৪ঠা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

বগুড়ায় পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালান বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর !!

এম এ রাশেদ, বগুড়া জেলা করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ১৮ ২০২০, ২১:৪৯ | 694 বার পঠিত

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান প্রামানিক (৭৮) শেষ জীবনে এসে সংসারের চালাতে পত্রিকা বিক্রির (হকারি) পেশাকে আকড়ে ধরেছেন। সকাল হলেই পায়ে হেটে মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা। জীবনের শেষ সময়ে সম্পদশালী না, নিজেকে সরকারিভাবে স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখে যেতে চান লুৎফর রহমান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ গ্রহণ করেন উপজেলার তালোড়ার বালুকাপাড়ার মৃত রইচ উদ্দিনের ছেলে লুৎফর রহমান প্রামানিক। প্রথমে তিনি পশ্চিম দিনাজপুর ভারতের কুরমাইলে প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ ও অপারেশন ক্যাম্প কুরমাইন পশ্চিম দিনাজপুর ভারত থেকে হাবিলদার মেজর (অব.) আবু তাহের সরকার ও ক্যাম্প ইনচার্জ অধ্যাপক আবু সাঈদের যুক্তস্বাক্ষরে তাকে সনদপত্র প্রদান করা হয়। এরপর স্বাধীনতার পর ৪৯ বছর পার হলেও এই মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের নাম বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বইয়ে অন্তভুক্ত হয়নি। ফলে মুক্তিযুদ্ধের সকল সুবিধা থেকে তিনি বঞ্চিত রয়েছেন।
লুৎফর রহমান জানান, দেশ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালিন ব্যাণিজ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে সংগ্রাম করলেও জীবন যুদ্ধে আজ পরাজিত। সহায় সম্বলহীন লুৎফর রহমান মুক্তিযুদ্ধের গেজেটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোপ প্রকাশ করে বলেন, গেজেটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন সময়ে কথা বলেও ব্যর্থ হয়েছি। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সনদপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলেও স্থানীয়ভাবে তার নাম না পাঠানোর কারণে আজও আমার নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এক ছেলে ও সাত মেয়ের জনক লুৎফর গত দুবছর আগে হারিয়েছেন স্ত্রী জরিনা বিবিকে। মেয়েদের বিয়ে দিতে পারলেও ছেলে আব্দুল জলিলকে কোনো চাকরি বা ব্যবসায় যুক্ত করতে না পারায় সে কখনো ক্ষেত খামারে আবার কখনো অন্যের জমিতে কাজ করে সংসারের হাল ধরেছেন। তবে যখন কাজ থাকে না তখন সংকটে পরতে হয় তাকে। ফলে আর্থিক সংকটের কারণেই শেষ জীবনে এসে পত্রিকা বিক্রির মতো পেশাকে আকড়ে ধরে রেখেছেন লুৎফর রহমান। উপজেলা সদর, বাসস্টান্ডে যাত্রীবাহী বাসে ও বাজার এলাকায় দিনে পত্রিকা বিক্রি করে গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। দিনশেষে সে টাকা দিয়ে চাল, ডাল কিনে বাড়ি ফিরেন তিনি।
মুক্তিযদ্ধে অংশ নেওয়া লুৎফর রহমানের জীবনের শেষ ইচ্ছা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার এখন একমাত্র চাওয়া সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। এজন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করছেন।।
Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4399177আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 12এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET