মোঃ জাহেরুল ইসলাম, আটোয়ারী(পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগ পরীক্ষায় নির্বাচিতদের তালিকায় একজন জাল সনদকারীকে নিবর্চাচিত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগের জন্য নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশের পর এই অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন আরেক প্রার্থী। ওই অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগটি স্থগিত করে দেয় নিয়োগ কমিটি।
জানাগেছে,২০১৫ সালে পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলায় একযোগে ১৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরমধ্যে উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের মোলানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদের জন্য ১৪জন প্রার্থী আবেদন করেন। ওই সময়ের উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগ ও বাছাই কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে নিয়োগ কমিটি ১৪জন প্রার্থীর কাগজপত্র বাছাইয়ের পর ১৪ জনের বৈধ তালিকা তৈরী করেন। পরবর্তীতে নানা জটিরতায় দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে।
এরপরে জটিলতা কেটে গেলে বর্তমান নিয়োগ কমিটি পুর্বে বাছাই করা তালিকা অনুযায়ী গত ২৫ মে চাকরী প্রার্থীদের মৌখিক ও শারীরিক পরীক্ষা নেয়। পরীক্ষায় মোলানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদের জন্য ৯ জন প্রার্থী অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী গত ১ জুলাই জোতিশ চন্দ্র বর্মন নামে এক প্রার্থীকে প্রথম করে তিন জনের একটি উত্তীর্ণ প্যানেল তালিকার ফলাফল প্রকাশ করে নিয়োগ কমিটি। নীতিমালা অনুযায়ী ওই প্যানেলের প্রথম স্থান অধিকারী নিয়োগের জন্য চুড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে কোন কারনে ওই প্রার্থী যোগদান করতে না পারলে দ্বিতীয় জন এবং দ্বিতীয় জনও যোগদান করতে না পারলে তৃতীয় জন নিয়োগ পাবেন।
এদিকে এই ফলাফল প্রকাশের পর গত ৪ জুলাই প্যানেল ভুক্তদের মধ্যে বলরাম নামের এক চাকুরী প্রার্থী জাল সদদের মাধ্যমে চাকুরী নেয়ার অভিযোগ এনে নিয়োগ ও বাছাই কমিটির সভাপতি আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, মোলানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় চুড়ান্তভাবে জোতিশ চন্দ্র বর্মন আলোয়াখোয়া তফশিলী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০১০ সালের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়। অথচ তিনি নিয়োগের ক্ষেত্রে বারোঘাটি নিুমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পাশ করার সনদ প্রদান করেন। এছাড়া জাতীয় পরিচয় পত্রে তার জন্ম তারিখ ৩ ডিসেম্বর ১৯৯৪ সাল থাকলেও জেএসসি পরীক্ষার ফলাফল সীটে তার জন্ম তারিখ রয়েছে ৩০ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সাল। অপরদিকে ২০১৩ সালে ভোটার তালিকায় জোতিশ নিজের শিক্ষগত যোগ্যতা সপ্তম শ্রেণি দেখান।
ভোটার তালিকার তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালে জোতিশ সপ্তম শ্রেণি পাশ দেখালেও চাকরীর জন্য দেয়া সনদে ২০০৯ সালে অষ্টম শ্রেণি পাশ দেখিয়েছেন। এভাবে জাল সনদ দিয়ে চাকরীর আবেদন করায় তার কাগজপত্র যাচাই করার দাবী জানিয়েছেন অপর প্রার্থীরা।
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন সুলতানা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত দুই পক্ষকে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে অভিযোগ শুনানীর জন্য নোটিশ করলেও নির্ধারিত তারিখে জোতিশ উপস্থিত হয়নি।
এ বিষয়ে জোতিশের সাথে কথা বলতে তার নিজ এলাকায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এব্যাপারে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নিয়োগ কমিটির সভাপতি শারমিন সুলতানা বলেন, নিয়োগটির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছিল ২০১৫ সালে। তখন আমি এ উপজেলায় যোগদান করিনি। সে সময়েই আবেদনকারীদের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে যে তালিকা তৈরী হয়েছিল সেই তালিকা অনুযায়ী প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর ওই নিয়োগটি স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া দুই পক্ষকে অভিযোগ শুনানীর জন্য গত ১৮ জুলাই আমার কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ করা হয়েছিল। সেখানে অভিযুক্ত পক্ষটি হাজির হননি। এরপর গত ২৪ জুলাই আবারো দ্বিতীয়বার আমার অফিসের লোক দ্বারা নোটিশ পাঠাইলে তা গ্রহন না করে বরং আমার লোকের সাথে অশালীন আচরন করেছেন। তারা শুনানীতে হাজির না হলে কমিটির অন্য সদস্যদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।#









