মিজানুর রহমান সুমন
বরগুনার বামনায় জমি সঙক্রান্ত বিরোধের জেড় ধরে প্রতিপক্ষরা আসমা বেগম ডালিম(৪০) নামে তিন মাসের অন্তঃস্বত্তা গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ সময় আহত হয়েছে আরো ৬ জন।
গতকাল সোমবার সকালে বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের বড় যাদবপুড়া গ্রমের এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ মো. মাওলা মোল্লার স্ত্রী।
বামনা থানা পুলিশ বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে নিহত ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. হারুন আকন(৬৫), আসমা আক্তার(২৫) ও লাকী বেগম(৩৮) নামে তিন জনকে হাসপাতাল সড়ক থেকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আহত আরো ৬ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন, মতি মোল্লা(৫০), মাওলা মোল্লা(৬০), আহম্মেদ মোল্লা(৬০), ম্হমুদা বেগম(৪০) সালমা বেগম(৪৫) ও হাসান(২৫)।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার বড় যাদবপুড়া গ্রামের মো. মাওলা মোল্লা গংদের সাথে মো. নিজাম আকন গংদের দ্বির্ঘদিন ধরে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছো। ঘটনার দিন গতকল সোমবার সকালে মতি মোল্লা ধানের চারা রোপনের উদ্দেশ্যে মাঠের দিকে রওনা দিয়ে যাবপুড়া বাজারের কাছে পৌছে। ওই বাজারে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা নিজাম আকন(৩৭)সহ প্রায় ১০/১২ জন তার পথ রোধ করে এলোপাথারী লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে এসময় তার স্ত্রী সালমা বেগম(৪৫) প্রতিহত করতে গেলে তাকেও এরা এলোপাথারী পিটিয়ে জখম করে। সালমা বেগম অজ্ঞান হয়ে পরলে মাওলা মোল্লার স্ত্রী আসমা আক্তার দৌড়ে এসে এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে নিজাম আকন ও তার দলবল তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। লাঠির আঘাতে আসমা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে তার স্বামী ও সন্তান সহ আত্মীয় স্বজনরা ঘটনাস্থলে আসলে প্রতিপক্ষরা তাদেরকেও পিটিয়ে যখম করে। গুরুতর আহতদের স্থানীয়রা বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা বেগম ডালিমকে মৃত ঘোষনা করে । আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নিহত আসমা বেগম ডলির আত্মীয়রা জানায়, সে তিন মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিলো।
নিহত আসমা আক্তারের ভাশুর আহম্মেদ মোল্লা জানায়, গত রবিবার রাতে নিজাম আকন ও আরো ৫/৬ জন তাদের ঘরে গোপন বৈঠক করে । ওই বৈঠকে আমাদের একজনকে মেরে ফেলার জন্য সিদ্ধান্ত নেয় বলে আমরা জানতে পারি।
প্রত্যক্ষদর্শি যাদবপুরা বাজারের ব্যবসায়ি আলম সিকদার জানায়, সে দোকানে আসার আগেই দুর থেকে দুই মহিলাকে রাস্তায় অজ্ঞান অবস্থায় পরে থাকতে দেখেন। এসময় নিজাম আকন ও তার লোকজন সবাইকে এলোপাথারী পিটাতে থাকে।
বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ জিএম শাহ নেওয়াজকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।
বামনা অফিসার ইন-চার্জ জিএম শাহ নেওয়াজ জানান নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনার মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বামনা থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। দোষিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।









