সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৫ হাজার ২৫৩ জন শিক্ষার্থীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে সিলেবাসের আওতাধীন ওয়ার্কশীট পৌঁছে দিচ্ছেন শিক্ষকরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তৃতীয় সপ্তাহের পড়াশুনা ও মূল্যায়ন পত্র তাদের অভিভাবকদের বুঝিয়ে দেয় প্রাথমিক শিক্ষকরা। পরের সপ্তাহে আবার সেই মূল্যায়ন পত্র নিয়ে নতুন ওয়ার্কশীট দেয়া হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা না হলে, সেই মূল্যায়ন পত্রের ভিত্তিতেই পরবর্তী শ্রেনীতেহ উত্তির্ণ হবে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা অফিস ও শিক্ষকদের এ কার্যক্রমে খুশি অভিভাবকরা।
শিয়ালকোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুর ইসলাম বলেন, ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাস নেয়ার জন্য আমরা আধীর আগ্রহে আছি। করোনার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশে আমরা সিলেবাসের আলোকে তৃতীয় বারের মত এক সপ্তাহের পড়ালেখা ও মূল্যায়ন পত্র শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি।
মিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকতারী খানম বলেন, বিদ্যালয়ের বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের বাড়ির কাজ ও মূল্যায়ন পত্র তৈরী করছে। আবার প্রতি সপ্তাহের মূল্যায়ন পত্র সংগ্রহ করে, সেখানে নম্বর দেওয়া হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহের মূল্যায়নের ফলাফল প্রতিটি ছাত্রের আলাদা করে সংরক্ষন করা হবে।
ক্যালাণী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রী ফাতেমা আক্তার অন্তরা বলেন, অনেক দিন হতে বাড়িতে কোন পড়ালেখা করি না। ঈদের আগে থেকে স্যাররা বাড়ির কাজ দেওয়ায় এখন পড়ালেখা করছি। অন্তরার মা ছন্দা বেগম বলেন, স্কুলের শিক্ষকরা আমার মেয়েকে পড়াশুনা করার জন্য বাড়ির কাজ দিয়ে যাচ্ছে। সেখানে মূল্যায়ন পত্রে আমরা বাড়িতে পরিক্ষা নিচ্ছি। আবার শিক্ষকরা সেই মূল্যায়ন পত্র নিয়ে গিয়ে নতুন বাড়ির কাজ দিয়ে যাচ্ছে। এ কার্যক্রমের প্রসংশা করে তিনি বলেন, এই কাজটা আরো আগে করা উচিৎ ছিল।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: আপেল মাহমুদ জানান, উপজেলায় ২৪৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৫ হাজার ২৫৩ জন শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ওয়ার্কশীট বিত্তরণ করা হচ্ছে। শিক্ষকরা তাদের বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের পড়ালেখার কৌশল বুঝিয়ে দিচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরবর্তী ক্লাসে ছাত্র ছাত্রীদের উর্ত্তীন করা হবে। ওয়ার্কশীট মূল্যায়নের কার্যক্রম দেখভাল করতে স্কুলে স্কুলে পরির্দশন করছেন এই শিক্ষা অফির্সার।









