, , ,

শিরোনামঃ-




ভীনগ্রহী দেবী: আদিল মাহমুদ

নজরুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা করেসপন্ডেন্ট,ফেনী।

আপডেট টাইম : জুন ০২ ২০২০, ০৯:০৬ | 1033 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

“ভীনগ্রহী দেবী”

 

ছোট্ট একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি আমি, আমার স্ত্রী ও দুই ছেলে। সুখী পরিবার আমাদের, যা বেতন পাই তা দিয়ে আমাদের সংসার ভালোই চলছিল। রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত তখন ০২:১০ ঘটিকা, চারিদিক নিস্তব্য, পাশে সড়ক থাকলেও কোন গাড়ি বা রিক্সা চলছিল না। হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল, একবার বাজাতে চুপ করে থাকলাম, দ্বিতীয় বার যখন বেজে উঠে, স্ত্রীর চেচামেচিতে তাড়াতাড়ি উঠি এবং দরজার পাশে গিয়ে বলি কে, কে এতো রাতে! দরজার ওপাশ থেকে প্রতিধ্বনী আসে স্যার আমি হান্নান। হান্নানের কন্ঠ আমি চিনি, আমার সাথেই চাকুরী করে, তাই দেরী না করে দরজা খুলে দেই। বল্লাম, কি ব্যাপার হান্নান কিছু কি ঘটেছে? জবাবে সে আমার ডান হাতটি স্পর্শ করল। হান্নানের স্পর্শে মনে হলো আমার সারা শরীর বিদ্যুতায়িত হলো।

 

আদিল এবার ঘুম থেকে উঠো, এই কথাটা কানে আসতেই ধরমর করে উঠে বসি, চারিদিকে তাকাই। দেখি যে, একজন মানুষ আমার সামনে দাড়িয়ে, আমাকে বললো, “আমাকে তুমি চিনবে না, তবে আমি তোমাকে চিনি, তোমার সম্বন্ধে সব জানি”। বললাম আপনার পরিচয়, জবাবে ভদ্রলোক বললো, “আমার নাম “শান্তি”, আমি শান্তির দূত, পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে দেবার জন্য তোমাকে এনেছি”। ভদ্রলোক মার্জিত বাঙলা ভাষায় কথা বলছে, মনে হচ্ছে খাঁটি বাঙালী। কিন্তু আমার ধারনা সম্পূর্ন ভুলে পর্যবেশিত হলো, দেখলাম সে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেল, আমি হতবাক হয়ে গেলাম। আমি যে রুমে ছিলাম সেটা আদৌ কোন রুম ছিল না, একটি বিজ্ঞান গবেষনাগার। চারিদিকে তাকিয়ে দেখি শুধু যন্ত্র আর যন্ত্র। আমার বুঝতে বাকি রহিল না, বড় কোন বিপদে আটকা পড়েছি, কারন এই ঘর থেকে বের হওয়ার কোন দরজা ছিল না।

 

ভিতরে পর্যাপ্ত আলো তবে কৃত্রিম, আবদ্ধ ঘর বাহির থেকে আলো আসার এতটুকু সম্ভাবনাও নেই। আমি কৌতহল বশত: এদিক সেদিক একটু হাঁটা-হাঁটি করতেই চোঁখে পড়লো একটি ২০/২২ বৎসরের সুন্দরী মেয়ে, নীল আখি, সুমধুর কন্ঠে আমাকে বললো, “তুমি ভয় পেওনা আমরা তোমায় নিয়ে তোমাদের পৃথিবীকে পরীক্ষা করছি, আর তুমি খাওয়া দাওয়ার চিন্তা করো না, আমাদের এখানে কাউকে খেতে হয় না, সবাই প্রকৃতি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। তাই তোমাকেও আমরা আমাদের প্রকৃতির সাথে মিশিয়ে ফেলেছি, ওয়াশ রুমের প্রয়োজন হবে না, আলো কখনো যাবে না, এই আলো ওয়্যারলেস ইলেকট্রিসিটি থেকে পাওয়া, যা আমরা লক্ষত্র থেকে সংগ্রহ করি”। মেয়েটির কথায় আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। আমার ভয় বলতে এতোক্ষন যে শক্তিটা কাজ করছিল, মেয়েটির মধুময় কথায় সব ভুলে গেলাম। ভুলে গেলাম আামর অতীত, মনে হয়েছিল, আমার মৃত্যুর পর আমি বেহেস্তে পৌছেছি, আর যার সাথে কথা বলছি সে বেহেস্তেরই কোন হুর। কারন, এতো সুন্দর মানুষ হতে পারে তা কোনদিন কল্পনাও করতে পারিনি! মনে হলো, সে আমার যুগ যুগ ধরে চেনা আপন কেহ, প্রথম দেখায়ই ভালো লাগলো। একটু মুচকি হেসে মেয়েটি বললো, আবেগ সংযত করো, না হয় তুমি কষ্ট পাবে। আমি ওর কথা বুঝতে পারলাম না, অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম যেন আমি একটি ছোট্ট শিশু। মেয়েটি বললো, কিছু ভাবার আগে চিন্তা করবে, তাতে তোমার মঙ্গল হবে। আমি বললাম, আমিতো কিছুই বুঝতে পারছিনা, আমি কি ভুল কিছু করেছি! প্রতুত্তুরে মেয়েটি বললো, আমার নাম “নিরপেক্ষ”, অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে শুন, তুমি যাই ভাবনা কেন তার সবই আমি কেন আমাদের এই বিজ্ঞানের সবাই তা শুনতে পায়, কারন, তোমার মস্তিষ্কের সাথে আমাদের মস্তিষ্কের সংযোগ ঘটানো হয়েছে, তাই তুমি যাই ভাববে তাই আমরা বুঝব, কিন্তু আমরা যা ভাবব সেটা তুমি বুঝবে না, সেই সুইচ আমরা বন্ধ করে রেখেছি। এইতো দেখি মহা বিপদ, মনে ভেবেই আবার স্তব্দ হয়ে গেলাম। কারন, এখানে কিছু ভাবাও যাবে না। কিছু ভাবনা আসলে কতোক্ষন বন্ধ করে রাখবো! আবার “নিরপেক্ষ” বললো, তুমি চাইলে তোমার ভাবনার ক্ষমতাও আমি বন্ধ করে দিতে পারি, দিব? আমি বললাম না, আমাকে ভাবার সুযোগ দিন। মনে আসলো আমি এখন কোথায়, কোন জগতে, আবার :শান্তি”ই বা গেল কোথায়, ওরা কি মানুষ না অন্য কিছু! আবার জবাব, আমরা তোমাদের চেয়ে ভিন্ন প্রাণী তবে মানুষের মতোই কিন্তু মানুষ নই। আমরা প্রকৃত মানুষ, আর তুমি এখন যেখানে আছো এটাও পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ নাম ‘সচেতন’। এই গ্রহটি তোমাদের প্রথিবী থেকে ১০ কোটি আলোক বর্ষ দূরে, তাই তোমার মনে হতে পারে তোমার জীবদ্দশায় তুমি কোনদিনও তোমার প্রিয় পৃথিবী, তোমার বউ, বাচ্চা তাদের নিকট ফিরে যেতে পারবেনা। কিন্তু তোমাকে শান্ত রাখতে সত্যি কথাটা বলি। পৃথিবী এখান থেকে ১০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে হলেও আমাদের, পৃথিবীতে যেতে সময় লাগে মাত্র ১০ মিনিট, আর এই দশ মিনিট তোমাদের পৃথিবীর একশত বৎসরের সমান, অবাক হওয়ার মতো কথা তাই না! আমি চুপ হয়ে থাকলাম। কারন, আমি জানি কথা বলা আর না বলা সমান কথা, সবই তারা বুঝে ফেলে। একটু পরেই “শান্তি” এসে হাজির। “নিরপেক্ষ”কে বললো ও কি বলতে চায়, এই পরীক্ষাগার থেকে বের হতে চায় নাকি? “নিরপেক্ষ” বললো এই চিন্তা এখনো ওর মাথায় আসেনি, তবে চলুন ওকে নিয়ে জগৎটা দেখিয়ে আনি। “শান্তি”বললো আচ্ছা, তাহলে তুমি ওকে সবকিছু দেখিয়ে আনো, আমি বরং কিছু কাজ করি।পরীক্ষাগারের ভিতরেই চার আসনের একটি অদ্ভূত যান দেখতে পেলাম। “নিরপেক্ষ” আমাকে নিয়ে সেই যানটিতে উঠে বসলো। যানটি চলছিল কিনা বুঝা যাচ্ছিল না। একসময় যানের দরজা খুলে গেল, আমাকে নামতে বলা হলো। আমি কথা মতো যান থেকে বের হলাম। নামতেই দেখি, হাজার হাজার প্রকৃত মানুষ সমুদ্রের পাড়ে অপেক্ষায় আছে, আমাকে দেখতেই করতালি দিয়ে আমাকে অর্ভ্যথনা জানালো। একটি অতি সুন্দর আসনে আমাকে বসানো হলো, তারপর “নিরপেক্ষ” জন সমাবেশে ভিন্ন ভাষায় বক্তব্য দিল যার কিছুই আমি বুঝতে পারলাম না। অত:পর আমাকে সবাইর উদ্দেশ্যে কিছু বলতে বললো। নিরুপায় হয়ে বললাম, আমি কোথায় আছি জানি না তবে, আপনারা সত্যিই আমাদের মতো পৃথিবীর মানুষের চেয়ে অনেক সভ্য, উন্নত ও সুশ্রী। আমার কথায় তারা অনেক খুশী হলো এবং বললো আমরা চাই তুমি সারা জীবন আমাদের এখানে থাকো।

 

হঠাৎ আমার দৃষ্টি যায় উপরের দিকে, তাকিয়ে দেখি লক্ষ লক্ষ যান দ্রুত আসছে আবার অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে, তা দেখে আমি হতবাক, একটির সাতে আরেকটি লাগছে না। “নিরপেক্ষ”কে জিজ্ঞেস করায় বললো, প্রতিটি যানে প্রকৃত মানুষরা তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় ভ্রমন করে তবে, কোন দূর্ঘটনা কখনোই ঘটে না, কারণ সবই অতি সুপার কম্পিউটাররাইজে সুনিয়ন্ত্রিত করা। আরো জানতে চাইলাম ওরা এতো দ্রুত গতিতে কোথায় যাচ্ছে। জবাবে বললো, আমরা প্রকৃত মানুষ সর্বমোট ১২টি গ্রহে বসবাস করি। কোনটি অন্য নক্ষত্রের মধ্যেও অবস্থিত, তাই এই মাধ্যমেই আমরা একে অপরের সাথে দেখা করি। অবাক হলাম পৃথিবীর মানুষের কথা ভেবে, আমরা কোথায় থাকি আর ওরা কোথায় থাকে!

 

অত:পর, “নিরপেক্ষ” আমাকে নিয়ে তার বাসায় গেল। বাসায় তার বাবা মা ছাড়াও দুই ছোট বোন ও এক ছোট ভাই আছে। আমাকে দেখে ওনারাতো অবাক! “নিরপেক্ষ” সব বুঝিয়ে বললো। ওনারা আমার সাথে খুবই অমায়িক আচরণ করলো। জানতে, পারলাম ওর বাসা “সুবিচার” নামক গ্রহে। অথচ আসতে পাঁচ মিনিটও লাগেনি! এভাবে অনেক সময় কেটে যায়, তবে কতো সময় তা বলা যায় না। কারণ, আমাদের পৃথিবীর সময়ের সাথে এখানকার সময়ের তুলনা করা যাবে না। কারন, এখানে সময় ধীর গতিতে চলে। এখানে ক্লান্তি, অবসন্নতা, ঘুম, রাগ, হিংসা, ক্ষুদা বলতে কিছুই নেই, প্রকৃতি ও জ্ঞান থেকে তাঁরা সব কিছু পাচ্ছে। তাই তাঁরা সমস্ত সময়কে কাজে লাগাতে পারে। আরো জানতে পারি, ওদের আয়ুষ্কাল ওরা বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে এবং রোগ ব্যাধি প্রতিরোধক সমস্ত ঔষধ তাদের রয়েছে।

 

এভাবে বেশ সময় পার হয়ে যায়, নিজের বাসার কথা মনে পড়তে যাকে, “নিরপেক্ষ” তা বুঝতে পারে। একদিন আমাকে বলে তুমি কি এখানে থাকতে চাচ্ছ না? আমি তার কথার উত্তর না দিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলাম। ভাবলাম এরা এতো ভাল কেন? তাছাড়া “নিরপেক্ষ” এর আচার, আচরণ, সৌন্দর্য্য আমাকে বিমোহিত করে ফেলে, আমি আমার সত্ত্বাকে হারিয়ে ফেলি এবং “নিরপেক্ষ”কে ভালবাসতে থাকি। “নিরপেক্ষ” ও আমার মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য ছিল না শুধু জ্ঞান ছাড়া। “নিরপেক্ষ” আমার সব মনের কথাই বুঝতে পারতো, তাই সেও আস্তে আস্তে আমার প্রতি দুর্বল হতে থাকলো। এভাবে অনেক সময় পার হয়ে গেলো, একসময় আমি কিছু বলার আগেই “নিরপেক্ষ”আমাকে বলে, শুন আজ তোমাকে কিছু কথা বলি, কারন তোমার সব আমি জানি, কিন্তু তুমিতো আমার কিছুই জাননা। তবে শুন, আমার বয়স তোমাদের হিসাবে ৩০ বৎসর। এখন থেকে একই ভাবে ১০ বৎসর আগে আমাকেও “মায়া”গ্রহ থেকে আনা হয়েছিল ঠিক তোমার মতো করে। সেই গ্রহ, এখান থেকে তোমাদের পৃথিবী যত দূরে তার চেয়েও অনেক বেশি দূরে। আমি এখানে আসার পর ওদের ভালবাসা পেয়ে আর আমার গ্রহে যেতে চাইনি। কারণ, একদিকে ছিল এদের ভালবাসা, অন্যদিকে আমার গ্রহে আমার বাবা, মা, ভাই-বোন বলতে কেহ ছিলনা। তাই, আমার যাওয়ার আর ইচ্ছে হয় নি। কিন্তু তোমারতো সব আছে, তবে, তুমি কেন আমার জন্য এখানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছ! যদিও আমি নিজে থেকে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি। এই কথা শুনে আমি খুশিতে আত্মহারা, তাও আবার সে বুঝতে পারে। আমাদের ভালবাসা কিন্তু ঐ সব গ্রহের সবাই জানতো, তথাপি তাঁরা সুযোগ দিয়ে ছিল। “নিরপেক্ষ”, “শান্তি”দের সমস্ত বিজ্ঞান চর্চা আয়ত্ব করেছিল। তাই সে আমাকে আমার বউ, সন্তানের কাছে পৌছে দেবার সংকল্প করলো, কিন্তু আমি তা জানতাম না। কারন, আমিতো আর তার মনের কথা বুঝতে পারতাম না। একসময় সে আমাকে একটি চশমা দিল যা দিয়ে কঠিন ও অস্বচ্ছ পদার্থের ভিতর দিয়ে মহাশূনের সব দেখা যেতো এবং একটি পোষাক দিল যা পড়লে আমি অদৃশ্য হয়ে যেতে পারতাম। আর বললো মনে রেখো মহা বিশ্বে অসম্ভব বলে কিছু নেই। মহা বিশ্বের যেমন শেষ নেই তেমনি গতির ও শেষ নেই। তোমাদের কাছে আলোর গতি দ্রুত অথচ আমাদের কাছে তুচ্ছ। আমি বললাম এগুলো কেন দিচ্ছ, বললো তুমি পৃথিবীতে চলে যাও, আমি তোমাকে পৌছানোর ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আমি বললাম, না আমি তোমাকে ছেড়ে যাবো না, ও বললো শুন তোমাকে পৌছে দেওয়ার ব্যাপারটা “শান্তি”রা কিছুটা মেনে নিলেও আমার যাওয়াটা কক্ষনো মেনে নেবেনা। কারন, তাদের বৈজ্ঞানিক সমুদয় অগ্রযাত্রা আমার জানা। তাই তারা কখনোই চাইবে না তাদের এই শিক্ষা অন্যদের হস্তগত হউক। কিন্তু আমি রাজি হলাম না, বললাম, তোমাকে ছাড়া আমি কোনদিনও যাবনা, আমার সব ভালবাসা আমি তোমার মাঝে হারিয়ে ফেলেছি। ও বললো, এখানে আমার বাবা, মা, ভাই-বোন আজ ১০ বৎসর আমাকে আদর, ভালবাসা দিয়ে আগলিয়ে রেখেছে, তাদেরেই বা কি হবে, তাছাড়া তোমার সমস্ত ভাবনা “শান্তি”দের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, তাই আমার চিন্তা বাদ দাও, না হয় তুমিও আর ফিরতে পারবেনা! ঘটনা তাই ঘটলো, “শান্তি”তার দলবল নিয়ে হাজির হলো এবং আমাকে সহ “নিরপেক্ষ”কে আটক করলো। আমি আমার আটকে কষ্ট পাচ্ছিলাম না কিন্তু “নিরপেক্ষ”এর আটকে মর্মাহত হলাম। বেচারি আমার জন্য আজ মহা বিপদে পড়লো। “নিরপেক্ষ” তাদের কাছে অনুরোধ করলো এই বলে যে, তার বন্দিদশা সারা জীবন সে মেনে নেবে বিনিময়ে আমাকে পৃথিবীতে আমার বউ, বাচ্চার কাছে পৌঁছে দিবে। এক পর্যায়ে “নিরপেক্ষ” এর অনুরোধ তারা ফেলতে পারলোনা। আমাকে পৃথিবীতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হলো। আমার ভালবাসা “নিরপেক্ষ” এর প্রতি কতটুকু ছিল জানি না তবে, “নিরপেক্ষ” যে আমাকে পাগলের মতো ভালবেসে ছিল তা বুঝলাম যখন জানতে পারলাম যে, “নিরপেক্ষ” তার সমন্ত জ্ঞান আমার ভিতর ঢুকিয়ে দিয়েছিল। তার আর কোন উন্নত জ্ঞান ছিলনা, সে আমার মতোই সাধারণ মানুষে পরিনত হয়ে ছিলো। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এবং “শান্তি”দের সব পরিকল্পনা আমি এমনিতেই জানতে পারলাম কারন, আমার মস্তিষ্কেই এখন “নিরপেক্ষ” এর সব জ্ঞান। তাই এক নিরবিচ্ছিন্ন সময়ে সবার অগোচরে, আমি নিরপেক্ষকে ঔষধের মাধ্যমে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম এবং তৃতীয় চন্দ্র তিথীতে “নিরপেক্ষ”কে নিয়ে পৃথিবীতে আসা যানে উঠলাম।

 

কিন্তু ভাগ্য অপ্রসন্ন, শেষ রক্ষা হলো না, আমার সমুদয় পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে গেল, তারা দ্রুত আমাদের যানের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিল। কিন্তু “নিরপেক্ষ”এর দেয়া জ্ঞানের ফলে তারা সফল হলো না। আমি নিরপেক্ষকে নিয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু “শান্তি”দের কলা কৌশলের কাছে পরে হেরে গেলাম। তারা আমার কাছ থেকে জ্ঞান হারা “নিরপেক্ষ”কে ছিনিয়ে নিয়ে গেলো। আমি নিরপেক্ষকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রানপণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলাম। কারণ, যানটি দ্রুত গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটছিল, যানের নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে আর ছিল না। তখন, বুঝতে পারলাম “শান্তি”রা নিরপেক্ষ এর জ্ঞান ফিরিয়ে এনে আমাকে দেয়া “নিরপেক্ষ”এর সমস্ত উন্নত জ্ঞান পুনরায় ফিরিয়ে নিয়েছে কিন্তু আমার পৃথিবীতে আসার ব্যাপারে কোন প্রকার অসুবিধা হচ্ছিলো না! বুঝতে আর বাকি রহিলোনা, “নিরপেক্ষ”ই “শান্তি” দের সাথে আপোস করে আমাকে বাঁচিয়ে রাখছে এবং পৃথিবীতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। “নিরপেক্ষ”এর কথা ভেবে খুব খারাপ লাগছিল কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার, কোন ক্ষমতাই আমার অবশিষ্ট ছিল না!

 

অবশেষে, যখন পৃথিবীর বাসায় পৌছলাম দেখি আমার স্ত্রী দরজার সামনে দাড়িয়ে, বললো এক ঘন্টা ধরে দরজা খুলে বসে আছি, তোমার কি কোন কান্ড জ্ঞান নেই! অবাক লাগলো ওর কথা শুনে, সত্যিইতো আমি যখন বাসা থেকে বের হচ্ছিলাম তার থেকে এক ঘন্টা দেরি হয়েছে। তাই বউকে কিছু না বলেই, সমস্ত কিছু গোপন রাখলাম। আমার জ্ঞান আমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রহিল। কিন্তু “নিরপেক্ষ”কে কোনদিনও ভুলতে পারি নি, পারার কথাও না। নিরপেক্ষ বেঁচে আছে কিনা তাও জানি না। কিন্তু আমার বিশ্বাস যদি সে বেঁচে থাকে তবে একবার হলেও আমাকে দেখতে আসবে। তাই, রাত হলেই নক্ষত্র, গ্রহের দিকে তাকিয়ে থাকি আর বলি, হে খোদা তুমি ওকে বাঁচিয়ে রেখো এবং একবারের জন্য হলেও ভালো মানুষটাকে দেখতে দিও।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET