, , ,

শিরোনামঃ-




মানুষের সেবা করার জন্যই এ্যাম্বুলেন্সের চালক হয়েছি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : মে ০৩ ২০১৮, ১৬:০২ | 1045 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

রাশিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম থেকে:- বাড়ি কুড়িগ্রাম শহরতলির কৃষ্ণপুর গ্রামে। বাবা মরহুম মহির উদ্দিন। ফজলুল হক ৬ ভাই-বোনের মধ্যে চতুর্র্থ সন্তান। তিনি ১৯৬১ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তার সংসার জীবনে স্ত্রীসহ দুই ছেলে ও এক মেয়ে এবং নাতী-নাতনী।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ৩৩ বছর ধরে এ্যাম্বুলেন্স চালকেরন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা একেএম ফজলুল হক জানালেন ১৯৭৮ সালের ঘটনা তখন ৭ম শ্রেণীতে পড়ার সময় শহরের পুরাতন রেজিস্ট্রি পাড়ার এক লোক অসুস্থ অবস্থায় পড়ে দেখি। অসুস্থ ব্যক্তিটিকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করাই। তাকে সহযোগিতার মাধ্যমেই আমার মনে সাধ জাগে মানুষের সেবা করার। ৩৩ বছর চাকুরি জীবনে ১৮ হাজার রোগীকে বহন করেছি। তাদের অনেকে বেঁচে আছেন আবার অনেকে পৃথিবী ত্যাগ করেছেন।
ফজলুল হক চাকুরির ৩৩ বছরে জেলার উলিপুর, রাজারহাট, চিলমারী এবং কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কাজ করেন। কর্ম জীবনে প্রায় ১৮ হাজার রোগী বহন করেন তিনি। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফজলুল হক বলেন, চাকুরিতে যোগদানের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুড়িগ্রাম সফরের সময় দায়িত্ব পালন তিনি করেছেন। একজন রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসক, নার্স, আয়া, ওয়ার্ড বয়ের পাশাপাশি ভূমিকা রাখেন এই এ্যাম্বুলেন্স চালক। তবে রোগীর উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা থাকে এ্যাম্বুলেন্স চালকদেরও। তাদের কারণেই একজন মুমুর্ষ রোগীকে দ্রুত চিকিৎসা করার সুযোগ পান চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য স্টাফরা।
ফজলুল হক বলেন, এ্যাম্বুলেন্সে করে যখন কোনো গুরুতর রোগীকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ কিংবা ঢাকায় পৌঁছে দিতে পারার পর একটি জীবন বাঁচানোর সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারায় তৃপ্তি পান। তার গাড়িতে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে বা পৌঁছানোর পরে যদি শুনতে পান সেই রোগী মারা গেছে তখন তার বেদনায়ক হয়ে ওঠে সেই সময় গুলো। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে গুরুতর কোনো রোগীকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্য যার নাম উঠে আসে তিনি হলেন অ্যাম্বুলেন্স চালক ফজলুল হক। সাংসারিক জীবনে যে অবস্থায় থাকেন না কেন কোন মুমুর্ষ রোগীকে নিয়ে যাবার কথা শুনলেই ছুটতেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দীর্ঘ ৩৩বছর ধরে অবিরাম ছুঠে চলছেন ফজলুল হক।
স্মৃতিচারণে তিনি আরো বলেন, ১৯৯০সালে কুড়িগ্রাম শহরের মিস্ত্রিপাড়ার তপু মিয়ার স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন। তাকে ডেলিভারী করার জন্য রংপুর নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়ি নামক স্থানে গাড়িতেই জমজ দুটি ছেলে সন্তান প্রসব করে মহিলাটি। এখন তারা আল্লাহর রহমতে ভালই আছেন। এমনই আরেকটি ঘটনা আছে শহরের গাড়িয়াল পাড়ার আফজালের স্ত্রীর ক্ষেত্রেও ঘটে। সেটা ছিল ১৯৯৫ সালের ঘটনা। ডেলিভারী করার জন্য রংপুর নিয়ে যাবার সময় আরকে রোডের লালমনিরহাট জেলার মোস্তফী এলাকার মন্দিরের কাছে তারও জমজ দুটি সন্তান জন্ম নেয়। এদের একজন মেয়ে অপরজন ছেলে। এদের সঙ্গে আজো কোথাও দেখা হলে বুকটা ভরে যায় আমার।
কর্ম জীবনে তার কষ্টদায়ক একটা দিন ছিল ২০১৫সাল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রাম সফরে আসেন। এবং বিকেলে তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার জন্য বের হোন। এসময় গাড়ি বহরে থাকা একজন চালক হার্ট এ্যাটাক করে মারা যান। সেই মুহুর্তটা তার মনে এখনও দাগ কাটে। এছাড়াও তার চাকরি জীবনে মিথ্যে মামলার ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ২০১৬ সালে। একজন মুমুর্ষ রোগীকে নিয়ে তিনি রংপুর যাচ্ছিলেন। লালমনিরহাটের মোস্তফীরহাট আর.কে রোডে বিপরীত গামী একটি মোটর সাইকেল এসে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসময় এ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীটি মারা যান। মোটর সাইকেল আরোহী আহত হোন। পড়ে তারা ঘটনার দু’মাস পর লালমনিরহাট থানায় আমার নামে একটি মিথ্যে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবজি মামলা করেন। মামলায় তাকে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের চালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। অপরদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভুয়া সার্টিফিকেট দেখিয়ে মামলার চার্জশিট দেয়া হয়। এরপর থেকে লালমনিরহাট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দেবার জন্য যেতে হয় আমাকে। এতে করে আমার সময়, অর্থ এমনকি পেশাগত দায়িত্বে এর প্রভাব পড়ছে।
কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা: এসএম আমিনুল ইসলাম জানান, এ্যাম্বুলেন্স চালক ফজলুল হক সিনিয়র ও দক্ষ। সে সৎ-নিষ্ঠার সাথে তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন। তার দায়িত্ব নিয়ে লিখিত কিংবা মৌখিক কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET