নিজস্ব প্রতিবেদক: মুরাদনগরে প্রথম শ্রেনীর গেজেটেড কর্মকর্তার সিল স্বাক্ষর জালিয়াতি করাসহ বিধি মোতাবেক চাকুরীর আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সরবরাহ না করেই ভুলে ভরা আবেদনে কাজিয়াতল দক্ষিন পাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার পদে নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু আবেদনে মিথ্যা তথ্যসহ ভুলে ভরা ও জালিয়াতি নয়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে হুবহু তার নিজের নামে কথিত প্রথম শ্রেনীর গেজেটেড কর্মকর্তার পরিচয়ে সিল বানিয়ে নিজের চাকুরীর আবেদনেই সত্যায়ন করার অভিযোগও ওঠেছে নিয়োগ পাওয়া সুপার হাফেজ মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কাজিয়াতল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি ইউনুছ মিয়া মুন্সী একচ্ছত্র ক্ষমতা বলে এ নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ইতোমধ্যে গত ২০১৭ সালের ৯ জুন কথিত নিয়োগ দেখিয়ে ১৪ জুন থেকে যোগদান করে ওই শিক্ষক কাজিয়াতল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সুপার পদে চাকুরী করছেন। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে গত কাল রোববার দুপুর হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই মাদ্রাসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির সকল সদস্য ও সকল শিক্ষকদের নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জালিয়াত করে নিয়োগ পাওয়া সুপারের আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাছাই বাছাই করে প্রতিবেদন দেয়াসহ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুদক চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন ব্যবস্থাপনা কমিটি। ওই বিশেষ জরুরী সভাটিও পরিচালনা করেন অভিযুক্ত সুপার হাফেজ মোস্তাফিজুর রহমান।
জানা গেছে, মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাফেজ মোস্তাফিজুর রহমানের স্থায়ী নিবাস একই উপজেলার নবীয়াবাদ এলাকায়। এর আগে সে মুরাদনগর মোছলেম মিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহসুপার পদে ছিলেন।
কাজিয়াতল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার তৎকালীন সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা ইউনুছ মিয়া মুন্সীকে ম্যানেজ করে জালিয়াতীর মাধ্যমে ভূয়া তথ্য সন্নিবেশিত করে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে নিয়োগ পাওয়া ওই মাদ্রাসা সুপার হাফেজ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ মাদ্রাসায় সুপার পদে আমাকেসহ ১৪ জন আবেদন করেছেন আমার আবেদনের মতো অন্যান্যদের আবেদনেও এরকম অসংখ্য ভুল ভ্রান্তি রয়েছে। তারপরও আমি আমার যোগ্যতায় নিয়োগ পেয়েছি।

সুপার পদে নিয়োগ পাওয়া হাফেজ মোস্তাফিজুর রহমানের আবেদন পত্র ঘেটেঁ জানাযায়, তার জীবন বৃত্তান্ত প্রায়ই অসম্পূর্ন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন ডিআইইউ থেকে ২০১২ একই সালে বিএ অনার্স ও এমএ পাশ করেছেন। ইসলামের ধর্মীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসায় সুপার পদের ওই আবেদনে কোথায়ও সে কোন ধর্মের অনুসারী তা উল্লেখ করেনি। আবেদনের কোথায়ও কোন তারিখ নেই। তার আবেদনের সাথে পাওয়া যায়নি বিধিমোতাবেক ১৪ বছরের অভিজ্ঞতার সনদও, দেখাতে পারেনি কোন নিয়োগ ও যোগদান পত্রও।
সোমবার দুপুরে কাজিয়াতল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. ইউনুস সরকার জানান, উর্ধ্বতন মহলের খামখেয়ালী ও অনিয়মের কারণে এ জালিয়াতি করে সে নিয়োগ পেয়েছেন।
এ বিষয়ে কাজিয়াতল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী বলেন, এ ধরনের জালিয়াতী ও অনিয়মের কারণে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা শিক্ষকতা পেশায় চাকুরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চাকুরী লাভের পর ওই জালিয়াতকারীরা ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে সব কাজেই অনিয়ম করে পার পাওয়ার সাহস পান।
সরকারী বিধিমতে বিধিসম্মত আবেদন বাধ্যতামূলক। ভূয়া তথ্য ও জালিয়াতীর মাধ্যমে চাকুরী নেয়া ওই সুপারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সর্ব সম্মতিক্রমে দাবী জানিয়েছেন কাজিয়াতল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্য সদস্যাগনসহ মুরাদনগরের সর্বস্তরের মানুষ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সফিউল আলম তালুকদার বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার সরবরাহকৃত তথ্য জালিয়াতী, ভূয়া ও ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে নিয়োগ আদেশ বাতিল এবং চাকুরিবিধি লঙ্গনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ওই মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি ইউনুছ মিয়া মুন্সীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য নেয়া যায়নি।







