গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কাশিয়াবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার রাতে উপচেপড়া হাজারও দর্শকের উপস্থিতিতে মঞ্চস্থ হলো গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার ‘কেচ্ছায় জাগে কাশিয়াবাড়ী’।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব জন্মশতবর্ষ সামনে রেখে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দেশের ৬৪টি জেলায় গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার মঞ্চায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় মঞ্চস্থ নাটকটি প্রধান অতিথি হিসেবে শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একডেমির সভাপতি মো. আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু বক্কর প্রধান, উপজেলা পবিষদ চেয়ারম্যান মো. মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান নয়ন, পৌর মেয়র মো. গোলাম সরোয়ার প্রধান বিপ্লব, উপজেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন, থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুদ রানা। এসময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট জেলা সভাপতি আলমগীর কবির বাদল, জেলা শিল্পকলা একাডেমির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক প্রমতোষ সাহা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কালচারাল অফিসার মো. আলমগীর কবীর। এরআগে অতিথিরা পশ্চিম রামচন্দ্রপুরে অবস্থিত বধ্যভূমি পরিদর্শন শেষে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও শ্রদ্ধার্ঘ অর্পন করেন।
মঞ্চস্থের আগে নাট্যকার ও নির্দেশক মোহাম্মদ আমিন গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার এবং নির্মিত নাটক নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন ‘নতুন আঙ্গিকে নির্মিত এই নাট্য উপস্থাপনা স্থানীয় নাট্যকর্মীদের যেমন নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম দিলো তেমনি নতুন প্রজন্মের মাঝে স্বাধীনতার বর্বর-নির্মম ইতিহাসকে উদ্ভাসিত করলো যেন অন্য এক চেতনায়।’
প্রসঙ্গত; ১৯৭১ সালের ১১ জুন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কাশিয়াবাড়িতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও চিহিৃত দোসর ঘোড়াঘাটের অবাঙ্গালীদের দ্বারা সংঘটিত নির্মম হত্যাকান্ডের পেক্ষাপট তুলে ধরতেই নাট্যকার ও নির্দেশক মোহাম্মদ আমিন নির্মাণ করেছেন ‘কেচ্ছায় জাগে কাশিয়াবাড়ি’। নাটকে নির্মম হত্যাকান্ডের পাশাপাশি উঠে এসেছে তৎসময়ের হিন্দু-মুসলিম ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধের এক উজ্জল দৃশ্যপট। নির্দেশক পরিবেশ থিয়েটারের আঙ্গিকে মুল ঘটনার সাথে সম্পর্কিত ১৫০ বাই ৫০ স্কয়ার ফিটের একটি মুক্ত স্থানকে হাজারও দর্শক-জনতার মাঝে চমৎকারভাবে পুনরুজ্জীবিত করে তোলেন। পিনপতন নিরবতার মধ্য দিয়ে দর্শক ও জনতা উপভোগ করেন ১ ঘন্টা ৬ মিনিটের স্মরণীয় নেই নাট্য মহাযজ্ঞ। গাইবান্ধার ইন্সটিটিউট অব কালচার এন্ড এডুকেশন-আইস্, পলাশবাড়ীর স্বাধীন পলাশ নাট্য সংস্থা, বেঙ্গুলিয়া সোনালী স্বপ্ন নাট্য সংস্থা, বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য সংস্থা গাইবান্ধা জেলা শাখা, গাইবান্ধা থিয়েটার, গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থা, বিবর্তন নাট্যচক্র (কঞ্চিপাড়া-ফুলছড়ি), অন্তরঙ্গ থিয়েটার গাইবান্ধা, পদক্ষেপ গাইবান্ধা ও বন্ধু পরিবার, কাশিয়াবাড়ীর প্রায় এক’শ জন নাট্যকর্মী অংশগ্রহণ করেন। মেজর আফজাল খানের চরিত্রে আলমগীর কবির বাদল অনবদ্য অভিনয় করে তার অভিনয় দক্ষতার পবিচয় দেন। এছাড়াও আমুর দাদার চরিত্রে ফারুক শিয়ার চিনু ও কথকের চরিত্রে শাহানাজ আমিন মুন্নী দর্শকের দৃষ্টি কাড়েন।
পুরো নাট্যদলের টিম ওয়ার্কে দর্শকরা মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। সহকারি নির্দেশক হিসেবে ছিলেন মাহমুদুল ইসলাম সাজু, নির্দেশকের সহযোগী হিসেবে মোকছুদ উল্ল্যা, পোষাক ডিজাইনার শাহানাজ আমিন মুন্নী, প্রপস্ ডিজাইনার ফিরোজ রতন, লাইট ডিজাইনার টিপু সুলতান এবং সেট ও মিউজিক ডিজাইনার ছিলেন মোহাম্মদ আমিন। মিউজিক কম্পোজার ও এডিটর ছিলেন আমিনুল হক আনজু, কোরিওগ্রাফার রবিউল ইসলাম স্বপন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন নাট্যকার শাহ আলম বাবলু।









