নওগাঁর বদলগাছীতে আশ্রয়ণ প্রকল্প একটি লাভজনক প্রকল্পে পরিনত হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলার পর লোকজন সেখানে বসবাস করছে কি না এটা দেখার নেই কোন প্রশাসন। তারপরেও গ্রহণ করা হচ্ছে অপরিকল্পিত আশ্রয়ণ প্রকল্প। প্রকল্পের বর্তমান চিত্র দেখে লক্ষ্য করা যায় ভূমিহীনদের বসত দেওয়া নয়, পকেট পূজার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হচ্ছে এই প্রকল্প। এ প্রকল্পে পাওয়া যায় মোটা অংকের বরাদ্দ । আর এই সুযোগ নিয়ে সমাজের এক শ্রেণির সুযোগ সন্ধানীরা জলাশয় ভরাট ও কৃষি জমি ভরাট করতে মেতে উঠেছে আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলার প্রতিযোগিতায়।
এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউপির বনগ্রাম মাঠের ঐতিহ্যবাহী হাস্তা বিলে। এই বিলে বদলগাছী উপজেলা প্রশাসন ও আক্কেলপুর উপজেলা প্রশাসন ইতিপূর্বে ৪টি আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তুলেছে। এই দুই উপজেলার সীমানা নিয়ে সৃষ্ট হাস্তা বিলে চলতি অর্থ বছরে আক্কেলপুর উপজেলা প্রশাসন আরও একটি বিশাল আকৃতির আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই আশ্রয়ণ প্রকল্প ও তার গা ঘেঁষে হাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি অবৈধভাবে কৃষি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করছে। এতে দেওয়াল সৃষ্টি হওয়ায় মাঠের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হতে চলেছে। হচ্ছে আবারও নতুন আশ্রয় কেন্দ্র।
এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, কয়েক বছর আগে হাস্তা বিলের বদলগাছী অংশে ২টি আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। এতে নির্মাণ করা হয়েছে ২৭০টি ঘর। বসবাস করছে ৭০/৭৫টি পরিবার। প্রায় ২০০টি ঘর ফাঁকা রয়েছে। লোকজন না থাকায় মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে ব্যারাক। হাস্তা বিলের আক্কেলপুর অংশে ইতিপূর্বে ২টি আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে ৩০টি ঘর। সেখানে সবাই বসবাস করছে। আর একটিতে রয়েছে ১৮ ব্যারাকে মোট ৯০টি ঘর। এই ব্যারাকে বসবাস করছে ২০/২৫টি পরিবার। অধিকাংশ ব্যারাক ফাঁকা রয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে লোকজন থাকছে না। তারপরেও তার পাশে আরও একটি নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের মাটি ভরাট কাজ প্রায় সমাপ্ত হয়েছে। অপরদিকে, পাশেই খনন করা হয়েছে অবৈধ একটি পুকুর। আবাসন আর পুকুরের বেড়াজালে মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এমন আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পরেছে ঐ এলাকাবাসীরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে বসবাসের ভালো পরিবেশ নেই। নেই তাদের কর্মসংস্থান । আশেপাশে কোনো গ্রামও নেই যে তারা অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করবে। নানাবিধ সমস্যার কারণে আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে লোকজন বসবাস করতে চাইছেনা। আর যাদেরকে বসবাস করার জন্য ঘর বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে সে সকল পরিবারের সকলেরই গ্রামে রয়েছে বাড়ী-ঘর। তাই তারা আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলিতে ঘর বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করছে গ্রামে।
আশ্রয়ণে বসবাসরত রইচ উদ্দিন ও সুমন জানায়, তারা আশ্রয়ণ প্রকল্পেই বসবাস করছে। কিন্তু অধিকাংশ পরিবার এখান থেকে গ্রামে চলে গেছে। কারণ তাদের গ্রামে রয়েছে বাড়িঘর । লোকজন এই আবাসনে বসবাস না করায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংযোগ দিয়ে আবার মিটার খুলে নিয়ে গেছে। দুই উপজেলা মিলে যে ৪টি আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে। আর এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে যতগুলি পরিবার থাকার কথা তার ৩ ভাগের এক ভাগও নেই। তারপরেও সেখানে আবারও নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ একটি স্বার্থান্নেষী মহল লাভের আশায় বিলের অস্তিত্ব ও কৃষি জমি ধ্বংস করে একের পর এক আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এতে করে সংকটের মুখে পড়ছে জীব-বৈচিত্র। সেই সাথে বন্ধ হতে চলেছে মাঠের পানি নিষ্কাষনের পথ।
এবিষয়ে কোলা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম স্বপন জানায়, সে এলাকাবাসীর মুখে শুনেছে আক্কেলপুর উপজেলা থেকে একটি নতুন আশ্রয়ণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং তার পাশেই একটি অবৈধ পুকুর খনন করা হচ্ছে। একারণে বর্ষা মৌসুমে মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
এবিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাঃ আবু তাহির এর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, যেহেতু এটা আন্তঃ উপজেলা সমস্যা। মাঠে যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় এক্ষেত্রে আক্কেলপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে কথা বলবেন।
এবিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকিউল ইসলাম এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, মাঠে জলাবদ্ধতা যেন সৃষ্টি না হয় সে ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। পুরাতন আশ্রয়ণগুলিতে অনেক ব্যারাক ফাঁকা রয়েছে। সেখানে লোকজন থাকে না। তাহলে নতুন প্রকল্পে কাদেরকে বসবাস দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আপনার কী কী জানার প্রয়োজন সব তথ্যই দেওয়া হবে আপনি অফিসে আসেন।









