৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-




ডুমুরিয়ায় একজন সফল কৃষকের নাম  রফিকুল ইসলাম।

গাজী আব্দুল কুদ্দুস, বিশেষ করেসপন্ডেন্ট,খুলনা।

আপডেট টাইম : জুন ০৮ ২০২৬, ২৩:৩৯ | 617 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

সুস্বাদু ড্রাগন ফল চাষ করে বিপুল সাফল্য পাওয়া খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রাজাপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম এলাকাবাসীর কাছে ‘ড্রাগন রফিক’ নামেই সমাধিক পরিচিতি পেয়েছেন।
উপজেলার সাহস ইউনিয়নে রাজাপুর গ্রামের বৃত্তহীন কৃষক রফিকুল ইসলাম বিগত ১৪ বছর ধরে ড্রাগন-আপেল কুল-আঙ্গুর-সহ নানা জাতের ফল-ফসল-সবজি চাষ করে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
চাষি রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার ড্রাগন বাগানে বসে কথা বলে জানা গেছে, তিনি ২০১২ সালে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে বাড়ির আঙ্গিনায় ৪৯টি সিমেন্টের রেডিমেট খুঁটি পুতে প্রত্যেকটির পাশে ৩টি করে ড্রাগনের চারা লাগান। ৬ মাস পর ফল তুলে ডুমুরিয়া বাজার ও খুলনা শহরে বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকারও অধিক লাভ করেন। তার ২ বছর পরে মরুভূমির সুস্বাদু ফল পেপিনোমিলন চাষ করেও বেশ নাম করেন। সেখান থেকেই স্বপ্নের শুরু, তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর থেকে ড্রাগন-সহ বিভিন্ন প্রকার ফলের চাষ করে তিনি দিনে-দিনে লাভের মুখ দেখতে থাকেন।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে বাড়ি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে বছরে ৭৩ হাজার টাকা ভাড়া(হারি) দিয়ে ৪ বিঘা জমি ১০ বছর মেয়াদী লিজ নেন। সেখানে ৮০ শতাংশ জমিতে সাড়ে ৬ ফুল লম্বা সিমেন্টের ৩৭২ টি রেডিমেট পিলার পুতে মোটা তারের মাচা তৈরি করে লাইনে ১ ফুট দূরত্ব রেখে সাড়ে ৫ হাজার ড্রাগন চারা রোপন করেন। বাগান তৈরিতে সর্বমোট ৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা খরচ হয়। ৬ মাস পরিচর্যা শেষে ফল বিক্রি শুরু করে ৮৫ হাজার টাকা আয় করেন। আর ২০২৫ সালে সর্বমোট ৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। ২০২৪ সালেই ড্রাগন বাগানের পাশাপাশি দেড় বিঘা জমিতে সর্বমোট ৬৫ হাজার টাকা খরচ করে তিনি ৩৭৫টি আপেল কুলের চারা-গাছ লাগান।  প্রথম বছর ৩৬ হাজার টাকার কুল বিক্রি হলেও ২০২৫ সালে হয়েছে, ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। গত বছর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ফিলিপাইনের উন্নত জাতের ৩ ফাক(১০ ইঞ্চি) কালো আখ এনে ড্রাগন বাগানের পাশেই লাগান। সেখান থেকে ১৬ হাজার টাকা বিক্রি করেন। এ বছর তার বাগানে ৪’শ ঝাড় আখ আছে। প্রতি ঝাড়ে ১৫-২০ পিস করে আখ আছে। আর বিক্রি হবে অক্টোবর মাসে। এছাড়া ৭ মাস আগে দর্শনা থেকে বাই কুনুর জাতের আঙ্গুর চারা এনে রোপন করে ২টি গাছে এ পর্যন্ত সাড়ে ৩’শ টাকা কেজি দরে সাড়ে ১০ কেজি আঙ্গুর বিক্রি করেছেন। এবছর নিজেই আঙ্গুর গাছ থেকে চারা তৈরি করে নতুন করে ৩৬টি চারা রোপন করেছেন। এছাড়াও সৌদি খেজুরের চারা, চুঁই-ঝাল’র চারা তৈরি করেও বিক্রি করছেন।
সফল চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার সমগ্র বাগান নিজেই পরিচর্যা করি। প্রয়োজন হলে কিষাণ নেই। ডুমুরিয়া উপজেলার সাবেক কৃষি অফিসার মোসাদ্দেক হোসেন’র উৎসাহে বিভিন্ন ফলের বাগান করে আজ আমি ৩ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি করছি, বিলে জমি কিনেছি, ছেলেকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে দোকান করে দিয়েছি। আমার এই সবজি বাগান-সহ সবকিছু মিলে প্রায় কোটি টাকার সম্পদ হয়েছে।
উপজেলার সাহস ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা মাহবুবুর রহমান বলেন, চাষি রফিকুলকে সকলে ‘ড্রাগন রফিক’ বলেই চেনে। সে এলাকার কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহিত করে থাকে। সাফল্য দেখে আমি তার খামারে যাওয়ার রাস্তায় ইটের সলিং করে দিয়েছি।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ড্রাগন রফিক একজন প্রগতিশীল কৃষক। নিজে ইন্টারনেট সার্চ করে নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসে। তাকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দিলে এলাকার কৃষি আরও এগোবে।
Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET