আব্দুল আজিজ, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের হাকিমপুরে আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে জামায়াত শিবির। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের সূরার অন্যতম সদস্য ও দিনাজপুর দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা আমীর মো. আনোয়ারুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে থানা সড়ক সহ বিভিন্ন এলাকায় পোষ্টার সাটানো হয়েছে। এনিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মামলা দেওয়া হয়।
গতকাল সোমবার দুপুরে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের ছাতনি থেকে হিলি চারমাথা সড়কের দুইপাশে স্থাপিত বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কয়েক’শ পোষ্টার লাগানো হয়েছে। এসব পোষ্টারে বড় করে আনোয়ারুল ইসলামের ছবি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হিলি স্থলবন্দরের গেটে এবং থানা সড়কে ঢুকতে প্রথমেই বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে আঁঠা দিয়ে কালার পোষ্টার লাগানো হয়েছে।
ওই পোষ্টার লেখা রয়েছে, জানাজার নামাজ থেতে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের সূরার অন্যতম সদস্য ও দিনাজপুর দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা আমীর নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে মামলায় আসামী করা কোন সুশাসন এবং গণতন্ত্রের নমুনা? তার নীচের প্যারায় রেখা আছে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের সূরার অন্যতম সদস্য ও দিনাজপুর দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা আমীর এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৬ আসনে ২০ দলের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী জননেতা মো. আনোয়ারুল ইসলাম সহ সকল নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি চাই?
এদিকে দুপুর ২টার দিকে কয়েকজন সাংবাদিক থানা সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লাগানো পোষ্টারের ছবি তোলার সময় তাদের কাছে উপস্থিত হন থানার এসআই জহুরুল ইসলাম। এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, কিভাবে এখানে পোষ্টার লাগানো হলো? এমন বক্তব্যের পর তিনি পোষ্টারটি নিজ হাতে ছিঁড়ে ফেলেন।
জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী জানান, আমি দেখার পর এবিষয়ে বলব। এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এদিকে সংগঠনটির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ বলেন, এব্যাপারে আমরা পুলিশের সাথে কথা বলে জানাব।
এব্যাপারে জানতে চাইলে কয়েকজন পথচারী বলেন, আমরা সকালেও এই সড়ক দিয়ে বাজারে গেছি। তখনও পোষ্টার লাগানো দেখেছি। হয়ত কেউ রাতের আধারে লাগাতে পারে।
এব্যাপারে সাংবাদিকেরা কথা বললে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, আমি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আইজিপি স্যারের প্রোগ্রামের ডিউটিতে আছি। পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পোষ্টার লাগানোর বিষয়ে হাকিমপুরের জামায়াতে ইসলামীর আমীর এবং সেক্রেটারীকে পাওয়া না যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।









