ডুমুরিয়া এলাকার নদী খাল গুলো অধিকাংশই কয়েক বছর ধরে কতিপয় ব্যক্তি দখল করে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ও নেট পাটা দিয়ে মাছ চাষ করায় বিত্তহীন দরিদ্র মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহ দূরুহ হয়ে পড়েছে। দখলদারদের হাত থেকে খাল গুলো মুক্ত করার লক্ষ্যে ডুমুরিয়ার মোসকুড়ার খাল, ঘেংরাইল খাল, থুকড়া, মাধবকাটি, বিলপাটিয়ালা, রামকৃষ্ণপুর, রূপরামপুর, গজেন্দ্রপুর, শাহপুর ও হাসানপুর এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ গুলো জেলা প্রশাসক খুলনা বরাবর লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
প্রাপ্ত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এলাকার কৃষকদের মধ্যে অধিকাংশ লোক থুকড়া ও মাধবকাটি বিলের শেয়ার বাওয়া খাল, পচা খাল, তুলোপোতা খালসহ বিলাঞ্চলের খাল বিল হাওড় বাওড়ে মাছ ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে এলাকার মুষ্টিমেয় কিছু লোক গরীব মানুষের এই জীবিকার পথ রোধ করে ব্যক্তি স্বার্থে এসব খাল দখল করে বাঁধ নির্মান ও নেট পাটার মাধ্যমে মাছ চাষ করে আসছে। এতে এলাকার দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ গুলোর জীবন জীবিকা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, খাল গুলো উন্মুক্ত না থাকায় এলাকার কৃষকরা সুষ্ঠুভাবে ধান চাষ করতে পারছে না। সময় মত পানি নিষ্কাশনের সুযোগ না থাকায় অনেক জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতায় অনাবাদী পড়ে থাকে। ইরি-বোরো (শুকনো মৌসুমে) এসব জমি থেকে সেচ দিয়ে পানি সরিয়ে অনেক দেরীতে ফসল ফলানোর চেষ্টা করা হয়। অতি কষ্টে কৃষকের উৎপাদিত সেই ফসলও খালের চাষ করা মাছে খেয়ে ফেলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, খাল গুলো উন্মুক্ত না থাকার ফলে আমরা কৃষকেরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। আশানুরূপ ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। অধিক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয়ে যে ফসল পাই তাতে উৎপাদন খরচও উঠছে না। ইতোপূর্বেও এর সু-ব্যবস্থার দাবিতে এলাকার কৃষকরা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, মাধবকাটি বিলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা রোধ হওয়ায় স্থায়ী জলাবদ্ধতায় অন্তত দুই থেকে আড়াইশ বিঘা জমি প্রায় অনাবাদী পড়ে থাকে।
তিনি বলেন, কৃষকরা হারিতে নেওয়া এসব জমিতে ফসল উৎপাদন করে অনেক সময় হারির টাকাও উঠাতে ব্যর্থ হয়।
সরেজমিনে কোলবিল ও ঘেংরাইল নদী ঘুরে দেখা যায়, অতি সম্প্রতির অতি বৃষ্টিতে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের অধিকাংশ ডুবু ডুবু অবস্থা। দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় সীম, বরবটি, বেগুন, উচ্ছে, ঢেড়স, লাউ, কুমড়া (জালি) ইত্যাদি সব্জি গাছগুলি মরে যাচ্ছে। যৎ সামান্য যা বেঁচে আছে তাও হলুদ হয়ে গেছে। পানি অন্তত ১হাত না কমলে এই বিলে নতুন করে বীজ রোপন করা যাবে না। অথচ প্রায় ২-৩ সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পানি নিষ্কাশনের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
খাল দখল বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান খান শাকুর উদ্দিন বলেন, কৃষকদের ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান করা হবে। এলাকার চাষীরা মনে করেন পানি নিষ্কাশন বিষয়ে সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ নিলে এতদাঞ্চলের কৃষকদের কৃষি পন্য উৎপাদনের পথ সুগম হবে।








