দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে যাত্রীবাহী (মেইল) বাসের যাত্রীদের সাথে বাকবিতন্ডা ও যাত্রীদের মারধরের প্রতিবাদে ৪ ঘন্টা ব্যাপী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবোরধ করে রাখেন স্থানীয়রা। রোববার (২২ফেব্রুয়ারী) ফুলবাড়ী উপজেলার লক্ষিপুর নামক এলাকায় এই সড়ক অবরোধ করেন তারা।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, যাত্রীবাহী (মেইল) বাসের যাত্রীদের নির্ধারিত গন্তব্যে নামিয়ে না দেওয়ায় সুপারভাইজার (কন্টাক্টর) এর সাথে বাকবিতন্ডার জেরে ২ যাত্রীকে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় নিয়ে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বাস শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলবাড়ী উপজেলার লক্ষিপুর এলাকায় অবরোধ করে রাখেন। ৪ ঘন্টা পর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওই যাত্রীদের উদ্ধার করা হলে দোষীদের বিচারের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় এলাকাবাসী। এসময় মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৮ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। এঘটনায় শতশত যানবাহন আটকা পড়ে থাকে। এতে দুর্ভোগে পড়েন রোযাদার নারী-পুরুষ, শিশুসহ দূর-দূরান্তের যাত্রীরা। পরে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান, ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর ইসলামসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪ ঘন্টার পর বিকেল ৫টায় ওই দুই যুবককে উদ্ধারের পর বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ।
জানা যায়, দিনাজপুর থেকে ফুলবাড়ীর লক্ষিপুরের উদ্দেশ্যে দুপুর ১২টায় মেইল বাসে ওঠেন ৫নং খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের লক্ষিপুর বাজার এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে মহসীন আলী (২৮) ও একই এলাকার সেকেন্দার আলী ছেলে সুলতান আলী (২৫)।
এসময় বাসের সুপারভাইজার (কন্টাক্টর) তাদেরকে লক্ষিপুরে নামিয়ে দেয়ার কথা বলে গাড়িতে ওঠান। কিন্তু লক্ষিপুরে গাড়ি না থামিয়ে পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলায় নামিয়ে দিতে চাইলে সুপারভাইজারের সাথে যাত্রীদের বাকবিতন্ডা শুরু হয় । একপর্যায়ে গাড়িতে বাসের লোকজনের সাথে ওই যাত্রীদের হাতাহাতিও হয়। এসময় গাড়ি না থামিয়ে ওই দুজনকে বিরামপুর বাসস্টান্ড নিয়ে মারধর করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় । এ খবর লক্ষিপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুপুর ১টায় দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের লক্ষিপুর এলাকায় অবরোধ করে।
এঘটনায় আহত মহসীন আলী ও সুলতান আলী জানান, তারা দিনাজপুরে বাসে ওঠার সময় তাদেরকে ফুলবাড়ীর লক্ষিপুর বাজারে নামার কথা বলে উঠেছি। লক্ষিপুর পর্যন্ত ভাড়াও দিয়েছি। কিন্তু লক্ষিপুর বাজারে এসে তারা বাস না থামিয়ে বিরামপুর উপজেলায় নিয়ে যেতে চাইলে প্রতিবাদ করি। কারণ লক্ষিপুর বাজার থেকে বিরামপুর প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে তারা অশালীন ভাষা ব্যবহার করে। তাদের সাথে হাতাহাতি হলে তারা বাস না থামিয়ে বিরামপুরে নিয়ে যায়। সেখানে বেঁধে আমাদেরকে রড, পাইপ, লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাথারি মারধর করে। পরে তাদেরকে ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়া হয়। একপর্যায়ে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে মহাসড়ক অবরোধ হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। লক্ষিপুর বাজারে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ দফায় দফায় অবরোধকারীদের সাথে আলোচনা করলেও কোন সমাধান করতে পারেনি। পরে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিনিধি পাঠিয়ে বিরামপুর থানা থেকে আটক ওই দুই যাত্রিকে ছাড়িয়ে আনা হয়।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশের ফুলবাড়ী ও বিরামপুর সার্কেল অফিসার, বাস মালিক শ্রমিক পক্ষ, ভুক্তভোগী যাত্রীসহ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসে সমাধান করা হবে।
Please follow and like us:









