গাজীপুরের শ্রীপুরের কঠোর অবস্থানে পুলিশ সড়কগুলো ফাঁকা। কিছু সময় পরপর পণ্যবাহী ট্রাক ও কয়েকটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। কেবল সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশের সদস্য ছাড়া তেমন লোকজনের চলাচল নেই। দু-একটি রিকশা, তিন চাকার যান ও মোটরসাইকেল ছাড়া আর কোনো যানবাহনও নেই। শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন ও বাস টার্মিনালে সুনসান নীরবতা। ফাঁকা সড়কের কয়েকটি মোড়ে যাত্রীরা যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে সারা দেশে আট দিনের লকডাউনের তৃতীয় দিন চলছে আজ শুক্রবার। তৃতীয় দিনে সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছেন বা যাত্রীদের গন্তব্য কোথায়, তার সঠিক কারণ জানতেছেন। যাত্রীর অজুহাতে সন্তুষ্ট হলে যান ছেড়ে দিচ্ছেন, নয়তো আটকে দিচ্ছেন। মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে তল্লাশিচৌকি পার হয়ে মাওনা কাচা বাজারে গিয়ে দেখা গেল সুনসান নীরবতা। বাজারে সবজি, ডিম, মাছ, মুরগি সবই আছে। কিন্তু ক্রেতা নেই।
মাওনা চৌরাস্তা কাচা বাজারের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ ফারুক শেখ বললেন, বাজারে তেমন লোকজন আয় না। লকডাউন দিয়ে লোকজন ঘর থেকে বাইর (বাহির) হতে না পরালে বাজারে আইব কেমনে। বাজারে লোকজন না আইলে আমরা বেচমু (বিক্রি) কার কাছে। কাচা বাজারের ব্যবসাীয়দের অবস্থা খুব খারাপ। দিনের মাল দিনে বিক্রি করতে না পারলে পচে নষ্ট হয়ে যায়। দিন শেষে লোকশান গুনতে হয়।
মাওনা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালেব বলেন, লকডাউন দেওয়ায় ব্যবসা লাটে উঠছে। মানুষজন ঘর থেকে বের হতে না পরালে কার কাছে বিক্রি করবো। মানুষের ইনকাম (আয়-রোজগার) না থাকলে কী টাকা হাতে থাকে? আর হাতে টাকা না থকালে বাজার করব কি দিয়া। লকডাউন শুরুর প্রথম দিন ভালই বেচা-কেনা ছিল। আজকে খুব খারাপ অবস্থা যাচ্ছে।
শ্রীপুরের মাওনা উড়াল সেতুর নিচে দায়িত্ব পালন করছেন শ্রীপুর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) গোলাম সারোয়ার। তিনি বলেন, শ্রীপুর থানা পুলিশের উদ্যোগে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ জৈনা বাজার, শ্রীপুর চৌরাস্তা ও মাওনা চৌরাস্তায় তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। ভোর থেকেই বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নির্দেশিত কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কাজ করছে পুলিশ। প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষকে সহযোগিতা করছে পুলিশ। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সরকারের নির্দেশিত যানবাহন চলছে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) রাসেল শেখ বলেন, পুলিশের তৎপরতা আগের মতোই আছে। বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে অপ্রয়োজনীয় চলাচল রোধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ছাড়া দোকানপাট বন্ধ রাখার ব্যাপারে অভিযান চালানোসহ জনসাধারণকে সব সময়ই সতর্ক করা হচ্ছে। থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম বিভিন্ন থানা এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। লকডাউন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালিত হচ্ছে।









