ছাগলনাইয়ার আলোচিত মুন্না হত্যার ১৪ বছর আজ। ২০০৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী রাত পৌনে দশটার সময় কয়েকজন আততায়ীর গুলিতে মৃত্যু মুখে পতিত হয় মোর্শেদুল হাই মুন্না। সে পশ্চিম ছাগলনাইয়া গ্রামের মরহুম আবদুল হাই ও তাবেন্দা আক্তার’র ছেলে। ততকালীন ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী সহ সর্বস্তরের জনপ্রিয় ব্যক্তি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদুল হাই মুন্না ২০ ফেব্রুয়ারী রাতে কলেজ রোড়স্থ হাসান টিম্বার্স এন্ড ফার্ণিচার নামক দোকানে ছোট ভাইদের সাথে গল্পে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলো। পরের দিন একুশে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস তাই রাস্তাঘাটে লোকজনও ছিলো অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম। হঠাৎ ছাঁই রঙ্গের একটি প্রাইভেট কর এসে দাঁড়াল মুন্না বসে থাকা দোকানের সামনে। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই মুখোশ পড়া কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গাড়ী থেকে নেমেই মুন্নার বুকে ও পেটে এলোপাতারি গুলি চালায়। বুকে ও পেটে গুলি বিদ্ধ মুন্না ঘটনাস্থলেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। দ্রুত ছাগলনাইয়া সরকারী হাসপাতালে নিয়েগেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মুন্নার মৃত্যু সংবাদ মহুর্তেই দেশ বিদেশে প্রচার হয়ে যায়। তরুণ রাজনৈতিকবিদ মুন্না হত্যাকান্ডের খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছিলো সর্বস্তরের মানুষের মাঝে। পরের দিন একুশে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে ছাগলনাইয়াবাসী মুন্নার শোকেই কাতর ছিলো।মুন্না হত্যাকান্ডে জড়িত আসামিদের চিহ্নিত করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে ছাগলনাইয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলো মুন্নার স্ত্রী রাশেদা আক্তার রুমা (সাবেক ছাগলনাইয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান) মামলা নং-২০/২১-০২-২০০৬। পরে ফেনী জেলা দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা করা হয় ( দায়রা- ৬৫১০)। এতে চার্জসীর্ট ভুক্ত ১২ জন আসামীর নাম উল্লেখ রয়েছে। এ মামলার মোট সাক্ষী ৪৯ জন। এদের মধ্যে সরকারী কর্মকর্তাদের বয়ান আদালতে পেশ করা শেষ হলেও বাদি রাশেদা আক্তার রুমা জানান, মামলার তদন্তকারী পুশিল অফিসারদের বয়ান এখনো শেষ হয়নি। বাদি বলেন, সাক্ষীদের একেকজন দেশের একেক প্রান্তে কর্মরত থাকায় তাদের আদালতে উপস্থিত করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। কেউ কেউ অবসরে চলে গেছেন। সিআইডি কর্মকর্তা আবদুল হাই ও পরশ কারবারি মৃত্যুবরণ করেছেন। মামলার দীর্ঘ সূত্রতায় হতাশা গ্রস্থ হলেও বাদি রুমার বিশ্বাস দ্রুত স্বামী হত্যার সঠিক বিচার পাবেন তিনি। অন্যদিকে পুত্র হত্যার বিচার পাওয়ার আশা বুকে নিয়ে ২০১৫ সালে মুন্নার বাবা আবদুল হাই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। মা তাবেন্দ আক্তারের ধারণা ছেলে হত্যার মামলার রায় বাবা দেখেযেতে না পারলেও মৃত্যুর আগে মা সঠিক রায় দেখবেন। মুন্না হত্যাকান্ডের সময় তার একমাত্র কন্যা জারিন তাবাসসুম অরিন’র বয়স ছিলো মাত্র পাঁচ মাস। সেই ছোট্ট জেরিন আজ নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্রী। বাবাকে যারা হত্যা করেছে তাদের কেমন শাস্তি চাও? এমন প্রশ্ন শুনে জেরিনের চোখে জল টলমল করছিলো। কিছুই বলতে পারছিলোনা। তার অশ্রুসিক্ত নয়ন দেখেই অনুমান করতে হয়েছে বাবা কি এবং বাবার আদর স্নেহ ভালোবাসা কি তা সে বুঝেনা। মা রাশেদা আক্তার রুমাই জেরিন’র পৃথিবী। জারিন এক বাক্যেই বলল, বাবার আদর পাইনি যাদের কারনে তাদের কঠিন শাস্তি চাই।









