২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • সকল সংবাদ
  • বাগমারায় গড়ে উঠা অবৈধ ক্লিনিকে চলছে ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে ভুয়া চিকিৎসা




বাগমারায় গড়ে উঠা অবৈধ ক্লিনিকে চলছে ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে ভুয়া চিকিৎসা

মোহাম্মদ ইমন মিয়া, বাঙ্গরা,কুমিল্লা করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ১৭ ২০১৮, ১৯:০২ | 772 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

নাজিম হাসান,রাজশাহী থেকে:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর,ভবানীগঞ্জ,মোহনগঞ্জ ও হাটগাঙ্গোপাড়াসহ আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক শ্রোণির পুঁজিবাদীরা এলাকার সাধারন আয়ের মানুষের অসুস্থতাকে নিয়ে ব্যবসা করে চলেছে দিনের পর দিন তারা। এখানে ভালো চিকিৎসক,নার্স ও টেকনোলজিস্ট ছাড়াই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা। ফলে সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতারিত হচ্ছেন অনেকেই। তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক)হাসপাতালের নাম করা ভালো ভালো চিকিৎসকদের নাম ভাংগিয়ে গ্রামের সরল সাদা লোকজনদেরকে ভুয়া ডাক্তার ও রামেক হাসপাতালের ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে প্রতারক মুলক চিকিৎসা করানো হচেছ। যার ফলে রামেক হাসপাতালের ছাত্র-ছাত্রীরা নামিদামি মোবাইল ফোন কিনে সেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সার্চ দিয়ে রোগির জন্য ওষধ লেখে জনপ্রতি ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা হাতিয়ে নিতছেন। এদিকে,রেজিস্টেশন,চিকিৎসক,নার্স ও টেকনোলজিস্ট ছাড়াই অলিগলিতে গড়ে ওঠা এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা ব্যবসা করে ক্লিনিক মালিকেরা অল্পদিনে কোটিপতি বুনিয়ে যাচেছ। অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিকগুলো লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যথাযথ অপারেশন থিয়েটার ছাড়াই অহরহ সিজার করে যাচ্ছে। অপচিকিৎসায় মারা যাচ্ছে রোগী। রোগীরা আসলে রাজশাহী হাসপাতালের ছাত্র-ছাত্রীদের ডেকে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসার নামে এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসির অভিযোগ সরকারি নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, অনেকে শুধু সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসছেন। মনিটরিং না থাকা ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই অনেকে এই ব্যবসায় নেমে পড়ছেন। সিভিল সার্জন অফিসের রেজিস্ট্রেশন তালিকার বাইরে এমন অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছেন। অপরদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অফিস টাইমে প্রাইভেট প্রাকটিস নিয়ে ব্যান্ত থাকায় প্রতিদিন অনেক রোগী বাগমারার সরকারি হাসপাতাল থেকে হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে বাড়ি ফিরছে বলে অভিযোগ পাওযাগেছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র আরো জানাযায়, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ক্লিনিকে ১০ বেডের জন্য ৩ জন চিকিৎসক (সকাল, বিকেল ও রাতে প্রতি শিফট-এ ১ জন করে ৬ জন ডিপে¬ামাধারী নার্স, ৩ জন ওয়ার্ড বয় ও ৩ জন আয়া থাকার কথা। সরজমিন খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, লাইসেন্স ঠিক রাখার জন্য কাগজে-কলমে এ তালিকা ঠিক থাকলেও বাস্তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই তা নেই। অধিকাংশ ক্লিনিকেই নেই কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক। অথচ ক্লিনিকের সামনে বড় বড় ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের সাইনবোর্ড লাগানো থাকে। এসব সাইনবোর্ড দেখে রোগীরা ক্লিনিকে গিয়ে প্রতারিত হয়। বেশিরভাগ সময় আনাড়ি চিকিৎসক দিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা। কোনো কোনো ক্লিনিকের রয়েছে নিজস্ব ডায়গনস্টিক সেন্টার এবং অনেক আলাদা ডায়গনস্টিক সেন্টারও রয়েছে। এসব সেন্টারে এক্স-রে, রক্ত, আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, মলমূত্র ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো প্রয়োজন ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের ভুল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত রোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো টেকনোলজিস্ট না থাকায় বেশিরভাগ সময় রোগীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। ভিন্ন ভিন্ন সেন্টারে একই পরীক্ষার ফল ভিন্ন ভিন্ন আসার নজির বিস্তর। এ কারণে রোগীরা অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে। এসব জেনেও এবং সরকারি হাসপাতালে সব পরীক্ষার উন্নত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার জন্য রোগীদের তাদের সঙ্গে আঁতাত করা নির্দিষ্ট ডায়গনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দেন। এসব পরীক্ষা থেকে চিকিৎসকরা ৫০%-৬০% পর্যন্ত কমিশন পেয়ে থাকেন। চিকিৎসকদের কমিশনের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট হলেও রোগীরা এ ক্ষেত্রে অসহায়। এবিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডাঃ ফারহানা হক জানান, অভিযোগ পেলে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশনের শর্ত অনুযায়ী ১০ শয্যার ক্লিনিকের জন্য একজন চিকিৎসক, তিন জন নার্স ও তিন জন সুইপার থাকতে হবে। এছাড়াও প্রতিবছর নবায়ন করতে হবে রেজিস্ট্রেশন। উল্লেখ্য বাগমারার বড়বিহানালী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী ববিতা বেগমের প্রসবব্যথা উঠলে তাঁকে ভবানীগঞ্জ উপজেলা সদরের ফারজানা ক্লিনিক নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাহেরপুর,ভবানীগঞ্জ,মোহনগঞ্জ ও হাটগাঙ্গোপাড়া আনাচে কানাচে গড়ে উঠা অবৈধ ক্লিনিকে নিতে আসা সাধারান রোগি ও প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। ক্লিনিক মালিকেরা এসকল মৃত ব্যাক্তিদের পরিবারের সদস্যদের তাদের দালালদের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিমাংসা করিয়ে নিচেছ যাতে তারা আইন-আদালত যেনো না করেন।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET