দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ভূগর্ভে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া চীনা প্রকৌশলী মি. ওয়াং জিয়াং গো (৫৬) এর মরদেহ শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে। রোববার (১৩জুলাই) সকাল ১০টায় ছোট যমুনা নদীর ধারে ফুলবাড়ী কেন্দ্রীয় শ্মশানে তার মরদেহ দাহ করার মধ্যদিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে ওই চীনা প্রকৌশলীর সহকর্মিসহ খনির কর্মকর্তাগণ ও শ্রমিকরা একে একে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তার স্বরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। পরে তাদের ধর্মীয় আচার শেষে দাহ করার মধ্যদিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। গত মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় খনি ভূগর্ভের ১৩০৫ নম্বর ফেইজে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
চীনা নাগরীক মি. ওয়াং জিয়াং গো, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল) এর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়ামের চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে শিফট সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ভূগর্ভে উৎপাদন কার্যক্রম তদারকি করতেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি থেকে বড়পুকুরিয়া খনির ভূগর্ভস্থ ১৩০৫ নম্বর ফেইজ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়, যা জুন মাস পর্যন্ত চলে। এ সময়ের মধ্যে ওই ফেইজ থেকে কয়লা উত্তোলন হয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার টন। ভূগর্ভস্থ ১৩০৫ পুরোনো কোল ফেইজের (কয়লা উত্তোলন বা নির্গমন মুখ) মজুত শেষ হওয়ায় গত ২৩ জুন খনি থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। ১৪০৬ নতুন ফেইজে যন্ত্রপাতি স্থানান্তরের কাজ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় মিষ্টার ওয়াং জিয়াং গো ভূ-গর্ভের ১৩০৫ নম্বর ফেইসে ( কয়লা নির্গমন পথ) ট্রাক গেইট থেকে হাইড্রোলিক সাপোর্ট বাহির করার সময় অসাবধানতায় স্টিল রোপের সাথে আটকে যায়। তাৎক্ষণিক মিষ্টার ওয়াং জিয়ান গুয়োকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধা সাড়ে ৭টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার মৃত্যুতে খনিতে কর্মরত অন্যান্য শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ ও চীনা প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।









