শরীর ভেঙে পড়েছে বহু আগেই। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, অসুস্থতায় কান্ত। তবুও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে ছিল না কোনো দ্বিধা। খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-২ কেন্দ্রে এমনই এক মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন উপস্থিত ভোটার ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটার মোছা. রাবেয়া বেগমকে হুইলচেয়ারে করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা। কেন্দ্রটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় হওয়ায় সেখানে পৌঁছানো ছিল কষ্টসাধ্য। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আনসার সদস্যসহ উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে সতর্কতার সঙ্গে উপরে তুলতে সহযোগিতা করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তিনি অবশেষে ভোটকক্ষে প্রবেশ করে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোছা. রাবেয়া বেগম হাফছড়ি ইউনিয়ন শাখার ওয়াদুদ ভূইয়া সমর্থক পরিষদের আহ্বায়ক মো. বাচ্চু মিয়ার মা। শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ভোট দিতে কেন্দ্রে আসার আগ্রহ প্রকাশ করলে পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে সহযোগিতা করেন।
কেন্দ্রে উপস্থিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে কেন্দ্রটিতে ছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। ভোটারদের দীর্ঘ সারির মধ্যেও শৃঙ্খলা বজায় ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে, বৃদ্ধা রাবেয়া বেগমের ভোট প্রদান অনেকের কাছে হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার প্রতীক। উপস্থিত কয়েকজন ভোটার বলেন, শরীরের সীমাবদ্ধতা তাকে থামাতে পারেনি—এটাই গণতন্ত্রের শক্তি।
এমন দৃশ্য প্রমাণ করে, ভোটাধিকার কেবল একটি সাংবিধানিক অধিকারই নয়, এটি নাগরিক দায়িত্ব ও সচেতনতারও প্রতিফলন। বয়স ও অসুস্থতা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের এই চিত্র গুইমারার নির্বাচনী পরিবেশে এক ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে।
Please follow and like us:









