সৈয়দ মুন্তাছির রিমন:- মৌলভীবাজার জেলার কুলাইড়া উপজেলার মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে নানা নাটকের দৃর্শ্য দেখতে হয়ে অভিভাবক মহল। জানাযায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মরহুম মাওলানা আব্দুল মান্নান কে ১৯৯৫ সালে বরখাস্ত করার পর থেকে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে অধ্যক্ষ নিয়োগে নাটকীয়তা চলছিলো। অবশেষে সব কিছুর অবসান ঘটিয়ে সম্প্রতি শ্রীপুর জালালীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মাদ্রাসার শিক্ষা অধিদপ্তর। দীর্ঘ ২৩ বছর থেকে অবৈধ ক্ষমতার দাপক দেখিয়ে একটি মহলের ছত্রছায়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিল মাওলানা শামসুল হক। সকল মিথ্যাচারের পর শিক্ষা অধিদপ্তরের থেকে আসা অধ্যক্ষ নিয়োগের চিঠি মাদ্রাসায় এলে পরিচালনা কমিটি গত (১৯ এপ্রিল) বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে অধ্যক্ষ নিয়োগের সংবাদ প্রকাশ করেন। এ নিয়োগের সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, এলাকার সর্বস্থতরের সাধারণ মানুষ ও মাদ্রাসার সাবেক এবং বর্তমান ছাত্রদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রীপুর মাদরাসা। সাবেক প্রিন্সিপাল মরহুম মাওলানা আব্দুল মান্নান একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ গড়ার কারীগর এবং ন্যায়পরায়ন ব্যক্তি ছিলেন। উনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিজের সম্পদ মাদ্রাসাকে দান করে ১৯৭০ সালে শ্রীপুর জালালীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করেন। পর্যায় ক্রমে মাদ্রাসাটি দাখিল ১৯৭৪ সনে, আলিম ১৯৭৬ সনে, ফাজিল ১৯৭৮ সনে মঞ্জুর করা হয়। এমন কি কামিল (মাস্টার্স) ১৯৯২সনে পরীক্ষা দেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন ১৯৭৬ সনে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশাল এতিমখানা ও করেন। সেই সময় এতিমখানায় ৩৬০ জন এতিম ছিল। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে বতর্মানে ১৪ জন এতিম রয়েছে। সব চেয়ে বড় কথা কিছু আলামি নাম ধারী জালিম মুনাফিক মাদ্রাসা লুটকারী নিজ স্বার্থে পূজারীদের কারনে মাদ্রাসাটি এখন বেহাল অবস্থা। ২৩ বছর পর অধ্যক্ষ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে । এ বিষয়ে শ্রীপুর জালালীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন মুনিয়া বলেন, অধ্যক্ষ নিয়োগে অনেক তালবাহানা ও জটিলতার সৃষ্টি করা হয়েছিল। কেউ কেউ অধ্যক্ষ নিয়োগ যাতে আর কষনও না হয়, তার হীন চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তা এখন বন্ধ হলো। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক মমদুদ হোসেন বলেন, নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের আহবান জানিয়ে আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছি। উল্লেখ্য ম্রাদাসার নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ ও অফিসকক্ষে চুরি ঘটনা সাজিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের ওপর মিথ্যা মামলা এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ছাত্ররা গত বছরের (৩০ ডিসেম্বর) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে, যা তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছিল।









