বৃহত্তর বানিজ্যিক রাজধানী চট্রগ্রাম বিভাগীয় শহর থেকে সমুদ্র পথে মাত্র ১৭ মিনিটের এপার ওপার একটি দীপ যেখানে হিন্দু মুসলিম বুদ্ধ খ্রিস্টান মিলে প্রায়ই ৪,৯০,০০০ মানুষের বসবাস। সাবেক ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মরহুম মোস্তফিজুর রহমানের হাত ধরে হয়েছে হাজারো সমস্যার সমাধান ও উন্নয়ন। তারই কর্ণধার দীনবন্ধু ক্ষেত বর্তমান এমপি মাহফুজুর রহমান মিতার হাতেই চলছে বহু উন্নয়নের রুপকল্প। এতো উন্নয়নের ভিড়েও কিন্তু পায়নি সনাতন ধর্মাবলম্বী জেলেপল্লী ক্ষেত ১৬নং সারিকাইত ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বাসিন্দাদের মৃত সৎকারের কোন জায়গা। এইতো সেই দিন গ্রামের একূল ওকূল দৌঁড়ে মিলে নাই বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সদস্য দিলিপ দাসের বাবা (কৃষ্ণ হরি দাশ) জন্য সাড়ে তিন হাত জায়গা। ছেলেরা ছুটে গিয়েছিলো জমিদার বংশের কাছে। কারো থেকে পায়নি তাদের বাবার সৎকার করার জন্য সাড়ে তিন হাত জায়গা। কোথায় দেওয়া যায় এমন প্রশ্ন তাদের মনে। সর্দার মালাদারও কেউ মিলিয়ে দিতে পারে নাই সাড়ে তিন হাত জায়গা।
এমন কি গ্রামের কোথাও সাড়ে তিন হাত জায়গা মিলে নাই তার জন্য ছেলেরা নিরুপায় হয়ে জায়গা খুঁজে নেন নদীর কিনারা তাও আবার বঙ্গোপসাগরের মুখে দক্ষিণ-পশ্চিম কর্ণারে নদীর কিনারে ভাঙ্গা জায়গায় তার বাবার সৎকার করা হয়। তাদের মনেও স্বপ্ন ছিল তার বাবার ধর্মীয় সৎকার করার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস সরকারের কোন উন্নয়নই কাজে লাগাতে পারে নাই তারা। অভূত এই ঘটনা ঘটে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলাধীন সারিকাইত ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে।
১৬নং সারিকাইত ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড নয়। এই রকম ভোগান্তিতে পাশবর্তী ২নং ওয়ার্ড ও ৩নং ওয়ার্ডের প্রায়ই পাঁচশো এর অধিক পরিবার।
মহাশশ্মান নিয়ে যখন এমন সমস্যা তখন মহাশশ্মান করার চিন্তায় এগিয়ে আসে তরুণ যুবক কমল চন্দ্র দাস। তার নেতৃত্ব আরো চারপাঁচজন তরুণ ছুটে চলছিলো মহাশশ্মান গড়ার প্রত্যয়ে।বৈঠকের পর বৈঠক হয় তাদের মাঝে। একটা প্রশ্নই ছিলো কোথায় পাওয়া যায় মহাশশ্মানের জায়গা ?? খুঁজাখুঁজিতে ব্যস্ত হয় পরে তারা। অর্থ সংকটের কারণে ভালো মানের জায়গা মিলাতে পারছিলো না এই তরুণ যুবক ঠিক তখনি পাশে এসে দাড়াঁয় মুরুব্বি শ্রেণীর কিছু লোক।রুদ্ধদার বৈঠক হয় সবার সাথে, বৈঠকে এক ব্যক্তি তার পুরোনা বাড়ির কড়া বিশেক জায়গা দেওয়ার কথা বলে। তাও আবার নদীর কূলে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে যখন জায়গায় গিয়ে কাজ করতে চাই তখন বাধা হয়ে দাঁড়ায় এলাকার সার্ভেয়ার বকুল রায় চৌধুরী।
তিনি এসে নিজের জায়গা বলে দাবি করেন। কাজ করতে আসা সবাইকে মারধরের হুমকি দিয়ে চলে যায়। ঐ দিন কাজ বন্ধ করে জমি দাতার সাথে বৈঠক করে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠকে তিনি বলেন এটা আমার ক্রয়কৃত জমি আপনারা নিরদ্বিধায় কাজ করতে পারবেন। পরবর্তী দুদিন পর আবার যখন কাজ করতে যায় সার্ভেয়ার বকুল রায় চৌধুরীর ভাড়া করা কিছু বখাটে ছেলে ও মহিলা অতর্কিতভাবে হামলা করে বসে, এই সময় ভোক্তভোগী এক লোক ভিডিও করতে চাইলে তার থেকে ক্যামেরাফোন কেড়ে নেয় বখাটে সাইফুল ও নবী নামে দুই যুবক।
ভুক্তভোগী লক্ষীকান্তি দাস বলেন, সকাল বেলা তারা যখন তাদের জায়গা মহাশশ্মান করার জন্য কাজ করতে যায় তখন তাদের উপর অতর্কিত হামলা শুরু করে কয়েক জন ভাড়াটে মুসলিম লোক। আমাদের এখানে যে খুঁটি দেওয়া হয়েছে সেগুলো ভেঙ্গে ফেলেছে তারা।
গুন জলদাস বলেন,ইউপি মেম্বার মিজান কে এইবিষয়ে আরো দুইদিন আগে জানানো হয়েছে। তাকে সরজমিনে আসার জন্য বলাও হয়েছে কিন্তু সে আসার কথা বললেও সকাল বেলা কল দিয়ে ফোনে পাওয়া যায় নি। হামলা হওয়ার কিছুক্ষণ পর তাকে আবার কল দিলে সে কল রিসিভ করে না করে কল কেটে দেওয়ায় ইউপি মেম্বার মিজানের সাথে কথা বলতে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই।
১৬নং সারিকাইত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম ফনির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি আমার ইউপি সদস্য মিজান কে মহাশশ্মানে কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য বলেছি এবং দুপক্ষের জামানত নিতেও বলেছি। বৈঠকে মাধ্যমে মিমাংসা করবো। বিকেল বেলা আমি সরজমিনে গিয়ে দেখে আসবো এমন মন্তব্য করেন তিনি।








