, , ,

শিরোনামঃ-




শ্রীপুরে জনবল সংকটে বন্ধ হলো উনিশ শতকের রেল ষ্টেশন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : জুলাই ১৮ ২০১৮, ২২:০৬ | 1031 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

সাইফুল আলম সুমন, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ-  গাজীপুরের শ্রীপুরে জনবল সংকটের কারণ দেখিয়ে উনিশ দশকের পুরনো সাতখামাইর রেল ষ্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত সাত জুলাই সাতখামাইর রেল ষ্টেশনের ষ্টেশন মাষ্টারকে রাজেন্দ্রপুর ষ্টেশনে বদলী করা হলে ষ্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হঠাৎ করেই জণাকীর্ণ ষ্টেশন এলাকাটি এখন প্রাণহীন হযে পড়েছে। এদিকে সাতখামাইর ষ্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে সাতখামাইর থেকে যাতায়াতকারী যাত্রীরা। এলাকাবাসী এবং যাত্রীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ষ্টেশনটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, উনিশ শতকের চল্লিশের দশকে ব্রিটিশ শাসকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলসড়ক নির্মাণ করেন। এই সড়কের শ্রীপুর রেল ষ্টেশন থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে সাতখামাইর বাজার সংলগ্ন স্থানে সাতখামাইর রেলষ্টেশনটির অবস্থান। অতীত সময়ে সকল লোকাল ট্রেনের যাত্রাবিরতি এই ষ্টেশনে থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমিয়ে আনা হয়। সর্বশেষ আপ এবং ডাউনে দুটি ট্রেন এই ষ্টেশনে যাত্রবিরতী করত। ষ্টেশনটি পরিচালনা করার জন্য তিনজন ষ্টেশন মাষ্টার থাকার নিয়ম থাকলেও দীর্ঘদিন যাবৎ একজন স্থায়ী ও একজন চুক্তিভিক্তিক ষ্টেশন মাষ্টার দ্বারা ষ্টেশনটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।
সর্বশেষ চুক্তিভিক্তিক ষ্টেশন মাষ্টারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় দায়িত্বভার পরে স্থায়ী নিয়োগ প্রাপ্ত ষ্টেশন মাষ্টার ফরিদ মিয়ার উপর, কিন্তু একজনের পক্ষে একটি ষ্টেশন চালানো সম্ভব না হওয়ায় ও রাজন্দ্রেপুর ষ্টেশনের ষ্টেশন মাষ্টারের পদ খালি থাকায় সাতখামাইর ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করে তাকে রাজন্দ্রেপুরে বদলী করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এরই পর থেকেই ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও তিনজন পোর্টার ম্যানের মধ্যে আলাল উদ্দিনকে বাদে বাকী দুজনের মধ্যে আনোয়ার হোসেনকে ময়মনসিংহ ও আফাজ উদ্দিনকে ঘোড়াশাল বদলী করা হয়। যদিও গত দুই বছর আগে অন্যান্য ষ্টেশনের ন্যায় সাতখামাইর রেল ষ্টেশনটিকেও কয়েক কোটি টাকা খরচে ডিজিটাল সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এখন ষ্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ করার ফলে দামী মূল্যবান যন্ত্রপাতিও তালাবদ্ধ ঘরে পড়ে আছে।

সরেজমিন রেলষ্টেশনে গিয়ে দেখা যায় একসময়ের লোকরণ্য এই ষ্টেশনে এখন শুনশান নীরবতা বিরাজ করছে। অনেক সময় ধরে খোঁজাখোঁজি করে ষ্টেশনের বন্ধ দরজার কক্ষে দেখা মিলল পয়েন্টম্যান আলাউদ্দিনের। তিনি জানালেন, এক সপ্তাহ হল মাষ্টারের অভাবে ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে, মাষ্টার না থাকার পরও এখনও তাকে ছাড়া আরো দু’জন সিগন্যাল ম্যান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্মরত আছেন। দামী দামী যন্ত্রপাতি রয়েছে এখানে, এছাড়াও সাতখামাইর বাজারে একটি সড়কের উপর রেল ক্রসিং পারাপারসহ বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তাই তাঁরা পালাক্রমে দায়িত্বপালন করছেন।
সম্প্রতি সাতখামাইর রেলষ্টেশন থেকে রাজন্দ্রেপুরে বদলী হওয়া ষ্টেশন মাষ্টার ফরিদ মিয়া জানান, এই ষ্টেশনটি বন্ধ হওয়ার আগে প্রতিদিন আপ-ডাউনে বলাকা এক্সপ্রেস ও ভাওয়াল এক্সপ্রেস এখানে যাত্রা বিরতি করত, এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন শতাধিক যাত্রী ট্রেনে উঠানামা করত। টিকেট বিক্রি থেকেও ভাল আয় হত। যাত্রীদের দুর্ভোগ হওয়া সত্বেও ষ্টেশন মাষ্টারের অভাবেই মূলত ষ্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

এই রেলষ্টেশন ঘিরে এখানে ঘরে উঠেছে প্রায় শতাধিক ছোট মাঝারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধের ফলে ব্যবসায়ীদের চোখে মুখে ফুঁটে উঠেছে হতাশার ছাপ। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, তাঁর ভাষ্য এই ষ্টেশন এলাকাটি ছিল জনারণ্য এলাকা, শত শত লোকজনের সমাহার থাকত দিন রাতের অধিকাংশ সময়, আমাদের ব্যবসাও ভাল হত। কিন্তু এখন ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করায় জনশূণ্য হয়ে পড়েছে এই এলাকাটি। ব্যবসা বানিজ্যের ধস যে নামছে আমরা এখন বুঝতে পারছি। ষ্টেশনের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার সাথে হয়ত আমাদের ব্যবসায় গুটিয়ে নিতে হবে।
সাতখামাইর ষ্টেশন থেকে প্রতিদিন ময়মনসিংহ গিয়ে অফিস করতে রুহুল আমিন নামের এক সরকারী কর্মকর্তা। তিনি জানান, প্রতিদিন তিনিসহ আরো অনেকেই এই ষ্টেশন থেকে ঢাকা ও ময়মনসিংহ যাতায়াত করতো এবং সন্ধ্যায় বাড়িতে আসতো। এখন ষ্টেশনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি খুব দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি ষ্টেশনটি চালুর দাবি জানান।
ভাওয়াল বদরে আলম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ¯œাতক সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাছলিমা আক্তার বলেন, এই ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর থেকে আমাদের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। এখন আমরা যারা এই ষ্টেশন ব্যবহার করতাম তাঁরা ৩০টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে শ্রীপুর গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। এতে সময় ও অর্থের ব্যায় বেড়ে গেছে। আর ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর সরকারও টিকেট বিক্রির আয় থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, গত ৬জুলাই একসাথে চুক্তি ভিক্তিক ১২জন ষ্টেশন মাষ্টারের চাকুরীর মেয়াদ শেষ গিয়েছে। এর মধ্যে রাজেন্দ্রপুর ও সাতখামাইর ষ্টেশনের দুজন রেল মাষ্টারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ষ্টেশন দুটিতে একজন করে মাষ্টার দিয়ে চালানো সম্ভব নয়। তাই সাতখামাইর ষ্টেশন বন্ধ করে ওই ষ্টেশন মাষ্টারকে রাজেন্দ্রপুর বদলি করা হয়েছে। এদিকে চুক্তি ভিক্তিক মাষ্টারদের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে, এখনো কোন সিদ্ধান্ত পাইনি। আশা করছি আগামী দেড় দু’মাসের মধ্যে ষ্টেশনটি চালু করা যাবে।
এদিকে, জনবল সংকটের অজুহাতে ৭বছর আগে উপজেলার ইজ্জতপুর রেল ষ্টেশন বন্ধ করা হলেও এখনো তা চালুর কোন উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ইজ্জতপুর ষ্টেশনটি চালুর দাবিতে গত ৪মে স্থানীয় এলাকাবাসী মানববন্ধ করেন।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET