, , ,

শিরোনামঃ-




মুকসুদপুরের গোহালা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা বন্ধ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : জুন ০৫ ২০১৮, ২১:৪১ | 857 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

শহিদুল ইসলাম, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:-  গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা ১ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
ওই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন গত ২৯ এপ্রিল অবসরে যান। তারপর থেকেই ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় গরিব ও অসহায় রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারীরা ২৩ কিঃমিঃ দূরে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতে পারছেননা।
গোহালা ইউনিয়নের ৬০ হাজার মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে সরকার গোহালা ইউনিয়নে একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করে। এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করা হয়। এখানে জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও উপসহকারী মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন একাই এতদিন ওই ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠিকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছিলেন। তিনি অবসরে যাওয়ায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি একেবারেই অচল হয়ে পড়েছে। সেখানে চিকিসা সেবা দেয়ার মতো কোন জনবল নেই। তাই ভেঙ্গে পড়ছে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা। ফলে পশ্চাদপদ গোহালা ইউনিয়নবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছেননা। খালি হাতেই ফিরছেন বাড়ি।
গোহালা গ্রামের বৃদ্ধ কাজী মোমিন উদ্দিন (৯২) বলেন, আমি কোমড় ব্যাথায় ভুগছি। গত ১ মাসের মধ্যে ৫ দিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসেছি। কিন্তু কোন ডাক্তার নেই। তাই চিকিৎসা পাচ্ছিনা। প্রইভেট চেম্বার, ক্লিনিক অথবা মুকসুদপুর হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর সঙ্গতি আমার নেই। তাই নিরুপায় হয়ে কোমড় ব্যাথায় প্রচন্ড কষ্ট পাচ্ছি।
গোহালা ইউনিয়নের ভট্টাচার্যের কান্দি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ খোরশেদ শেখ একই গ্রামের নূর ইসলাম শেখ বলেন, ডাক্তার অনোয়ার হোসেন একই এতদিন এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র সামাল দিয়েছেন। ১মাস আগে তিনি অবসরে গেছেন। তারপর থেকে স্বাস্থ্য কেন্দ্র বন্ধ। চিকিৎসার ক্ষেত্রে গোহালা ইউনিয়নবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। আমরা এ অবস্থা থেকে পরিত্রান চাই।
গোহালা ইউনিয়নের হরিরচর গ্রামের রাহিলা বেগম (৫৫) বলেন, গত ১ মাস ধরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসছি। চিকিৎসা ও ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছি। এতে আমাদের রোগ যন্ত্রনা আরো বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের এ অবস্থা থেকে বাঁচান।
গোহালা ইউনিয়নের মুনিরকান্দি গ্রামের এম.এ জলিল ওরফে আব্দুল জলির (৮৫) বলেন, শরীরে ব্যাথা ও বাধ্যর্কজনিত সমস্যা নিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসছি। ডাক্তারের অভাবে ইনজেকশন নিতে পারছিনা। ফলে ব্যাথা আরো বেড়েছে। উপজেলা সদর মুকসুদপুরে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর টাকা আমার কাছে নেই। তাই দুঃসহ যন্ত্রনার মধ্যে দিন কাটছে।
গোপালগঞ্জ ১ আসনের সাবেক এমপি কাজী আব্দুর রশীদের বড় ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাজী হারুন অর রশীদ মিরন বলেন, আমাদের ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে পার্শবর্তী রাগদী, মোচনা, দিগনগর ইউনিয়নের মানুষ চিকিৎসা নিয়ে আসছে। স্বাস্থ্য সেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই।
গোহালা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল আলম বলেন, নি¤œ জলাভ’মি বেষ্টিত আমার ইউনিয়নে ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। এদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। স্বাস্থ্য সেবায় এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ কেন্দ্র কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ও ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। টাকা খরচ করে ২৩ কিঃ মিঃ দূরে মুকসুদপুর উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ আমার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের নেই। তাই এ জনগোষ্ঠির ঘরের দোড়গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দিতে জেলা স্বাস্থ বিভাগকে অনুরোধ করছি।
সিভিল সার্জন ডা. তরুন মন্ডল ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সেখানে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। এছাড়া মুকসুদপুর স্বাস্থ্য বিভাগকে ওই স্বাস্থ কেন্দ্রে বিকল্প ব্যবস্থায় সপ্তাহে অন্তত ২ দিন চিকিৎসা সেবা চালু করতে নির্দেশ দিয়েছি।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET