, , ,

শিরোনামঃ-




সিরাজগঞ্জে হুংকারে চলছে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন? নিরব ভূমিকায় প্রশাসন!

আশরাফুল ইসলাম জয়, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।

আপডেট টাইম : নভেম্বর ২৬ ২০১৯, ১৭:০১ | 934 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

সিরাজগঞ্জের ইছামতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের সড়াইচন্ডি গ্রাম,ফসলি জমি ও কবরস্থান এখন হুমকির মুখে। ‘প্রকাশ্যে এমন কর্মকান্ড চললেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।
বালু উত্তোলন বন্ধে জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি বরাবর একাধিকবার অভিযোগ করলেও প্রশাসনের কোন সহযোগিতা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।
সরেজমিনে সড়াইচন্ডী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শিয়ালকোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজামাল আকন্দ, রঘুনাথপুর গ্রামের মাজাম সরকারের পুত্র রেজাউল, একই গ্রামের বাহারুল ইসলামের ছেলে সুলতান ও মৃত লালচাঁন প্রমানিকের ছেলে বাবর আলীসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা জোরপূর্বকভাবে বহুলী ও শিয়ালকোল ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদীর সরাইচন্ডী মৌজা থেকে বেশ কিছুদিন যাবৎ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আরছে।
এ বিষয়ে এলকাবাসী একাধিকবার মানবন্ধন করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না । এমন কি জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা ভূমি বরাবর একাধিকবার অভিযোগ করলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

বহুলীর সড়াইচন্ডি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল,এছান আলীর ছেলে আব্দুল বাছেদ, সাইফুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম, ইব্রাহিমের ছেলে জিহাদুল, মৃত জাকির হোসেন ছেলে জেল হোসেন, খায়রুল ইসলামের ছেলে মো: আরজু, আব্দুল বারিকের পুত্র মো: জাকারিয়া খন্দকার, আজাহারের পুত্র নজরুল ইসলাম, সেরাজুল ইসলামের পুত্র বাবু, কালু খন্দকারের পুত্র মনি খন্দকার, মৃত হারুণ বেপারী ছেলে মহির উদ্দিন, আবু সাইদসহ এলাকার শত শত মানুষ অভিযোগ করেন বলেন, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ-নলকা ৪ লেনের রাস্তায় মাটি ভরাট করার জন্য ঠিকাদারের কাছ থেকে চুক্তি নিয়ে নামমাত্র ৩ বিঘা জমি ক্রয় করে বাংলা ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
এক বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী পূর্বের গ্রাম নিয়ামতপুরের ইছামতি নদী থেকে বালু উত্তোলনে নিয়ামতপুর গ্রামবাসী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করায় অনেক মারপিটের শিকার ও মামলায় হয়রানি হয়েছেন। এই মামলার ভয়ে এখনো অনেকেই গ্রাম ছাড়া। মামলাটি আদালত গড়ায় বালু উত্তোলন বন্ধ থাকার ৬ মাস পর নিয়ামতপুর গ্রাম থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পশ্চিমে এখন সড়াইচন্ডি গ্রামের ইছামতি নদী থেকে এবালু উত্তোলন শুরু করেছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ড্রেজার পরিচালনাকারী রঘুনাথপুর গ্রামের সুলতান বলেন, মেডিকেল কলেজ তৈরী করার জন্যই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসন ম্যানেজ করেই এই কাজ করছি ।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ তারেক মুর্শেদ বলেন, সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিরাজগঞ্জ সদর বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি যাহার স্মারন নং ৩১.৪৩.৮৮৭৮.০০৬.০১.০০১.১৯-১০৬ । প্রতিবেদনে উল্লেখ্য রয়েছে যেখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে সেই জমি সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানা এবং শুষ্ক মৌসুমে ইরি চাষাবাদ করা হয়। এই বালু উত্তোলনে এলাকার শত শত একর ফসলি জমি, ইছামতি নদী সীমানাবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, মাদ্রাসা, ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাবে। স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষক ভূমিহীন হয়ে পড়বে। এলাকায় যেকোন সময়ে বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে।

এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আনিছুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও আমার নিকট স্থানীয় জনগণ আবেদন করেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সড়াইচন্ডি গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত রিপোর্ট তৈরী করেছি । তদন্ত রিপোর্ট জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠিয়েছি। জেলা প্রশাসক যে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলবেন আমি সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET