জাহেদ হোসেন-
টেকনাফের সেন্টমার্টিনদ্বীপে ১টি মাছ ১০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সামুদ্রিক এ মাছটি মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ভোর রাতে আবদুল গণির জালে ধরা পড়ে। মাছটির ওজন ৩৫ কেজি। ২য় ব্যক্তি স্বল্প সময়ে হাত বদল করে মাছটি বিক্রি করে লাভ হয়েছে ২ লক্ষ টাকা। রাত সাড়ে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় মাছটির মুল্য গিয়ে ঠেকেছে ১৩ লাখে। মাছটি এক নজর দেখার জন্য দ্বীপে রীতিমত হুরুস্থল চলছে। তাছাড়া মাছটি দেখার জন্য কক্সবাজার থেকে সরকারী ও ব্যবসায়ী দুটি টিম স্পীডবোট রিজার্ভ করে সন্ধ্যায় দ্বীপে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ বলেন, ‘সেন্টমার্টিদ্বীপ পশ্চিমপাড়া ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত সুলতান আহমদের পুত্র আবদুল গণি প্রতিদিনের মতো দ্বীপের দক্ষিণে গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ১৩ নভেম্বর ভোর রাতে মাছটি জালে ধরা পড়ে। দুপুরের দিকে সেন্টমার্টিনদ্বীপে ফিরে মাছটি প্রথমে বিক্রি করেন ৮ লক্ষ টাকা দামে। মাছটি কেনেন একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওমর মিয়ার পুত্র ফজল করিম। তিনি মাছটি ৮ লক্ষ টাকায় কিনে টেকনাফের এক ব্যবসায়ীকে বিক্রি করেন ১০ লক্ষ টাকায়। স্বল্প সময়ে হাত বদল করে মাছটি বিক্রি করে ফজল করিমের লাভ হয়েছে ২ লক্ষ টাকা। সামুদ্রিক এ মাছটি লাল পোপা। স্থানীয়ভাবে জেলেরা বলেন সোনালী পোয়া। ৩৫ কেজি ওজনের মাছটি ধরা পড়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কক্সবাজারের এক ব্যবসায়ী ১৩ লক্ষ টাকায় কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্ত ৩য় ব্যক্তি টেকনাফের ব্যবসায়ী নাকি ১৫ লখের কমে দিচ্ছেননা’।
৩৫ কেজি ওজনের একটি মাছ এত বেশী দামে বেচা-কেনার কারণ জানতে চাইলে সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ বলেন, ‘আসলে মাছের দাম এত বেশী নয়। দামী হচ্ছে মাছের ফুসফুস। জেলেদের ভাষায় পদনা বা পেসসা। এক কেজির মুল্য কমপক্ষে ৯০ লক্ষ টাকা। মাছের এ পদনা বিদেশে রপ্তানী হয়। বিদেশে খুবই চাহিদা বড় মাছের ফুসফুসের। তা দিয়ে মেডিসিন, অপারেশনের সুতাসহ দুর্লভ চিকিৎসা সামগ্রী তৈরী হয়’।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মাছটি পোপা জাতের। সাধারনতঃ এত বড় পোপা বিরল। থাকে গভীর সাগরে। সচরাচর এ জাতের এত বড় মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়েনা। হয়ত ভাগ্যক্রমে ধরা পড়েছে।
Please follow and like us:









