ওজনের ডাম্প ট্রাকের চাপায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কসহ কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের অনেকস্থানের বর্তমানে বেহাল অবস্থা। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ময়নামতি সেনানিবাস এলাকা, ফরিজপুর , ময়নামতি রেশম প্রকল্প, কাটা জাঙ্গাল , হরিণধরা , শরীফপুর , দেবপুর , রামপুর, কংশনগর দেবীদ্বারের জাফরগঞ্জ , দেবীদ্বার সদর , মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ ,কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পদুয়ারবাজার সংলগ্ন মিস্ত্রি পুকুরপাড়, চাঁদপুর, শ্রীনিবাস, জেলখানাবাড়ি , বিজয়পুর, রতনপুর , লালমাই বাজার ,দত্তপুর , বাগমারা , জামতলী, আলীশ্বর , শানিচোঁ , হরিশ্চর , লাকসাম জংশন,লাকসাম বাইপাসসহ অনেক স্থানের সড়কের পিচ উঠে অসংখ্য বড় বড় খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। আর প্রায় প্রতিদিনই সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেসকল খানা-খন্দক ভরাট করছে ইট দিয়ে। দায়িত্বশীল সুত্র মতে এভাবে ভারী ডাম্প ট্রাক চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক,মহাসড়ক সংস্কারে বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান,ডাম্প ট্রাকে মাটি বহনের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক , মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে প্রতিদিনই সংস্কার কাজ করতে হচ্ছে। একাধিক বাস চালক ও যাত্রীরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক তেমন একটা ভাঙ্গাচোরা না হলেও বহুস্থানে সড়ক দেবে উচূঁ-নীচূ হয়ে গেছে। এতে দ্রুতগতির চালকদেও বাধ্য হয়ে গতি কমাতে হচ্ছে। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক ও কুমিল্লা-নোয়াখালী,কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের খানা-খন্দকে যানবাহন চালক ও যাত্রীদের প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্থ সড়কে ইট ফেলে খানাখন্দক ভরাট করে সাময়িকভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও সেটা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছেনা। এই যখন অবস্থা তখন সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লা’র নির্বাহী প্রকৌশলী ডাম্প ট্রাক বন্ধে লাকসাম-আখাউড়া জংশন ডাবল লাইন প্রকল্প পরিচালকসহ রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অনুরোধ করেছেন। তবুও থেকে নেই ডাম্প ট্রাকে করে মাটি পরিবহন। দিনে-রাতে সমানে চলছে মাটি বহনের কাজ ডাম্প ট্রাক দিয়ে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার বলেন, ওভার লোডেড ডাম্প ট্রাকগুলো সড়ক-মহাসড়কে চলাচলে নিষিদ্ধ হলেও সেটা তারা মানছেনা। ডাম্প ট্রাকের ফলে সড়ক-মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্থের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এজন্য ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা মেরামতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চাইতে হচ্ছে। এছাড়াও ডাম্প ট্রাক চলাচল বন্ধে আমরা বিআরটিএ’র মাধ্যমে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে এসব ডাম্প ট্রাক আটকে জরিমানা করছি। তবে কিছুতেই সেটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা।









