২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • খুলনা
  • ডাক্তারদের মরার ভয় আছে, সাংবাদিকদের নেই কেন?




ডাক্তারদের মরার ভয় আছে, সাংবাদিকদের নেই কেন?

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, নয়া আলো।

আপডেট টাইম : এপ্রিল ০২ ২০২০, ২০:৫৮ | 1063 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

ডাক্তাররা পিপিই পাওয়ার পরও খুলনায় চিকিৎসা পাচ্ছেন না রোগীরা। ডাক্তারদের কেন এতো মরার ভয়। আমেরিকাতে ৭৮,০০০ অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার স্বেচ্ছায় ঘোষণা দিয়েছেন করোনা চিকিৎসা দেবার জন্য।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে খুলনার সিংহভাগ ডাক্তার রোগী দেখা থেকে বিরত রয়েছেন। যান বাহন শূণ্য সড়কে অনেক কষ্ট করে হাঁপাতে হাঁপাতে রোগীর স্বজনরা নিয়ে এসে দেখেন ডাক্তার নেই। হোক সরকারি কিংবা বেসরকারি। ডাক্তারদেরকে চেম্বারে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করুন।

সন্দেহপ্রবণ করোনা ভাইরাস এর মৃতদেহ হোক আর করোনা ভাইরাস সংক্রমিত মৃতদেহ হোক, একইভাবে দাফন হচ্ছে দেখে বুকের পাজর ভেঙ্গে যায়। করোনা ভাইরাসের মৃতদেহটি স্বজন/প্রিয়জনের লোকচক্ষুর অন্তরালে কোনমতে দাফন হচ্ছে। যখন দেখি গণমাধ্যমে দাফনকৃত ব্যক্তির পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ ছিলো, তাও দাফনের এক দু’দিন পর তখন মনে অনেক কষ্ট হয়, কেন দাফনের পূর্বে করোনার ফলাফল দেয়া হলো না, যাতে করে স্বজন/ প্রিয়জনের দাফন কার্যে অংশগ্রহণ বা শেষ দেখার সুযোগ পেতো। এ প্রশ্নের উত্তর কে দিবেন? স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাকি আইইডিসিআর? সাধারণ রোগীরা রোজ কেয়ামত পর্যন্ত এসব বড় পদের মানুষের কাছে যেতেও পারবেন উত্তরও পাবেন না।

এমনকি অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা দায় সাড়া রোগী দেখছেন। কিন্তু ভর্তি নিচ্ছেন না হাসপাতালে। সর্বশেষ খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত স্কুলছাত্র রিফাতকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ৪টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না নেওয়ার সন্ধ্যায় সে মারা যায়।

রিফাতের নানা কলিমুদ্দীনের অভিযোগ, তার নাতি রিফাতকে মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক নেই বলে তাকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। কাগজে ওষুধ লিখে দিয়ে পরে সমস্যা হলে বুধবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। এরপর তিনি রিফাতকে নিয়ে খালিশপুর ক্লিনিকে যান। সেখানে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলে দেয় কোনও চিকিৎসক নেই। রোগী ভর্তি করা যাবে না। এরপর তাদের পরামর্শে রিফাতকে সার্জিক্যাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও তাকে ভর্তি না নিয়ে ময়লাপোতা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারাও একইভাবে রোগীকে ভর্তি না নিয়ে ফেরত দেয়। এভাবে হাসপাতাল ঘুরতে ঘুরতে রিফাত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মারা যায়।

এ স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তারা হয়তো ক্ষমতা ও অর্থের কারণে এ দুনিয়ায় পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু তাদের সকলকে আল্লাহ্র কাছে থেকে শাস্তি ভোগ করতেই হবে।

সাংবাদিক, চিকিৎসক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা করোনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। চিকিৎসক, নার্স কাজ বন্ধ করার কারণ হিসেবে পিপিই না পাওয়াকে অজুহাত দেখিয়েছেন। খুলনাসহ কোনো কোনো জায়গায় আবার পিপিইর দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন। অথচ সাংবাদিক কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্যরা একটি মাস্ক নিয়ে কাজ করে চলছেন।

দেশের সব ক্রান্তিলগ্নে সর্বদা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অগ্রণী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বর্তমানে এরা করোনায় সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে মানুষকে রক্ষার কাজও করছে। অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করে দায়িত্ব পালন করছে। করোনা প্রতিরোধে জলকামান দিয়ে ব্লিচিং পাউডার (জীবাণুনাশক) মেশানো পানি ছিটানো, বিদেশফেরত লোকদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার জন্য উৎসাহ প্রদানসহ সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকতে আহবান করে যাচ্ছেন। সেরাবাহিনী, নৌবাহিনী অসহায় কর্মহীনদের মঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন। অনেক স্বেচ্ছাসেবকরা স্বপ্রণোদিত হয়ে এ কাজ করছেন।

সাংবাদিকেরা করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে চলছেন অবিরাম। সবাই যখন ছুটি কাটাচ্ছেন পরিবার নিয়ে। তখন সাংবাদিকরা অফিস করছেন। রাস্তা ঘাটে ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে চলছেন। গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। জাতির বিবেক হিসেবে সাংবাদিকেরা অপরিসীম দায়িত্ব পালন করছেন। তেমনি করোনা–পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা সর্বদা আপডেট তথ্য দিচ্ছেন। সাংবাদিকরা নানাভাবে জনসাধারণকে সচেতন করে যাচ্ছেন, যা করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে সাহায্য করছে। কিন্তু সর্বদা রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার তালিকায় এগিয়ে এই সাংবাদিকরা।

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার পক্ষ থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের জন্য ২৪০টি পিপিই দেয়া হয়েছে। মানবিক এ ধরণের উদাহরণ খুব কম সংসদ সদস্যই দেখিয়েছেন। অথচ সংসদের ৩০০ আসনের সব এমপিরা যদি এটা করতেন তাহলে ঝুঁকিতে থাকা এসব পেশার মানুষের কোন সমস্যাই হতো না।

সাংবাদিকরা একদম দুধে ধোয়া নন কিন্তু অধিকাংশ সাংবাদিক নুন্যতম হলেও নীতি-নৈতিকতা মেনে চলার চেষ্টা করেন। এই পেশাকে মমত্ত্ব দিয়ে ভালবেসে, শ্রদ্ধা করে হাজারও গ্রাজুয়েট নিবেদিতভাবে কাজ করে চলছেন। অনেক সময় সুবিধাবাদী-স্বার্থান্ধ রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, আমলার মিথ্যে মামলা আর নির্বিচার হামলার শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা। একজন প্রকৃত সাংবাদিক কখনো অসত্যের কাছে পরাজিত হন না। স্বৈরাচারের বন্দুকের নলের সামনে বসেই সাংবাদিক তুলে ধরেন সত্যকে। দেশ ও জাতির স্বার্থে একজন সাংবাদিক জেল খাটতে এমনকি নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। এমন নজির রয়েছে বিভাগীয় শহর খুলনাতেও।

সময় এসেছে সব ক্ষেত্রে অবহেলিত সাংবাদিকদের তাদের নিরাপত্তা ও প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার। এক্ষেত্রে সোচ্চার হতে হবে সাংবাদিক নেতাদের।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET