বাংলাদেশে মানুষ যতই বাড়ছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে দশগুণ হারে বাড়ছে মশা ! আর মশা বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে মশাবাহিত নানান জটিল রোগ। সমগ্র পৃথিবীতে ৩০০০-এর অধিক প্রজাতির মশার বসবাস। এই মশাদের কোনো কোনো প্রজাতির মশা জীবন বিধ্বংসী রোগ যেমন- ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইয়েলোফিবার ও এনসেফালাইটিস প্রভৃতির শক্তিশালী বাহক হিসেবে ভূমিকা রাখে। মশার অন্য সদস্যরা মানুষকে দংশন করে যন্ত্রণাদায়ক অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করে।
পূর্ণাঙ্গ মশা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে, অতঃপর ১-২ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে লার্ভা বের হয়। লার্ভা ৪টি দশা অতিবাহিত করার পর পিউপাতে রূপান্তরিত হয়। পিউপা হতে ১-২ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মশার জন্ম হয়। তাই মশার বংশ নির্বংশ করতে হলে প্রথম পদক্ষেপটি আমাদেরকেই নিতে হবে। মশা যাতে তাদের বংশ বিস্তার করতে না পারে সেজন্য তিন দিনের বেশি জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে। বাড়ির চারপাশ পরিস্কার রাখতে হবে। বাসগৃহের অভ্যন্তরে ফুলের টব, পানির ড্রাম, এসি ও ফ্রিজের পিছনের জমানো পানি নিস্কাশন করতে হবে।
পৃথিবীতে বসবাসকারী হাজারো উপকারী প্রাণীর ভিড়ে মশা হলো মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রাণী। নিজে ও পরিবারের সবাইকে সুস্থ্য রাখতে মশার কামর থেকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। বর্তমানে ঢাকাসহ সারা দেশে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় এর নিয়ন্ত্রণ হুমকির মুখে রয়েছে। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মশার বিস্তার রোধে কাজ করলেও তা যথার্থ নয়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সারাবছরই মশার বিস্তার রোধে কাজ করে থাকে তবুও মশার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। চারিদিকে ময়লা আবর্জনা ফেলা, খাল দূষণ ও সচেতনতার অভাবে ঢাকায় বাড়ছে মশার উপদ্রব ও মশাবাহিত রোগ। এখনই মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে মশা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটাবে সেটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় !
শিক্ষার্থী, শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ।
স্টাফ রিপোর্টার,নয়া আলো ডট কম।
সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা৷









