কুড়িগ্রাম থেকে, রাশিদুল ইসলামঃ
কুড়িগ্রাম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে অত্র অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না তারা। শূধুমাত্র আয়ন-ব্যয়নের দায়িত্বে থাকলেও তার একের পর এক বদলী বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়ম দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্টরা। যুব ভবনের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে কেউ মুখ খুললেই তাকে বদলী জনিত রোষানলে পড়তে হয়। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কে দিন পার করছেন তার অধিনস্থ কমকর্তা-কর্মচারী।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩/০৭/২০১৭ইং তারিখ কুড়িগ্রাম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান বর্তমানে ডিপুটেশনে প্রধান কার্যালয়ের দাবি শাখায় অতিরিক্ত দায়িত্বে যোগদানের সুবাদে ও তার অনুপস্থিতিতে সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান উপ-পরিচালকের ন্যামপ্লেট অপসারণ করে তদস্থলে নিজেকে উপ-পরিচালকের আসনে আসীন করেছেন এবং নিজ নামীয় ন্যামপ্লেট স্থাপন করেছেন যা সম্পূর্ণ বেআইনি। শুধু তাই নয় দুর্নীতি পরায়ণ মোস্তাফিজুর রহমান উপ-পরিচালকের চেয়ারে বসার অনুমতি না পেলেও তিনি তা করে চলেছেন এবং সর্বত্র নিজেকে উপ-পরিচালকের পরিচয়ে জাহির করে থাকেন। তিনি অত্র অফিসের ৫ম তলার গেস্ট হাউস ব্যবহার, কর্মচারীদেরকে নামে-বেনামে আবাসিক ভবনে থাকতে দিয়ে জোরপূর্বক উৎকোচ গ্রহণ করে থাকেন। এছাড়াও ছাত্রী হোস্টেল অবৈধ ও বেআইনিভাবে কর্মচারীরেকে ভাড়া দিয়ে এর অর্থ পকেটেস্থ করে চলেছেন।
অভিযোগ সূত্রে আরো জানা জানায়, সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান পূর্বের কর্মস্থলে অনৈতিক কাজের অভিযোগে কুড়িগ্রামে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। তিনি কুড়িগ্রাম যোগদান করেই যুব ভবনের ৪র্থ তলার নকশা পরিবর্তন করে রুমের পার্টিশন ভেঙ্গে ফেলেন। যা প্রকৌশলীর অনুমতি ছাড়া এ কাজ সম্পাদন সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত এবং ওই সমস্ত ইট বিক্রি করে সরকারি অর্থ আত্মসাত করেছেন। শূধু তাই নয় দুর্নীতি পরায়ণ সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান অত্র অফিসের ২০/২৫টি কম্পিউটারসহ অন্যান্য আসবাবপত্র টেন্ডার না করে নিজের মনগড়াভাবে বিক্রি করে ৪/৫ লক্ষ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা না করে আত্মসাত করেছেন। তার হেয়ালিপনায় কুড়িগ্রাম যুব ভবনের সম্মুখে নিজস্ব রাস্তা দখল করেছে স্থানীয়রা। তার এহেন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে তার এ কাজে ইন্দন জুগিয়ে আসছেন জেলার ফুলবাড়ি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোস্তাফিজার বিন ইসলাম মিলন। অভিযুক্ত ফুলবাড়ি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিজ কর্মস্থলে সময় না দিয়ে সার্বক্ষণিভাবে জেলা অফিসে পড়ে থাকেন। ফুলবাড়ি উপজেলা যুব উন্নয়ন কমকর্তার এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে উলিপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে বর্তমানে কর্মরত অফিস সহায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ইতিপূর্বে তিনি মারধর করেন এবং লাঞ্ছিত করেন।
এমতাবস্থায় কুড়িগ্রাম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতি পরায়ণ সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ ব্যাপারে কথা হলে কুড়িগ্রাম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন-আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।









