, , ,

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • কাজীর গরু কিতাবে লেখা – গোয়ালে নেই”‘ সুনামগঞ্জের ভুয়া তথ্য দিয়ে বিদ্যালয় জাতীয়করণের অপচেষ্টা




কাজীর গরু কিতাবে লেখা – গোয়ালে নেই”‘ সুনামগঞ্জের ভুয়া তথ্য দিয়ে বিদ্যালয় জাতীয়করণের অপচেষ্টা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, নয়া আলো।

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ০৭ ২০২০, ১০:১৮ | 921 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

বিদ্যালয়ের নাম ফলকসহ চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন রয়েছে। রয়েছে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা। আছে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ। মৌলিক তথ্যসমূহ প্রদর্শিত আছে জনসম্মুখে। ওয়াশ ব্লক ব্যতিত রয়েছে টয়লেটের ব্যবস্থা। আছে খেলার মাঠ। চালু আছে স্কাউট ও গার্লস গাইডের কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের জন্য রয়েছে ৮টি চেয়ার, ৫টি টেবিল, ৩০টি বেঞ্চ, ৩টি চক বোর্ড, একটি আলমিরা। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামে আমানীপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেল বছরের বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারিতে (ই-তথ্য সংগ্রহ) এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি তথ্যই মিথ্যে। এমন মিথ্যে তথ্য উপস্থান করে কৌশলে বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

গত সোমবার দুুপুরে ওই গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুলেমান মিয়ার বাড়ির সামনে ওই বিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ভূমি খালি পড়ে আছে। সেখানে কোনো ভবনের অস্থিত্ব নেই। তবে সেখানে একটি উঁচু ভিটে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সেখানে এক সময় একটি টিনশ্যাড ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই ঘরটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এছাড়া শুমারিতে জাতীয়করণের জন্য যে সকল তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে তার সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই। তবে বিদ্যালয়ের সভাপতি দাবিদার নাছির উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে টিনের একটি ছোট ছাপড়া ঘরে দেখা যায়, নয়ন মনি নামের এক শিক্ষক তৃতীয় শ্রেণির (শিক্ষকের ভাষ্যমতে) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন। শিক্ষক নয়ন মনি জানান, তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠদান করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। কাগজেপত্রে ২০০১ থেকে মো. আব্দুল গণি প্রধান শিক্ষক ও ২০০৭ থেকে সালমা আক্তার, নয়ন মনি ও নাসিমা আক্তার সহকারী শিক্ষক হিসেবে এ বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। কিন্তু তারা কেউই বিদ্যালয়ে নিয়মিত নন।

আমানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল হেলিম বলেন, ‘আমানীপুর বিদ্যালয়ের কোনো ভবন নেই। অথচ পার্শ্ববর্তী নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল গণি নিজেকে প্রধান শিক্ষক দাবি করে ভুয়া তথ্যাদি উপস্থাপন করে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।’

ইন্টারনেটে বিদ্যালয়ের তথ্য আপলোড করতে গিয়ে ভুল হয়ে থাকতে পারে জানিয়ে মো. আবদুল গণি বলেন, ‘১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আমাদের বিদ্যালয়টির ইএমআইএস কোড আছে। বিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গায শ্রেণিকক্ষ ও উপকরণ ছিল কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ে তা নষ্ট হয়েছে। তাই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিনের বাড়িতে একটি ঘরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’

বিদ্যালয়ের সভাপতি দাবিদার নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের কোনো ভবন নেই। কে বা কারা এ তথ্য দিয়েছে তা জানিনা।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘তথ্য গোপন কর কেউ বিদ্যালয় জাতীয়করণের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET