সাভার প্রতিনিধি, ঢাকাঃ ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার পানধোয়া বাজারে পূর্ণতা জুয়েলার্স নামের এক স্বর্ণের দোকানের মালিক কার্তিক চন্দ্র ঘোষ (৩৯) আশুলিয়া থানায় স্বর্ণের দোকান লুট এবং সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্বর্ণের দোকানের মালিক লিখিত অভিযোগে মোঃ কামরুল হাসান (২৮) পিতা মোঃ আব্দুল কাদের,
মোঃ ইউসুফ আলী (৪২) পিতা মৃত জামাল উদ্দিন.
ফেরদৌস আলম (২৭), পিতাফয়জুল্লাহ, সর্বসাং পানধোয়া, থানা আশুলিয়া, জেলা ঢাকা- এদেরকে সহ আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামাকে বিবাদী করেছেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, মোঃ কামরুল হাসান নয়ন ১৪ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১২ ঘটিকার সময় তার দোকানে এসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং
চাঁদা না দিলে দোকান করতে দিবে না মর্মে জানায়। দোকান মালিক তাকে চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে চলে যায়।পরের দিন ১৫আগষ্ট (বুধবার) সকাল সাড়ে ১১টার সময়তিনি
তার বাসায় ছিলেন এবং তার দোকানে তার বড় ভাই জ্যোতি লাল ঘোষ (৪৫) ও ভাতিজা বিজয় চন্দ্র ঘোষ (১৮) দোকানে ছিলো।
এসময় বিবাদীগন তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন বিবাদী সহ লোহার রড, রামদা, হাতুড়ি ইত্যাদি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি অজ্ঞাত নাম্বারের মাইক্রোবাস সহপূর্ণতা জুয়েলার্সেরসামনে এসে তাদের দোকানের ভেতর প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে তার ভাই এবং ভাতিজার উপর হামলা করে।এসময় ২ নং বিবাদীইউসুফ হত্যার উদ্দেশ্যে তার ভাই জ্যোতি লাল লাল ঘোষ এর মাথা লক্ষ্য করে হাতুড়ি দ্বারা আঘাত করলে তার ভাই মাথা সরিয়ে নিলে তাতে তার ডান হাতের বাহুতে লেগে হাড়ভাঙ্গা গুরুতর জখম হয়।১ নং বিবাদী হত্যার উদ্দেশ্যে তার ভাইয়ের মাথায় কোপ মারলে মাথার ডান পাশে কোপ লেগে কেটে রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়।৩ নং বিবাদী ফেরদৌস আলম তার হাতে থাকা লোহার রড দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে কার্তিক চন্দ্র ঘোষ এর ভাতিজা বিজয়ের মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও জানানো হয়েছে, আসামিরা দোকানের শোকেসের গ্লাস ও সিন্দুকের তালা ভেঙে ফেলে এবং ১ নং বিবাদী নয়ন সিন্দুকে রক্ষিত লোকজনদের জন্য তৈরি করা ২৩ ভরি স্বর্ণালংকার যার আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং ২৯২ ভরি রুপার অলঙ্কার যার অনুমান মূল্য ২ লাখ ৩৩ হাজার ৬০০টাকা, ২ নং বিবাদী ইউসুফ দোকানের ক্যাশে রক্ষিত মোট ১০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ৩ নং বিবাদী ফেরদৌস আলম দোকানের শোকেসে রক্ষিত অনুমান ৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার যার মূল্য ৩ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এসময় কার্তিক চন্দ্র ঘোষের ভাই ও ভাতিজার ডাক-চিৎকারে বাজারের দারোয়ান সোলায়মান ও দ্বীন ইসলাম সহ লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে আসামিদের আনা মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে উঠে দ্রুত চলে যায়।
কার্তিক চন্দ্র ঘোষ লোকজনের সহায়তায় আহতদেরকে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। তার ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ১ নং বিবাদী নয়নের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এধরণের কোন লুটপাটের ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই এবং এমন কোনো ঘটনাও ঘটে নাই। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ইউসুফ নামের এক লোকের সাথে স্বর্ণের দোকানের মালিকের টাকাপয়সার লেনদেন ছিলো, সে ব্যাপারে ১৫ আগস্ট তারা গিয়েছিলেন দোকানে। তখন কথাবার্তার এক পর্যায়ে দোকানের ভেতরে থাকা তারার আগে আক্রমণ শুরু করে এবং এই ঘটনা চক্রে তাদের সাথে হাতাহাতি মারামারি হয়। কিন্তু প্রকাশ্য দিনের বেলা একটা বাজারে এরকম দোকান লুটপাট করার অভিযোগ সম্পূর্ণ অযোক্তিক, মিথ্যা এবং বানোয়াট।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল আউয়ালের মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটা নিয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং থানায় মামলা হবে।









