সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামানের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, তিনি ছিলেন এমন একজন গণমানুষের নেতা, যার রাজনৈতিক দর্শন, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আজও সিরাজগঞ্জবাসীর স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে আদর্শভিত্তিক রাজনীতির যে সংকট দেখা দিয়েছে, সেখানে মির্জা মোরাদুজ্জামানের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরে মির্জা মোরাদুজ্জামান স্মৃতি সংসদের আয়োজনে তাঁর ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামানের জ্যেষ্ঠপুত্র ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, মির্জা মোরাদুজ্জামান আজও সিরাজগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে নির্দ্বিধায় নিজেদের কথা বলতে পারতেন। তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শকে ধারণ করতেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনকে লালন করতেন। এ কারণেই তিনি মানুষের ভালোবাসায় আজও স্মরণীয়।
তিনি আরও বলেন, মির্জা মোরাদুজ্জামান একদিনে নেতা হয়ে ওঠেননি। তিনি কৃষক আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও জনসম্পৃক্ততার কারণেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখনো তাঁর আদর্শকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মির্জা মোরাদুজ্জামানের রাজনৈতিক জীবন ছিল ত্যাগ, সংগ্রাম ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দলীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে সিরাজগঞ্জে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সৃষ্টি হয়েছিল বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, জেলা ড্যাবের সভাপতি এবং মির্জা মোরাদুজ্জামান স্মৃতি সংসদের উপদেষ্টা ডা. এম. এ. লতিফ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হেলাল আহাম্মেদ আহমেদ, জেলা বাসদের সমন্বয়ক, নব কুমার কর্মকার, কাজীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওহেদুজ্জামান মিনু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, রেল বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক, মাহবুব-এ-খোদা টুটুল, জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা নিয়ামুল হাকিম সাজু, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক জিএস শফিউল আলম ডলার এবং জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম মিন্টু।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোকাদ্দেস আলী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন ইসলাম খান, সহ-প্রচার সম্পাদক জিন্নাহ সরদার, সদর থানা বিএনপি নেতা আবু কায়েস ভূঁইয়া (কর্নেল) এবং জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত হাসান সুমন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মির্জা মোরাদুজ্জামান স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান আক্তার ফকির।
বক্তারা বলেন, মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামানের রাজনৈতিক আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং গণমানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আদর্শভিত্তিক রাজনীতির চর্চা জোরদারের আহ্বানও জানান তারা।









