দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে আশপাশের প্রায় ৩শ একর জমির ফসলহানীর কারনে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা মানববন্ধন করেছেন।
সোমবার (৩১মে) বেলা ১১টায় উপজেলার ৯ নং হামিদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলাশবাড়ী ভাটার মোড় নামক স্থানে ঘন্টাব্যাপি এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।
ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, জেলা সম্পাদক আনোয়ার আলী সরকার, বাংলাদেশ কৃষক খেত মজুর সমিতির জেলা সভাপতি আখতার আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা সঞ্জিত প্রসাদ জিতু, নীলফামারীর বাংলাদেশ কৃষক খেত মজুর সমিতির নেতা শফিকুল আলম, ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব মাসুদ রানা, সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল আবেদীন, সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ফাত্তানুর, এরশাদ, নাজমা বেগম, আফরাজুল রহমান আপন, মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এক ইউনিয়নে ১৯ ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ৩০০ একর জমির আম ও ধানসহ প্রায় ৩০ প্রকার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ইউএনও বরাবর ৩ শতাধিক কৃষকের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি ও ২৩৩ জন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা গত ২৩ মে দেয়া হলেও কেবলমাত্র ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েই বসে আছেন প্রশাসন। এখনও কোন কার্যকর উদ্যোগ দেখছে না ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক।
বক্তারা আরো বলেন, এই ইটভাটার কারণে দিন দিন তারা নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ধানসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে যাচ্ছে। পরিপক্ব হওয়ার আগেই পঁচে ঝরে পড়ছে বাগানের আম,বিভিন্ন ফলসহ বাঁশ ঝাড়। দক্ষিণ পলাশবাড়ী ও বাঁশপুকুর মৌজার ছয়টি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় এই এলাকার ধান পুড়ে গেছে এবং বাড়ির চারপাশের আম, লিচু, জলপাই, পেয়ারা, কাঁঠাল ও অন্যান্য গাছের পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে। পুড়ে যাওয়া ফলগুলো ঝরে পড়ছে,বাগানের আমের নিচের অংশ পচে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। তাই বাগানের আমগুলো বর্তমানে বিক্রির অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এসময় তারা অভিযোগ করে বলেন,গত ১৩ ও ১৫ মে ভোরে হামিদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলাশবাড়ী ও বাঁশপুকুর মৌজার এআরবি ব্রিকস, একে ব্রিকস, সোহাগী ব্রিকস, অর্ণব ব্রিকস, একতা ব্রিকস ও জহুরা ব্রিকসের ছাড়া বিষাক্ত গ্যাস পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই মৌজার ৩০০ একর জমির ধান, ৫০টি আম বাগান, বাঁশ,লিচু বাগান, কলা, নারিকেল, পেয়ারা, জলপাই ও বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের মাঠ নষ্ট হয়ে যায়। এতে এলাকার প্রায় ২ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এভাবে প্রতিবছর এই এলাকার ফসলের ক্ষতি হতে থাকলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। তাই তাদের দাবী তারা যেন আগামীতে এ ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে সে ব্যাপারে সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আজিজুর রহনান বলেন, আগামী জুন মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না দিলে বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।









