সিরাজগঞ্জে জরাজীর্ণ ঘরে অর্ধাহারে দিন কাটানো অসহায় সাইদুল-আনোয়ারা দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। গণমাধ্যমে তাদের মানবেতর জীবনের চিত্র প্রকাশের পরই দ্রুত প্রশাসনিক সহায়তা পৌঁছে যায় তাদের দোরগোড়ায়।
সদর উপজেলার ১ নম্বর রতনকান্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর হরিণা গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ও তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছিলেন। ভাঙাচোরা একটি ঘরে বসবাস, নিয়মিত খাবারের সংকট রমজানে ইফতারেও ছিল না ন্যূনতম আয়োজন। পান্তা ভাত ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ইফতার করার সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সংবাদটি নজরে আসে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম-এর। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুন খান দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করেন।
রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে এনে সাইদুল-আনোয়ারা দম্পতির হাতে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী, ঘরের জন্য দুই বান টিন এবং নগদ ১১ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সাইদুল ও আনোয়ারা জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, আমরা ভাবিনি আমাদের কথা কেউ শুনবে। এখন অন্তত নিরাপদে থাকার ও দু’বেলা খাবারের আশা করতে পারছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল আলীম জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। এতে প্রমাণ হয়েছে, অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে সরকারি উদ্যোগ সক্রিয় রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো অসহায় পরিবার কষ্টে থাকলে প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে। মানবিক সংবাদ প্রকাশের ফলে বিষয়টি দ্রুত নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
একটি মানবিক প্রতিবেদনই বদলে দিয়েছে অসহায় এক দম্পতির জীবনের গল্প। পান্তা ভাতের কষ্ট পেরিয়ে এখন তাদের চোখে স্বস্তির হাসি।









